গত কয়েক বছর ধরে ট্রাম্প বারবার দাবি করে এসেছেন, তাঁর শাসনকালে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত কখনওই এতদূর গড়াত না। এবার সেই দাবিকে সরাসরি সমর্থন করলেন পুতিন।
.jpeg.webp)
ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 16 August 2025 07:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আলাস্কার ঐতিহাসিক বৈঠকের পর (Alaska Summit) যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে (Donald Trump) পাশে বসিয়ে বড় দাবি করলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন (Putin)। স্পষ্ট জানালেন— ২০২২ সালে যদি ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে থাকতেন, তা হলে ইউক্রেন যুদ্ধের জন্মই হত না (Ukraine War)।
গত কয়েক বছর ধরে ট্রাম্প বারবার দাবি করে এসেছেন, তাঁর শাসনকালে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত কখনওই এতদূর গড়াত না। এবার সেই দাবিকে সরাসরি সমর্থন করলেন পুতিন।
প্রেস কনফারেন্সে তিনি বলেন, “২০২২-এ বাইডেন প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের শেষ কথোপকথনের সময় আমি সরাসরি সতর্ক করেছিলাম— পরিস্থিতিকে এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া উচিত নয়, যেখানে সামরিক সংঘাত অনিবার্য হয়ে দাঁড়াবে। আমি তখনই বলেছিলাম, এটা একটা ভয়ানক ভুল।”
ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত সমঝোতার প্রসঙ্গ টেনে পুতিন আরও যোগ করেন, “ট্রাম্প এবং আমি একেবারেই ব্যবসায়িক ও বিশ্বাসযোগ্য সম্পর্ক গড়ে তুলতে পেরেছিলাম। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই পথেই এগোতে পারলে ইউক্রেনের সংঘাতের অবসান ঘটানো সম্ভব। যত দ্রুত সম্ভব সেটা হওয়া দরকার।”
ট্রাম্পের কূটনৈতিক নীতির প্রশংসা করে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, অতীতে দুই দেশের সম্পর্ক যতই জটিল হয়ে থাকুক, এখন সেটাকে নতুনভাবে সাজানো জরুরি। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে দ্বিতীয় দফা বৈঠক মস্কোয় করার সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর আশা, ইউক্রেন এবং ইউরোপের রাজধানীগুলি এই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত না করে গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গিতে এগোবে।
প্রেস কনফারেন্সে ট্রাম্পও ইঙ্গিত দিয়েছেন দ্বিতীয় বৈঠকের। তিনি বলেন, “আমি দেখতে পাচ্ছি, সেটা সম্ভব হতে পারে।” পাশাপাশি নিজের ভাষণে ট্রাম্প জানান, “আমাদের বৈঠকে অনেক ক্ষেত্রেই আমরা অগ্রগতি করেছি। কয়েকটি বিষয়ে এখনও মতবিরোধ থাকলেও সংখ্যায় সেগুলি খুবই কম।”
যদিও যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে কোনও নির্দিষ্ট রূপরেখা বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসেনি, তবে দুই শীর্ষনেতার বক্তব্যে ভবিষ্যতের কূটনৈতিক সমঝোতার এক নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিলেছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।