শুভাংশু মহাকাশে থাকাকালীন ১৮ দিনে সবথেকে বড় ভরসা ছিল ফোনালাপ। কামনা বলেন, 'ডকিংয়ের ঠিক পরপরই ওর ফোন পেয়েছিলাম, ভাবতেই পারিনি এটাও সম্ভব হবে। ওর গলা শুনে মনে হয়েছিল সব ঠিক আছে- এটা ওর জন্য সেরা অনুভূতি।

ঘরে ফিরছেন শুভাংশু
শেষ আপডেট: 16 July 2025 22:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘদিন মহাকাশে কাটিয়ে পৃথিবীতে ফিরেছেন শুভাংশু শুক্লা (Shubhanshu Shukla)। পৃথিবীতে ফিরলেও এখনই ঘরে ফেরা হচ্ছে না তাঁর। আপাতত পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন তিনি। এই ঐতিহাসিক অভিযান শেষে শুভাংশুর (Shubhanshu Shukla) ঘরে ফেরা মানে শুধুই ‘উৎসব’ নয়, একান্ত আনন্দ, ভালবাসা, এবং নিঃশব্দে ভাগ করে নেওয়া মুহূর্তগুলোর পুনরাবিষ্কার, এমনটাই মনে করেন তাঁর স্ত্রী কামনা শুক্লা।
এই মুহূর্তে হিউস্টনের কোয়ারান্টাইনে রয়েছেন শুভাংশু। সঙ্গে রয়েছেন কামনা (Kamana Shukla) ও তাঁদের ছ’বছরের ছেলে কিয়াশ (Kiyash Shukla)। কামনার কথায়, 'এই অভিযান থেকে ওর নিরাপদে ফেরাটাই আমাদের কাছে একটা বড় উদযাপন। এখন আমাদের প্রথম লক্ষ্য হল ওর শরীর ও মানসিক পুনর্বাসন, যাতে সহজে পৃথিবীর পরিবেশে মানিয়ে নিতে পারে।'
এই মুহূর্তে হিউস্টনে শুভাংশুর প্রিয় খাবার রান্নার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত কামনা। 'জানি মহাকাশে ও খুব মিস করেছে ঘরের রান্না। তাই ওর প্রিয় খাবারগুলো বানাচ্ছি', বললেন তিনি। জুন মাসের ২৫ তারিখ যখন ফ্লোরিডা থেকে স্পেসএক্সের উৎক্ষেপণ শুরু হয়, তখন থেকেই আমেরিকায় রয়েছেন কামনা।
তাঁদের প্রেমের শুরু অনেক ছোটবেলায়। লখনউয়ে (Lucknow) সিটি মন্টেসরি স্কুলে তৃতীয় শ্রেণি থেকে একে অপরকে চিনতেন। বিয়ে হয় ২০০৯ সালে।
শুভাংশু মহাকাশে থাকাকালীন ১৮ দিনে সবথেকে বড় ভরসা ছিল ফোনালাপ। কামনা বলেন, 'ডকিংয়ের ঠিক পরপরই ওর ফোন পেয়েছিলাম, ভাবতেই পারিনি এটাও সম্ভব হবে। ওর গলা শুনে মনে হয়েছিল সব ঠিক আছে- এটা ওর জন্য সেরা অনুভূতি। ও কী করছে, কী পরীক্ষা চালাচ্ছে, কী অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হচ্ছে, এই সব নিয়েই আমাদের কথা হতো। এই ফোনগুলোই ছিল প্রতিদিনের সবচেয়ে আনন্দের সময়।'
আজ গোটা দেশ যখন গর্ব করছে শুভাংশুর কীর্তিতে, তখন লখনউয়ের ত্রিবেণী নগরের পৈতৃক বাড়িতে শুভেচ্ছার জোয়ার। রাস্তায় রাস্তায় পোস্টার, শুভাংশুর বাড়িতে আত্মীয়-স্বজনের জমায়েত, ভিড় জমিয়েছে সংবাদমাধ্যমগুলিও, চারদিকে এখন হইচই।
তবে কামনার কাছে আনন্দের সংজ্ঞাটা একটু আলাদা। 'আমরা চাই এই ফিরে আসার মুহূর্তটা নিজেদের মতো করে উদযাপন করতে। গল্প করে, হেসে, একসঙ্গে সময় কাটিয়ে। এই শান্ত সময়গুলোর মধ্যেই রয়েছে আমাদের সবচেয়ে বড় আনন্দ।'
মহাকাশ অভিযানের কারণে দীর্ঘদিন স্বামীর থেকে আলাদা থাকার যন্ত্রণা ভোগ করেছেন কামনা, তবে সঙ্গে এটাও বলেছেন, 'বায়ুসেনায় থাকাকালীন আমাদের এইরকম দীর্ঘ দূরত্ব সহ্য করতে শিখিয়েছে। ধৈর্য, বোঝাপড়া, আর একে অপরের স্বপ্নের প্রতি নিঃশর্ত সমর্থন— এগুলোই আমাদের সম্পর্ককে মজবুত করেছে।' তাঁর মতে, 'যে কোনও বড় কিছুর জন্যই অনেক ত্যাগ দরকার হয়। আর আমাদের এই যাত্রা সবসময় সেই বৃহত্তর লক্ষ্যকে সামনে রেখেই হয়েছে।'
এক সময়ের লাজুক ছেলেটাই আজ মহাকাশচারী হয়ে পড়ুয়াদের সঙ্গে হাসিমুখে মহাকাশের গল্প করছে— এই রূপান্তর কামনার চোখে অসামান্য। 'ও যখন মহাকাশ থেকে ছাত্রদের সঙ্গে এত আনন্দ নিয়ে কথা বলছিল, আমার চোখে জল এসে গিয়েছিল। যে শুভাংশুকে আমি চিনতাম, ও এখন কতটা আত্মবিশ্বাসী, প্রেরণাদায়ী মানুষ হয়ে উঠেছে— এটা দেখে খুবই ভাল লাগছে।'