পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ (Khawaja Asif)। পাকিস্তানি পার্লামেন্টে (National Assembly) বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশের সর্ববৃহৎ প্রদেশ বালুচিস্তানের বিশাল ভৌগোলিক আয়তনের কারণে বাহিনীর পক্ষে সর্বত্র নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ।
শেষ আপডেট: 4 February 2026 12:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বালুচিস্তানে (Balochistan) চলতি হিংসা ও বিদ্রোহ দমনে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী (Pakistani Security Forces) কার্যত “প্রতিবন্ধী”। স্বীকার করে নিলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ (Khawaja Asif)। পাকিস্তানি পার্লামেন্টে (National Assembly) বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশের সর্ববৃহৎ প্রদেশ বালুচিস্তানের বিশাল ভৌগোলিক আয়তনের কারণে বাহিনীর পক্ষে সর্বত্র নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
আসিফের এই করুণ, অসহায় ও আত্মসমর্পণ ধাঁচের মন্তব্যের কারণ, বালুচ বিদ্রোহীরা (Baloch Rebels) প্রদেশজুড়ে একযোগে হামলা চালিয়ে অন্তত ৮০ জন নিরাপত্তা কর্মীকে হত্যা এবং ৩০টির বেশি সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করেছে। পাকিস্তানি প্রশাসনের দাবি, পাল্টা অভিযানে (Counter-terror Operations) অন্তত ১৭৭ জন বিদ্রোহী নিহত হয়েছে।
পার্লামেন্টে আসিফ বলেন, “বালুচিস্তান এলাকা পাকিস্তানের মোট ভৌগোলিক এলাকার ৪০ শতাংশের বেশি। একটি ঘনবসতিপূর্ণ শহরের তুলনায় এমন বিশাল অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করা অনেক কঠিন। বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন করেও এত বড় এলাকা পাহারা দেওয়া কাঠামোগত দিক থেকে প্রায় অসম্ভব।” তাঁর দাবি, বাহিনী সক্রিয় থাকলেও বিশাল এলাকা টহল দিতে গিয়ে তারা কার্যত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।
সরকারি হিসেবে, সাম্প্রতিক হিংসায় অন্তত ৩৩ জন সাধারণ নাগরিক এবং ১৭ জন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন। একইসঙ্গে স্বাধীনতাকামী বালুচ লিবারেশন আর্মির (BLA) সঙ্গে কোনও আলোচনা (Talks) করা হবে না বলেও স্পষ্ট করে দেন আসিফ। তাঁর ভাষায়, “যারা নারী-শিশু হত্যা করে, তাদের সঙ্গে কোনও সমঝোতার প্রশ্নই ওঠে না।” পাক প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর অভিযোগ, বালুচিস্তানে অপরাধী চক্র ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলির মধ্যে একটি ‘আঁতাঁত’ (Nexus) তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, তেল পাচার (Oil Smuggling) থেকে একসময় দিনে প্রায় ৪ বিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি আয় করত এই চক্রগুলি, যারা BLA-র ব্যানারে কাজ করছে।
ইরান ও আফগানিস্তানের সীমান্তঘেঁষা বালুচিস্তানে কয়েক দশক ধরে স্বাধীনতা আন্দোলন (Separatist Movement) চলছে। বালুচিস্তানের মানুষ পাকিস্তানের অধীনে থাকতে নারাজ। তারা পৃথক রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে। ইসলামাবাদ তাই তাদের বিচ্ছিন্নতাবাদী বলে দাগিয়ে দিয়েছে। কালাত (Kalat) রাজ্য পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকেই ১৯৪৮, ১৯৫৮-৫৯, ১৯৬২-৬৩, ১৯৭৩-৭৭ এবং ২০০০-এর দশক থেকে নতুন করে বিদ্রোহ শুরু হয়।
খনিজ সম্পদ (Mineral Resources), প্রাকৃতিক গ্যাস, তামা, সোনা এবং গ্বদর (Gwadar) বন্দর থাকা সত্ত্বেও বালুচিস্তান পাকিস্তানের সবচেয়ে দরিদ্র প্রদেশ। পরিকাঠামো, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের অভাব দীর্ঘদিনের। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলি বিশেষভাবে চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (CPEC) ঘিরে প্রকল্প ও চিনা কাঠামোর উপর হামলা চালিয়ে আসছে।
তবে আসিফ এই ‘বঞ্চনার’ (Deprivation) তত্ত্ব মানতে নারাজ। তাঁর দাবি, বালুচিস্তানে উন্নয়ন হয়েছে এবং অন্য কোনও প্রদেশে এত বিমানবন্দর নেই। যেগুলি এখনও চালু নয়, সেগুলিকেও আমরা সচল করছি, বলেন তিনি। সব মিলিয়ে, বালুচিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি শুধু সামরিক চ্যালেঞ্জই নয়, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও উন্নয়ন নীতিরও বড় পরীক্ষা হয়ে উঠছে।