আজ, জুম্মাবারে পাকিস্তানে কট্টরপন্থী ইসলামি সংগঠন তেহরিক-ই-লব্বাইক পাকিস্তানের (TLP) ঘোষিত ‘লব্বাইক ইয়া আকসা মিলিয়ন মিছিলের’ ডাকে ঠকঠক করে কাঁপছে শাহবাজ শরিফ সরকার।

লাহোরে দলের সদর দফতর থেকে টিএলপি প্রধান সাদ হুসেন রিজভিকে গ্রেফতারের চেষ্টার পরেই হিংসা ছড়িয়ে পড়ে।
শেষ আপডেট: 10 October 2025 10:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ, জুম্মাবারে পাকিস্তানে কট্টরপন্থী ইসলামি সংগঠন তেহরিক-ই-লব্বাইক পাকিস্তানের (TLP) ঘোষিত ‘লব্বাইক ইয়া আকসা মিলিয়ন মিছিলের’ ডাকে ঠকঠক করে কাঁপছে শাহবাজ শরিফ সরকার। রাজধানী শহর ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে মোবাইল-ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শহরে ঢোকা-বেরনোর সমস্ত পথে বসেছে সশস্ত্র প্রহরা। প্রসঙ্গত, ইজরায়েল-বিরোধী ও প্যালেস্তাইনে নিরীহদের উপর বোমা-গোলাবর্ষণের প্রতিবাদ জানাবে টিএলপি। গতকাল বৃহস্পতিবারেও লাহোরে টিএলপি এবং পুলিশের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে এই একই ইস্যুতে। তাতে বহু মানুষ জখম হয়েছেন।
লাহোরে দলের সদর দফতর থেকে টিএলপি প্রধান সাদ হুসেন রিজভিকে গ্রেফতারের চেষ্টার পরেই হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় সারারাত ধরে সংঘর্ষ চলতে থাকে। বড় রাস্তাগুলিতে প্রশাসন ব্যারিকেড ও কন্টেনার বসিয়ে অবরোধ করে দেয়। লাহোরে এখনও পরিস্থিতি উত্তপ্ত রয়েছে। পাক আধা সেনা নামানো হয়েছে সেখানে।
পাক পাঞ্জাব প্রাদেশিক সরকার ১০ দিনের কার্ফু জারি করেছে এই ঘটনার পর। ধর্মীয় প্রার্থনা, বিয়ে, শেষকৃত্য, সরকারি ও আদালতের কাজ চলবে। তবে রাস্তায় অস্ত্র নিয়ে বেরনো কিংবা লাউডস্পিকার বাজানো যাবে না বলে পাঞ্জাব সরকার ঘোষণা করেছে। তেমনই আগাম আঁচ করে রাওয়ালপিন্ডিতে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। ইসলামাবাদের রেড জোনকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলেছে সরকার।
এদিন ইসলামাবাদের মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ দেখানোর ডাক দিয়েছে টিএলপি। সেখানে ইজরায়েল বিরোধী জনসভা করা হবে। টিএলপি-র তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গাজার মুসলিম ভাইয়ের উপর নির্বিচারে অত্যাচার চালাচ্ছে ইহুদি শাসকরা। আর তাদের সমর্থকরাও এই কাজে সমর্থন জুগিয়ে চলেছে। দলের প্রধানকে গ্রেফতার করতে না পারলেও ডেপুটি প্রধানকে গ্রেফতার করে পাকিস্তান সরকারও নিরীহ মুসলমানদের উপর অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। প্যালেস্তাইনের প্রতি সহানুভূতি দেখানোটা পাকিস্তানে অপরাধ বলে গণ্য হচ্ছে। জোর করে সত্যকে চাপা দিয়ে রাখা যাবে না। শোষণ করলে তার পতন অনিবার্য। অত্যাচার বন্ধ না করলে সরকারকে প্রতিফল ভোগ করতেই হবে।