মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় খামেনেইর মৃত্যুর পর জামকরান মসজিদে লাল পতাকা উত্তোলন।
.jpeg.webp)
ছবি: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 1 March 2026 21:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর মৃত্যুর (Ayatollah Khamenei death) পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। শনিবার তেহরানে খামেনেইর বাসভবন লক্ষ্য করে চালানো সেই হামলায় তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ইরানি সংবাদমাধ্যম। এরপরই শোক ও ক্ষোভের আবহে ইরানের পবিত্র কোম শহরের জামকরন মসজিদের গম্বুজে ওড়ানো হয়েছে ‘প্রতিশোধের লাল পতাকা’। ইরানি সংস্কৃতিতে এই লাল নিশান চরম প্রতিশোধ ও ন্যায়বিচারের প্রতীক।

খামেনেইর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে বিশ্বজুড়ে। একদিকে তেহরানের রাস্তায় যখন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যাচ্ছে, অন্যদিকে ইসরায়েলের রাজপথে শোনা গেছে উল্লাসধ্বনি। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (IDF) মতে, খামেনেই ছিলেন ইসরায়েল ধ্বংসের মূল কারিগর এবং মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ‘ইরানি অক্টোপাস’-এর মস্তিষ্ক।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে একে ইরানি জনগণের জন্য ‘দেশ ফিরে পাওয়ার সেরা সুযোগ’ বলে অভিহিত করেছেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বর্তমান শাসনব্যবস্থা উপড়ে ফেলে নিজেদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে।

সর্বোচ্চ নেতার শূন্যস্থান পূরণে আপাতত একটি তিন সদস্যের ‘অস্থায়ী নেতৃত্ব কাউন্সিল’ গঠন করেছে ইরান। যতক্ষণ না নতুন কোনও সুপ্রিম লিডার নির্বাচন করা হচ্ছে, ততক্ষণ এই কাউন্সিলই দেশ পরিচালনা করবে।
কাউন্সিলের সদস্যরা হলেন: বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেন মহসেনি এহজেই এবং নবনিযুক্ত ৬৬ বছর বয়সী ধর্মীয় নেতা আলিরেজা আরাফি।
আরাফি গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন প্রভাবশালী সদস্য এবং বর্তমানে এই অন্তর্বর্তীকালীন বডির জুরিস্ট মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
খামেনেইর মৃত্যুর পর ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ ও শোক পালন শুরু হয়েছে। তেহরানের আকাশে যখন শোকের ছায়া, তখন আন্তর্জাতিক মহল আশঙ্কা করছে যে এই ‘লাল পতাকা’ উত্তোলনের পর ইরান যে কোনও সময় বড় ধরনের সামরিক পাল্টা আঘাত হানতে পারে।