গাজা শান্তিচুক্তি ঘোষণার সেই ঐতিহাসিক সভায় এক বামপন্থী (Leftist) ইজরায়েলি সাংসদ হঠাৎই নিজের আসন থেকে ‘প্যালেস্তাইনকে স্বীকৃতি দাও’ (Recognise Palestine) লেখা ব্যানার দেখাতে শুরু করেন।
.jpeg.webp)
ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 13 October 2025 18:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইজরায়েলের পার্লামেন্টে (Israel) সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) ভাষণ চলাকালীন হইচই পড়ে গেল। গাজা শান্তিচুক্তি (Gaza truce speech) ঘোষণার সেই ঐতিহাসিক সভায় এক বামপন্থী (Leftist) ইজরায়েলি সাংসদ হঠাৎই নিজের আসন থেকে ‘প্যালেস্তাইনকে স্বীকৃতি দাও’ (Recognise Palestine) লেখা ব্যানার দেখাতে শুরু করেন। সঙ্গে সঙ্গেই নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে এবং আরেক সদস্যকে চেম্বার থেকে বের করে দেন।
ঘটনাটি ঘটে ঠিক তখনই, যখন ট্রাম্প তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে ধন্যবাদ জানাচ্ছিলেন। যিনি গাজা যুদ্ধের ইতি টানার চুক্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
কেনেসেটের স্পিকার আমির ওহানা পরে ট্রাম্পের কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেন, “স্যার, এর জন্য দুঃখিত।” উত্তরে ট্রাম্প হেসে বলেন, “খুব দ্রুত কাজ করলেন আপনারা!” এর পরই সংসদ সদস্যদের মধ্যে হাসির রোল ওঠে।
ইজরায়েলে পৌঁছে ট্রাম্প ভাষণে বলেন, “নেতানিয়াহু দারুণ কাজ করেছেন। গাজার অস্ত্রবিরতির মাধ্যমে আরব দুনিয়ার নতুন এক যুগের সূচনা হয়েছে।” তিনি বলেন, “শেষ ২০ জন ইজরায়েলি বন্দি এখন মুক্ত। বলতে ভাল লাগছে, ওরা ফিরে এসেছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই মুহূর্তটাকে স্মরণ করবে, যখন সব কিছু বদলাতে শুরু করেছিল।”
নেতানিয়াহুকে ‘সহজ মানুষ নন, কিন্তু সেই কারণেই তিনি অসাধারণ নেতা’ বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তাঁর কথায়, “ইজরায়েল শক্তিশালী হয়েছে, আর সেই শক্তিই এনেছে শান্তি।”
ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় এই চুক্তিতে হামাস শেষ বন্দিদের মুক্তি দেয় এবং ইজরায়েলও একাধিক প্যালেস্তাইন বন্দিকে ছেড়ে দেয়। রেড ক্রসের তত্ত্বাবধানে বন্দি বিনিময় শেষে তেল আভিভ ‘হস্টেজ স্কোয়ারে’ চোখে পড়ে আবেগঘন দৃশ্য।
গাজা থেকে মুক্ত বন্দিরা ফিরে আসার পর ট্রাম্প ঘোষণা করেন, “দীর্ঘ এবং বেদনাদায়ক দুঃস্বপ্নের অবসান হয়েছে।” এর পরেই তিনি রওনা হন মিশরের শার্ম এল-শেখে, যেখানে বিশ্বের ২০টিরও বেশি দেশের নেতা তাঁর ‘২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা’ নিয়ে বৈঠক করবেন।
দু'বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে গাজা প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ১,২০০ জন নিহত হন এবং ২৫১ জন বন্দি হন। পাল্টা ইজরায়েলি হামলায় গাজার স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, প্রাণ হারিয়েছেন ৬৭ হাজারেরও বেশি প্যালেস্তাইনের নাগরিক। প্রায় ২২ লক্ষ মানুষ গৃহহীন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই বছরের যুদ্ধ কেবল গাজাকেই নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার মুখে দাঁড় করিয়েছে — যেখানে ইরান, হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গে ইসরায়েলের দ্বন্দ্ব আরও গভীর হয়েছে।