সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) পাক নেটপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif) ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে (Asim Munir) নিয়ে চলছে নানান রঙ্গ-বিদ্রূপ। কেউ কেউ বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) নাকি মুনিরকে “অবৈধ নাগরের” মতো ব্যবহার করেছেন। কাজ শেষ, পিরিত শেষ।

এই চুক্তিকে কেন্দ্র করেই পাকিস্তানে শুরু হয় তুলনা— ভারত কীভাবে কোনও “তোষামোদ” (Appeasement) ছাড়াই ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছল, আর পাকিস্তান থেকে গেল ১৯ শতাংশ শুল্কের বোঝা নিয়ে।
শেষ আপডেট: 4 February 2026 11:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত-আমেরিকা (India-US) নতুন বাণিজ্য চুক্তি (Trade Deal) ঘোষণার পর পাকিস্তানে (Pakistan) শুরু হয়েছে প্রবল কটাক্ষ। সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) পাক নেটপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif) ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে (Asim Munir) নিয়ে চলছে নানান রঙ্গ-বিদ্রূপ। কেউ কেউ বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) নাকি মুনিরকে “অবৈধ নাগরের” মতো ব্যবহার করেছেন। কাজ শেষ, পিরিত শেষ।
গত সোমবার ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) ফোনালাপের পর ঘোষণা হয়, ভারতীয় পণ্যের উপর আমেরিকার পারস্পরিক শুল্ক (Reciprocal Tariffs) কমে হবে ১৮ শতাংশ। এই চুক্তিকে কেন্দ্র করেই পাকিস্তানে শুরু হয় তুলনা— ভারত কীভাবে কোনও “তোষামোদ” (Appeasement) ছাড়াই ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছল, আর পাকিস্তান থেকে গেল ১৯ শতাংশ শুল্কের বোঝা নিয়ে।
এক্স (X)-এ উমর আলি নামে এক পাক ব্যবহারকারী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি (AI-generated) একটি ছবিতে কাঁদতে থাকা আসিম মুনিরের হাতে “খনিজের বাক্স” (Minerals Box) দেখিয়ে লিখেছেন, ট্রাম্প মুনিরের সঙ্গে সেই অবৈধ প্রেমিকার মতো ব্যবহার করেছেন। আর তারপর যখন সম্পর্কের পরিণতির দিকে এগনোর চেষ্টা হয়েছে, তখন সেই মহিলা যেমন বলে দেয়, আমার সবকিছু আমার পরিবার। বাড়ির লোক যা বলবে, আমি তাই করব। তুমি আমাকে পারলে ভুলে যেও। আমার শরীর স্বামীর জন্য থাকবে ঠিকই, আমার সমস্ত অন্তর তোমাতে সমর্পিত। পোস্টটি বাজারে পড়তেই দ্রুত ভাইরাল (Viral) হয়ে যায়।
এর আগে ট্রাম্প নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে ‘ইন্ডিয়া টুডে’ (India Today) পত্রিকার জানুয়ারি সংখ্যার কভার শেয়ার করেন, যেখানে তিনি ও মোদী একসঙ্গে। সঙ্গে দেন ইন্ডিয়া গেটের (India Gate) ছবিও। পাক নেটিজেনদের দাবি, এই প্রতীকী বার্তাই দেখিয়ে দিল কার দিকে ওয়াশিংটনের ঝোঁক।
ব্যঙ্গ-অ্যাকাউন্ট জংজু জার্নেল (Jungjoo Gernail)— যা নিজেকে মুনিরের প্যারোডি (Parody) বলে পরিচয় দেয়, লিখেছে, “শেষ ছয় মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU), ব্রিটেন (UK), ওমান (Oman) ও নিউজিল্যান্ডের (New Zealand) সঙ্গে ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) করেছে। আর এখন ট্রাম্পের শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়েছে। কাউকে ‘নোবেল প্রাইজ’ (Nobel Prize) দেওয়ার জন্য মনোনয়ন না দিয়েই।
সবচেয়ে বেশি সমালোচনা এসেছে ইমরান খানের (Imran Khan) সমর্থকদের দিক থেকে। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (PTI) ঘনিষ্ঠ জুবের আহমেদ খান (Zubair Ahmed Khan) লেখেন, এই তথাকথিত সরকারের ট্রাম্পকে তোষামোদের ফল কী? পাকিস্তানে ১৯ শতাংশ শুল্ক, ভারতে ১৮ শতাংশ। দুর্দান্ত পররাষ্ট্রনীতি! প্রাক্তন পিটিআই মন্ত্রী হাম্মাদ আজহার (Hammad Azhar) বলেন, আধুনিক কূটনীতি (Foreign Policy) ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা ছবি তোলার খেলায় সীমাবদ্ধ নয়। আসল বিষয় অর্থনৈতিক শক্তি (Economic Strength), বাজারে প্রবেশাধিকার (Market Access) আর শুল্ক কৌশল। ভারতের সাম্প্রতিক চুক্তিগুলোই তার প্রমাণ, লেখেন তিনি। সব মিলিয়ে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি শুধু অর্থনৈতিক সমঝোতাই নয়, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও (Domestic Politics) নতুন করে উসকে দিল নেতৃত্বের বিশ্বাসযোগ্যতা (Credibility) নিয়ে বিতর্ক।