২৪ বছর বয়সেই থেমে গেল জীবন। বিরল ফ্রন্টোটেম্পোরাল ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তাঁর মস্তিষ্ক কাজ করছিল ৭০ বছরের বৃদ্ধের মতো।

আন্দ্রে ইয়ারহ্যাম
শেষ আপডেট: 8 January 2026 11:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র ২৪ বছর বয়সে থেমে গেল জীবন। ব্রিটেনের (Britain) সবচেয়ে কম বয়সি ডিমেনশিয়া (Dementia) রোগী আন্দ্রে ইয়ারহ্যাম (Andre Yarham)-এর মৃত্যুতে নড়েচড়ে বসেছে চিকিৎসা মহল থেকে সাধারণ মানুষ। বিরল এক ডিমেনশিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ লড়াইয়ের শেষে ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর নরফোকের (Norfolk) ডেরেহ্যামে (Dereham) এক হসপিসে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আন্দ্রে। গবেষণার স্বার্থে তাঁর মস্তিষ্ক দান করল পরিবার।
আন্দ্রের মা সামান্থা ফেয়ারবার্ন (Samantha Fairbairn) জানান, ছেলের বয়স তখন মাত্র ২২। আচরণে ও স্মৃতিতে অস্বাভাবিক বদল নজরে আসে তাঁর। ভুলে যাওয়া, অপ্রাসঙ্গিক ব্যবহার—যা একেবারেই আন্দ্রের স্বভাবসিদ্ধ ছিল না। চিকিৎসকের কাছে গেলে পরীক্ষায় ধরা পড়ে মস্তিষ্কের অস্বাভাবিক সংকোচন। এরপর কেমব্রিজের (Cambridge) অ্যাডেনব্রুকস হাসপাতালে (Addenbrooke’s Hospital) পাঠানো হয় তাঁকে। সেখানেই ধরা পড়ে বিরল রোগ 'ফ্রন্টোটেম্পোরাল ডিমেনশিয়া' (Frontotemporal Dementia বা FTD)।
চিকিৎসকদের মতে, এফটিডি সাধারণত ৪৫ থেকে ৬৫ বছর বয়সিদের মধ্যে দেখা যায়। কিন্তু খুব কম ক্ষেত্রে কম বয়সিদেরও গ্রাস করে এই রোগ। অ্যালজাইমার্সের (Alzheimer’s) মতো স্মৃতিভ্রংশ দিয়ে নয়, এফটিডি শুরু হয় ব্যক্তিত্ব ও আচরণগত পরিবর্তন দিয়ে। আন্দ্রের স্ক্যানে দেখা গিয়েছিল, তাঁর মস্তিষ্ক কার্যত ৭০ বছরের একজন মানুষের মতো কাজ করছে।
মৃত্যুর ঠিক এক মাস আগে কথা বলার ক্ষমতাও হারিয়েছিলেন যুবক। শব্দ নয়, শুধু অস্পষ্ট আওয়াজে মনের ভাব প্রকাশ করতেন। তবু শেষ দিন পর্যন্ত তাঁর হাসি, রসবোধ, ব্যক্তিত্ব—সবটাই অটুট ছিল বলে জানিয়েছেন তাঁর মা। সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত জীবনযুদ্ধে হার মানেনি।
আন্দ্রের মৃত্যুর পর তাঁর মস্তিষ্ক গবেষণার জন্য দান করা হয়েছে অ্যাডেনব্রুকস হাসপাতালের বিজ্ঞানীদের হাতে। সামান্থার কথায়, “ভবিষ্যতে যদি আমার ছেলের এই দান অন্তত একটা পরিবারকে তাঁদের প্রিয়জনের সঙ্গে আরও কিছুটা সময় কাটাতে সাহায্য করে, তাতেই সার্থকতা।”
ডিমেনশিয়াকে ‘নির্মম’ বলেই ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। ক্যানসারের সঙ্গে তুলনা টেনে বলেন, 'চিকিৎসায় সেখানে অন্তত আশার আলো থাকে। কিন্তু ডিমেনশিয়ায় কার্যত কিছুই করার থাকে না।'
চিকিৎসকদের মতে, এফটিডি-র উপসর্গের মধ্যে রয়েছে অনিয়ন্ত্রিত আচরণ, আত্মকেন্দ্রিকতা, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতায় অবহেলা, অতিরিক্ত খাওয়া, কথা বলতে অসুবিধা, শব্দের ভুল ব্যবহার। শেষ পর্যায়ে দেখা দিতে পারে পেশির দুর্বলতা, চলাফেরায় সমস্যা ও গিলতে কষ্ট।
২৪ বছরের জীবনে আন্দ্রে ইয়ারহ্যাম শুধু এক রোগীর নাম নয়—ডিমেনশিয়া গবেষণার ইতিহাসে এক নীরব প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে রইলেন।