২০১০ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি আনাতোলিয়েভিচ মেদভেদেভ এই চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন।

ভ্লাদিমির পুতিন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 22 September 2025 20:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (USA) সম্মত হলে 'নিউ স্টার্ট' (New Start) চুক্তির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়াতে রাজি মস্কো (Moscow)। সোমবার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির (Vladimir Putin) পুতিন এমনটাই বলেছেন। তাঁর কথায়, এ পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী স্বার্থ রক্ষা করবে এবং ভবিষ্যতের জন্য নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনার পথ খুলে দেবে।
২০১০ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি আনাতোলিয়েভিচ মেদভেদেভ এই চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন। এই 'নিউ স্টার্ট' চুক্তি (New Start Deal) দুই দেশের মধ্যে শেষ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি। এটি প্রতিটি দেশকে সর্বাধিক ১ হাজার ৫৫০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং ৭০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমারু বিমান মোতায়েনের সীমা বেঁধে দেয়। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি।
চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি প্রসঙ্গে পুতিন বলেন, ‘‘রাশিয়া প্রস্তুত ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারির পর আরও এক বছর এই সীমা মেনে চলতে। এরপর পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আমরা এই স্বেচ্ছাসিদ্ধ বিধিনিষেধ বজায় রাখব কি না। তবে যুক্তরাষ্ট্র একইভাবে আচরণ করলে তবেই এ উদ্যোগ কার্যকর হবে।’’
ইউক্রেন যুদ্ধ বড় অন্তরায়
চুক্তিতে অন-সাইট পরিদর্শনের বিধান থাকলেও ২০২০ সালের পর থেকে আর তা হয়নি। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুতিন মার্কিন পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার স্থগিত করে দেন। তবে রাশিয়া জানায়, চুক্তি পুরোপুরি ত্যাগ করছে না, অস্ত্রভাণ্ডারের সীমা মেনে চলবে। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধ এবং দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে চুক্তি নবীকরণ নিয়ে আলোচনার কোনও অগ্রগতি হয়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) নতুন একটি অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যাতে চিনকেও অন্তর্ভুক্ত করার কথা ভাবা হচ্ছে। তবে আনুষ্ঠানিক আলোচনা এখনও শুরু হয়নি।
এই চুক্তির বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ কারণ ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়ার ওপর ক্ষিপ্ত আমেরিকা। ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে একাধিকবার দাবি করেছিলেন তিনি এই যুদ্ধ থামাবেন। দুই পক্ষের সঙ্গে অনেকবার বৈঠকও করেন। কিন্তু লাভের লাভ কিছুই হয়নি। উল্টে রাশিয়াকে নিশানা করে ভারতের ওপর দ্বিগুণ শুল্ক চাপিয়েছেন তিনি। যুক্তি, ভারত রাশিয়ান তেল কিনে পরোক্ষে ইউক্রেন যুদ্ধে সাহায্য করছে।
এই বিষয়টি নিয়ে রাশিয়া ভারতের পাশে দাঁড়িয়ে আমেরিকাকে নিশানা করতে ছাড়েনি। কিন্তু পরমাণু চুক্তি নিয়ে কিছুটা হলেও নরম হচ্ছে ক্রেমলিন।