শুল্ক কমানোর ফলে ভারতীয় উৎপাদনকারী সংস্থাগুলি, বিশেষ করে ফার্মা, ম্যানুফ্যাকচারিং, রিনিউয়েবল এনার্জি (নবায়নযোগ্য শক্তি বা যা পুনরায় ব্যবহার করা যায়) এবং আইটি সেক্টর, বড় উপকার পাবে।

শেষ আপডেট: 4 February 2026 07:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বহু প্রতীক্ষার পর অবশেষে চূড়ান্ত হয়েছে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি (India US trade deal)। সোমবার গভীর রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) ঘোষণার ঠিক পরই মার্কিন সফরে গেলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (India’s Foreign Minister US Tour)। মঙ্গলবার সেখানে পৌঁছেই তিনি ওয়াশিংটন ডিসিতে একের পর এক বৈঠক করেন মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, পারমাণবিক সহযোগিতা এবং প্রযুক্তিখাতে সম্পর্ক আরও মজবুত করতে বিদেশমন্ত্রীর এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে দু’পক্ষই।
ট্রাম্প-মোদী ফোনালাপের পর নতুন গতি
সোমবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (India PM Narendra Modi) সঙ্গে ফোনে কথা বলার পরই ঘোষণা করেন নতুন বাণিজ্য চুক্তির কথা। সেই ঘোষণায় ভারতীয় পণ্যের ওপর আমেরিকার চাপানো শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছেও সঙ্গে সঙ্গে। ফলে ভারতীয় রফতানিকারীদের বড় সুবিধা হতে পারে।
ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের সঙ্গে বৈঠক
জয়শঙ্কর (S Jaishankar) তাঁর সফরে প্রথম বৈঠক করেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের সঙ্গে। কর্মকর্তাদের মতে, দুই দেশের নতুন বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর করার দিকেই মূল আলোচনা হয়েছে। ট্রেজারি দফতরের সঙ্গে এই বৈঠককে অত্যন্ত জরুরি ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এর মাধ্যমেই বাণিজ্য সুবিধা, বাজার খোলা এবং নীতিগত সমন্বয় এগোবে।
বৈঠকের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় জয়শঙ্কর লেখেন, দু’দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক (strategic partnership India US) এগোনোর বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
মার্কিন সেক্রেটারি অব স্টেট মার্কো রুবিয়োর সঙ্গে আলোচনা
দিনের দ্বিতীয় বৈঠক হয় মার্কিন সেক্রেটারি অব স্টেট মার্কো রুবিয়োর সঙ্গে। দুই দেশের বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা (India US defence talks), নিউক্লিয়ার শক্তি, প্রযুক্তি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, আঞ্চলিক পরিস্থিতি- সব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
রুবিয়ো জানান, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ নিয়ে সহযোগিতার বিষয়টি এই বৈঠকের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল। তিনি ভারত-মার্কিন নতুন বাণিজ্য চুক্তিকে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য বড় পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন।
গুরুত্বপূর্ণ খনিজ: মার্কিন উদ্যোগ
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানায়, বুধবার ওয়াশিংটনে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হচ্ছে 'ক্রিটিক্যাল মিনারেলস মিনিস্টিরিয়াল'। ৫০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত থাকবেন। লক্ষ্য- যে গুরুত্বপূর্ণ খনিজগুলো দিয়ে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, প্রযুক্তিপণ্য, ব্যাটারি, ক্লিন এনার্জি তৈরি হয়, সেগুলোর সরবরাহ যাতে নিরাপদ থাকে এবং এক দেশে নির্ভরতা কমানো যায়।
ভারতের জন্য কী সুবিধা?
শুল্ক কমানোর ফলে ভারতীয় উৎপাদনকারী সংস্থাগুলি, বিশেষ করে ফার্মা, ম্যানুফ্যাকচারিং, রিনিউয়েবল এনার্জি (নবায়নযোগ্য শক্তি বা যা পুনরায় ব্যবহার করা যায়) এবং আইটি সেক্টর, বড় উপকার পাবে। জয়শঙ্কর বলেন, এই চুক্তি দেশে কর্মসংস্থান ও শিল্পের উন্নতিতে সাহায্য করবে এবং 'মেক ইন ইন্ডিয়া' প্রকল্পকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।
সব মিলিয়ে, জয়শঙ্করের এই সফর ভারত-মার্কিন সম্পর্ককে আরও গভীর করার পথে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।