কেবল সৌদি আরবই নয়, একই পথে হেঁটেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (United Arab Emirates), কুয়েত (Kuwait) এবং ইরাকও (Iraq)।

তেলের উৎপাদন কমাচ্ছে সৌদি আরব
শেষ আপডেট: 9 March 2026 18:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের (Middle East War) দ্বিতীয় সপ্তাহে বিশ্ব অর্থনীতিতে অশনি সংকেত। পারস্য উপসাগরের প্রবেশপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ (Hormuz Strait) দিয়ে তেলের ট্যাঙ্কার চলাচল কার্যত স্তব্ধ হয়ে যাওয়ায় অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন কমানোর (Reducing Oil Production) পথে হাঁটল বিশ্বের বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব (Saudi Arabia)। মজুত তেলের ভাণ্ডার বা স্টোরেজ ট্যাঙ্কগুলি দ্রুত পূর্ণ হয়ে আসাতেই রিয়াধ এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে বলে খবর। কেবল সৌদি আরবই নয়, একই পথে হেঁটেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (United Arab Emirates), কুয়েত (Kuwait) এবং ইরাকও (Iraq)।

কেন এই সিদ্ধান্ত?
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বর্তমানে কেবল ইরানের (Iran) তেলের ট্যাঙ্কারই যাতায়াত করছে। বাকি দেশগুলির সরবরাহ আটকে যাওয়ায় তেলের ভাণ্ডার উপচে পড়ার উপক্রম হয়েছে। সম্পূর্ণ উৎপাদন বন্ধের ঝুঁকি এড়াতে আগেভাগেই তেলের কল ঘোরাতে শুরু করেছে আরব দেশগুলি। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ‘সৌদি আরামকো’ এই বিষয়ে সরকারিভাবে মুখ না খুললেও, লোহিত সাগরের ‘ইয়ানবু’ বন্দরের মাধ্যমে বিকল্প পথে তেল পাঠানোর চেষ্টা চালাচ্ছে তারা। তবে পাইপলাইনের সীমাবদ্ধতার কারণে স্বাভাবিক রপ্তানির ঘাটতি মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।
১০০ ডলার ছাড়াল তেলের দাম
রপ্তানি থমকে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ইতিমধ্যেই ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। জেপি মর্গান চেজ-এর মতে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার দুই মাসের মধ্যেই সৌদির তেলের ভাণ্ডার পুরোপুরি ভরে যেতে পারে। বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলির হাতে মাত্র ১০ কোটি ব্যারেল তেলের জায়গা ফাঁকা আছে, যা মোট ক্ষমতার এক-তৃতীয়াংশ মাত্র। এর ফলে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি বা জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সংকটে বিশ্ব অর্থনীতি
সৌদি আরব প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ব্যারেল তেল উৎপাদন করে, যার মধ্যে ৭০ লক্ষ ব্যারেল রপ্তানি করা হয়। বিকল্প পথে সামান্য কিছু সরবরাহ বজায় রাখা গেলেও হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ থাকা মানেই বিশ্বের জ্বালানি মানচিত্রে বড়সড় বিপর্যয়। ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে কেবল আরব দুনিয়া নয়, ভারত-সহ সারা বিশ্বের সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়বে।