৩১ বছরের কনজারভেটিভ কর্মী, পডকাস্ট ও রেডিও হোস্ট চার্লি কার্ক ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) ঘনিষ্ঠ সহযোগী।

চার্লি কার্ক
শেষ আপডেট: 11 September 2025 21:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার তরুণ রিপাবলিকান মুখ চার্লি কার্কের (Charlie Kirk Death) হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বোল্ট-অ্যাকশন রাইফেল (Rifle) উদ্ধার করল এফবিআই (FBI)। তবে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যাওয়া হামলাকারী এখনও অধরা। তদন্তকারীদের দাবি, সন্দেহভাজন ব্যক্তি বয়সে কলেজপড়ুয়া এবং সহজেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মিশে গিয়েছিল।
৩১ বছরের কনজারভেটিভ কর্মী, পডকাস্ট ও রেডিও হোস্ট চার্লি কার্ক ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) ঘনিষ্ঠ সহযোগী। উটাহ ভ্যালি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় তিন হাজার দর্শকের সামনে বক্তৃতা চলাকালীন স্নাইপারের গুলিতে তিনি খুন হন। ঘটনাটিকে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বলে মন্তব্য করেছেন উটাহর গভর্নর স্পেন্সার কক্স।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আততায়ী পাশের একটি ছাদে উঠে গুলি চালায়। হামলার পরপরই সে কাছের একটি পাড়ায় মিশে যায়। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া পায়ের ছাপ ও অন্যান্য প্রমাণ খতিয়ে দেখছে এফবিআই।
হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা কার্ককে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর ডেমোক্র্যাট-রিপাবলিকান নির্বিশেষে রাজনৈতিক হিংসার তীব্র নিন্দা হয়েছে। বিদেশি সরকারগুলিও সমালোচনায় সামিল হয়েছে।
ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “চার্লি অসাধারণ মানুষ ছিলেন। ঈশ্বর তাঁর আত্মাকে শান্তি দিন। আমেরিকার তরুণদের হৃদয়কে তিনিই সবচেয়ে ভালভাবে বুঝতেন।”
গভর্নর কক্স বলেন, “আমাদের সংবিধানের মূলে রয়েছে মত প্রকাশের স্বাধীনতা। চিন্তাধারার কারণে যদি কারও জীবন কেড়ে নেওয়া হয়, তবে সেই ভিত্তি বিপন্ন হয়।”
অন্যদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ৯/১১ স্মরণ অনুষ্ঠানের সফর বাতিল করে উটাহ যাচ্ছেন কার্কের পরিবারের পাশে থাকার জন্য। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “আমাদের সরকারের বহু সাফল্যের নেপথ্যে চার্লির সংগঠনের ক্ষমতাই প্রধান ভূমিকা নিয়েছে।”
কিশোর বয়স থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন কার্ক। ছাত্র সংগঠন ‘টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ’র সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হিসেবে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে রিপাবলিকান সমর্থন জাগাতে বড় ভূমিকা নেন তিনি। ট্রাম্প প্রশাসনের বহু গুরুত্বপূর্ণ পদে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা পরে জায়গা করে নেন।
নিহত কির্ককে ‘মহান দেশপ্রেমিক’ বলে সম্বোধন করে ট্রাম্প বলেন, “তিনি (কির্ক) আমেরিকাকে খুব ভালবাসতেন। তিনি স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং আমেরিকার সাধারণ মানুষের জন্য লড়াই করে গিয়েছেন। এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের জন্য আমি শোকস্তব্ধ এবং ক্ষুব্ধ।”
এই হত্যাকাণ্ডের জন্য আমেরিকার কট্টর বামপন্থীদেরও নিশানা করেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথায়, “বছরের পর বছর ধরে উগ্র বামপন্থীরা চার্লির মতো দুর্দান্ত আমেরিকানদের নাৎসি এবং বিশ্বের সবচেয়ে নিকৃষ্ট হত্যাকারী এবং অপরাধীদের সঙ্গে তুলনা করে আসছে। আজ আমরা দেশে যে সন্ত্রাস দেখছি, এই ধরনের বক্তব্যই তার জন্য সরাসরি দায়ী। এগুলি এখনই বন্ধ হওয়া উচিত।”