শনিবার রাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়া ৩৬৭টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এই হামলায় রাজধানী কিয়েভ-সহ একাধিক শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 26 May 2025 08:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইউক্রেনে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় এয়ারস্ট্রাইকের ঘটনার পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার নিউ জার্সির মোরিস্টাউন বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, 'পুতিন যদি পুরো ইউক্রেন দখল করতে চান, তাহলে তা হবে রাশিয়ার পতনের সূচনা।' একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, পুতিনের মধ্যে এক অস্বাভাবিক পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে তিনি যেভাবে ‘মানুষ হত্যা করছেন,’তা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
শনিবার রাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়া ৩৬৭টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এই হামলায় রাজধানী কিয়েভ-সহ একাধিক শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, তারা ২৬৬টি ড্রোন ও ৪৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করলেও বেশ কয়েকটি ইউক্রেনের মাটিতে পড়েছে। এই হামলায় মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ১২ জনের। আহত একাধিক।
এই ঘটনার পর থেকেই কার্যত ফুঁসছেন ট্রাম্প। ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বলেন, 'আমি পুতিনকে বহু বছর ধরে চিনি, ওঁর সঙ্গে বরাবরই সম্পর্ক ভাল। কিন্তু হঠাৎ করে শহরের পর শহরে রকেট মারছেন, মানুষ হত্যা করছেন। আমি জানি না ওঁর কী হয়েছে, তবে এটা আমার একেবারেই পছন্দ হচ্ছে না। কথাবার্তা চলার মাঝে, কিয়েভ ও অন্যান্য শহরে রকেট ছুঁড়লেন। এমন আচরণ যুক্তিসংগত নয়।'
ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ পুরো বিষয়টি লেখেন। সেখানেই জানান, তাঁর সঙ্গে পুতিনের সম্পর্ক ও রাশিয়া প্রধানের বর্তমান অবস্থার কথা। উল্লেখ করেন 'পুতিন পাগল হয়ে গেছেন।'
রাশিয়ার লাগাতার হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের, বিশেষ করে আমেরিকার প্রতিক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, 'বিশ্ব ছুটিতে গেলেও যুদ্ধ থেমে নেই। আমেরিকার নীরবতা এবং অন্য দেশগুলোর নিষ্ক্রিয়তা পুতিনকে আরও সাহস জোগাচ্ছে।' জেলেনস্কির কথায়, 'যতক্ষণ পর্যন্ত রাশিয়ার ওপর সুনির্দিষ্ট ও কঠোর চাপ না আসে, ততক্ষণ এই ধ্বংসলীলা চলতে থাকবে।'
উল্লেখযোগ্যভাবে, ট্রাম্প সম্প্রতি যুদ্ধবিরতির উদ্দেশে পুতিনের সঙ্গে দু'ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ফোনে কথা বলেন। জেলেনস্কির সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ হয়েছে। মনে করা হচ্ছিল, পরিস্থিতি ঠিক হচ্ছে। কিন্তু পুতিন তুরস্কে নির্ধারিত একটি শান্তি সম্মেলনে অনুপস্থিত থাকায় সব আশা ধুয়ে মুছে যায়। আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ বলছে, রাশিয়া এখনও যুদ্ধ বন্ধের কোনও আগ্রহ দেখায়নি বরং আক্রমণের মাত্রা আরও বাড়িয়েছে।