একদিকে সুদূর পশ্চিম প্রান্তে বালুচ স্বাধীনতাকামীদের নিরন্তর বিদ্রোহ, অন্যদিকে গত কয়েকদিন ধরে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মানুষ প্রতিবাদে সরব হয়েছেন সরকারের বিরুদ্ধে।

পাক অধিকৃত কাশ্মীরের প্রতিবাদের আগুন এবার ছড়াল দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও।
শেষ আপডেট: 3 October 2025 14:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের গৃহযুদ্ধের মুখে পাকিস্তান। কেবলমাত্র ভারত-বিরোধী চক্রান্ত কষতে ব্যস্ত পাক প্রশাসনের নজরই নেই নিজের দেশের দিকে। একদিকে সুদূর পশ্চিম প্রান্তে বালুচ স্বাধীনতাকামীদের নিরন্তর বিদ্রোহ, অন্যদিকে গত কয়েকদিন ধরে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মানুষ প্রতিবাদে সরব হয়েছেন সরকারের বিরুদ্ধে। এই জাঁতাকলে পড়ে নির্বিচারে ডাইনি হত্যার মতো মানুষ মেরে চলেছে পাক বাহিনী। তবে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের প্রতিবাদের আগুন এবার ছড়াল দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও। করাচিতে কয়েকশো প্রতিবাদী রাস্তায় নেমেছেন। অন্যদিকে, আন্দোলন দমন করতে পুলিশ ইসলামাবাদের জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢুকে তছনছ চালিয়েছে। সেখানে আইনজীবীরা শান্তিপূর্ণভাবে সাংবাদিক সম্মেলন করছিলেন। অভিযোগ, সাংবাদিকদেরও রেয়াত করা হয়নি। তাঁদেরও ব্যাপক মারধর, লাঠিপেটা করা হয়।
৩৮ বছরের মধ্যে এই প্রথম এত বড় আন্দোলন শুরু হয়েছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে। যে আন্দোলন স্তব্ধ করতে পুলিশ-সেনার গুলিতে এ পর্যন্ত অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তারই প্রতিবাদে প্রেস ক্লাবে একটি সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানেও পুলিশ ঢুকে নির্বিচারে ভাঙচুর ও মারধর চালায়। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির নেতা শওকত নওয়াজ মিরের অভিযোগ, পাক সরকার এবং তার সেনাবাহিনী স্থানীয়দের কণ্ঠরোধ করছে। এই সরকার ডায়ন (ডাইনি)। ডাইনির মতো শিকারে বেরিয়েছে আর নিজেরই দেশের মানুষের রক্ত খাচ্ছে।
জম্মু-কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির সঙ্গে যুক্ত আইনজীবীরা পাক অধিকৃত কাশ্মীরের আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। তাঁরাই প্রেস ক্লাবের বাইরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছিলেন। বৃহস্পতিবার সেখানেই পুলিশ এসে তাঁদের তাড়া করে। তাঁরা আতঙ্কে ক্লাবের ভিতরে ঢুকে পড়লে পুলিশ সেখানেও তাঁদের ছাড়েনি। ক্লাবের ভিতরেই লাঠিচার্জ শুরু করে। তাতে বাদ পড়েননি উপস্থিত সাংবাদিকরাও। ক্লাবের জিনিসপত্র নির্বিচারে ভাঙচুর করে পুলিশ।