তুর্কমেনিস্তানের আন্তর্জাতিক ফোরামে ৪০ মিনিট অপেক্ষার পরও রুশ প্রেসিডেন্টের দেখা পাননি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। পরে অনুমতি ছাড়াই পুতিন ও তুরস্কের প্রেসিডেন্টের বৈঠকে ঢুকে পড়েন তিনি।

শাহবাজ শরিফ
শেষ আপডেট: 12 December 2025 21:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মঞ্চে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হল। শুক্রবার তুর্কমেনিস্তানে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল ফোরাম ফর পিস অ্যান্ড ট্রাস্ট-এর সাইডলাইনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক ছিল তাঁর। কিন্তু সেই বৈঠকে সময়মতো হাজিরই হলেন না পুতিন। ফলে প্রায় ৪০ মিনিট অপেক্ষা করতে হল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে। ঘটনাটির ভিডিও সামনে আসতেই তুমুল নিন্দা শুরু হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
ভিডিওতে দেখা যায়, শাহবাজ শরিফ পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশাক দারের সঙ্গে আলাদা একটি ঘরে অপেক্ষা করছেন। সময় গড়ালেও পুতিন দেখা না দেওয়ায় শরিফ হঠাৎ সিদ্ধান্ত নেন পাশের বৈঠককক্ষে প্রবেশ করার, যেখানে তখন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin) এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিক্যাপ তাইয়াপ এর্ডোগান (Recep Tayyip Erdogan) ইউক্রেন যুদ্ধ-সহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলছিলেন।
শরিফকে আচমকা ঘরে ঢুকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় দুই রাষ্ট্রনেতার সামনে। তবে কয়েক মিনিট পরই তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে যান। পাকিস্তান সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই অনিচ্ছাকৃত প্রবেশে কোনও আলাপ-আলোচনাও হয়নি।
ঘটনাটি নিয়ে এক্স-এ সরব হয়েছেন নেটিজেনরা। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “পুতিন ডাস নট ওয়ান্ট হিস টাইম অন বেগার্স।” অন্য একজনের মন্তব্য, “ইভেন ট্রাম্প ডিড দ্য সেম উইথ বেগার্স।” যা স্পষ্ট করে দেয়, সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি কূটনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবেই দেখা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশগাবাতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক ফোরামে, যেখানে রাশিয়া, তুরস্ক ও পাকিস্তান-সহ একাধিক দেশের শীর্ষনেতারা উপস্থিত ছিলেন।
একই অনুষ্ঠানে রিক্যাপ তাইয়াপ এবং ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ (Ukraine War) ঘিরে দীর্ঘ বৈঠক করেন। ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, তুরস্ক ও রাশিয়ার সম্পর্ক স্থিতিশীল রয়েছে এবং কোনও বড় সমস্যা নেই। দুই পক্ষই দাবি করেন, বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতাই দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্ত করছে, এমনকি তৃতীয় পক্ষের চাপ মোকাবিলা করতেও সাহায্য করছে।
তবে শাহবাজ শরিফের এই অপেক্ষা ও পরবর্তী ‘গেটক্র্যাশিং’ কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে পাকিস্তানের মর্যাদা এবং তার আন্তর্জাতিক অবস্থান নিয়ে। এই মুহূর্তে পাকিস্তান অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক স্তরে তাদের অবস্থানও দুর্বল। ফলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এমন ঘটনার প্রভাব ভবিষ্যতের কূটনৈতিক চিত্রেও পড়তে পারে।
তুর্কমেনিস্তানের এই আন্তর্জাতিক ফোরাম শান্তি ও স্থিতিশীলতা মাথায় রেখে আয়োজিত হলেও ঘটনাটি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে, যা আপাতত সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম-সব জায়গাতেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।