আজারবাইজানের বিমান দুর্ঘটনার দায় স্বীকার করলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রই বিমানটি নামিয়েছিল। মৃত্যু হয়েছিল ৩৮ জনের।

পুতিন
শেষ আপডেট: 9 October 2025 18:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক বছর আগে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার দায় অবশেষে স্বীকার করলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বৃহস্পতিবার তিনি জানান, রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে ছোঁড়া গুলিতেই আজারবাইজানের যাত্রীবাহী বিমানটি ভেঙে পড়ে। ওই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ৩৮ জন।
তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবেতে প্রাক্তন সোভিয়েত দেশের সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের সঙ্গে সাক্ষাতে এই মন্তব্য করেন পুতিন।
গত বছর ২৫ ডিসেম্বর আজারবাইজান এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী বিমান বাকু থেকে রওনা দিয়েছিল রুশ প্রজাতন্ত্র চেচনিয়ার রাজধানী গ্রোজনির উদ্দেশে। কিন্তু মাঝ আকাশেই সেটি রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে বিমানটি পশ্চিম কাজাখস্তানে জরুরি অবতরণের চেষ্টা করে, কিন্তু তাতেও ব্যর্থ হয়। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৬৭ জন যাত্রীর মধ্যে ৩৮ জন, বেঁচে যান ২৯ জন।
দুর্ঘটনার কিছুদিন পর পুতিন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভকে ফোন করে ঘটনাটিকে 'দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা' বলে আখ্যা দেন এবং দুঃখপ্রকাশ করেন। তবে সে সময় তিনি দায় স্বীকার করেননি। রাশিয়ার কোনও সূত্র মারফতও কোনও কিছু জানা যায়নি।
রুশ প্রতিরক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রোজনি বিমানবন্দরের কাছে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা ঠেকাতে বিমানবিধ্বংসী ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। সেই সময়ই আজারবাইজানের ওই যাত্রীবাহী বিমানটি একাধিকবার অবতরণের চেষ্টা করে। তবে তারা কোথাও এটা বলেনি যে, ওই বিমানে আগুন লেগেছিল ক্ষেপণাস্ত্র থেকে।
আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ জানিয়েছিলেন, বিমানটির গায়ে প্রচুর ছিদ্র পাওয়া গিয়েছে এবং যাত্রীরা মাঝ আকাশেই 'বহিরাগত কিছুর আঘাত' জখম হন। যদিও সেসময় তিনিও রাশিয়ার নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি।
এবার পুতিনের মুখেই যখন দায় স্বীকারের কথা শোনা গেল, তখন অনেকের মতে, এটি রাশিয়া, আজারবাইজান সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়।