গত ১০ মে, ভারত একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সেখানকার একটি কমপ্লেক্সের ভেতরে থাকা দুটি বিশেষ ধরনের ট্রাক ধ্বংস করে। এই ট্রাকগুলি সম্ভবত ড্রোন পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হত।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 4 September 2025 14:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলার ঘটনার (Pahalgam Attack) পর পাকিস্তান (Pakistan) এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের (PoK) ৯টি জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করেছিল ভারতীয় সেনা (Indian Army)। সেই 'অপারেশন সিঁদুর' (OP Sindoor) অভিযান সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত একাধিক তথ্য সামনে এসেছে। তবে উল্টো দিকে এও জানা গেছে, পাকিস্তানও গুঁড়িয়ে যাওয়া ঘাঁটিগুলি পুনরায় মেরামত করতে শুরু করেছে। হালে একাধিক উপগ্রহ চিত্রে সেই বিষয়টি ধরা পড়েছিল। এখন আবার পড়ল।
নতুন উপগ্রহ চিত্র (Satellite Image) থেকে জানা গেছে, এই বছরের মে মাসে ভারতের হামলার পর পাকিস্তানের নুর খান বিমানঘাঁটিতে পুনর্গঠনের কাজ পুরোদমে চলছে। ইসলামাবাদ থেকে ২৫ কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে অবস্থিত নুর খান একটি কৌশলগত বিমানঘাঁটি, যেখানে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম রাখা আছে।
গত ১০ মে, ভারত একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সেখানকার একটি কমপ্লেক্সের ভেতরে থাকা দুটি বিশেষ ধরনের ট্রাক ধ্বংস করে। এই ট্রাকগুলি সম্ভবত ড্রোন পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হত। ভারত যদিও হামলার জন্য ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপারে কোনও নিশ্চিত তথ্য জানায়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে, এই হামলায় ব্রাহ্মস (BrahMos) অথবা স্ক্যালপ (SCALP) অথবা উভয় ক্ষেপণাস্ত্রই ব্যবহার করা হয়েছে।
সিঁদুর অভিযানের সময় ব্রাহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র ভারতীয় বিমানবাহিনীর সু-৩০ (Su-30) যুদ্ধবিমান থেকে এবং স্ক্যালপ ক্ষেপণাস্ত্র রাফাল (Rafale) থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল।
সম্প্রতি প্রকাশিত ছবিগুলি থেকে দেখা যায়, হামলার আগে ওই কমপ্লেক্সটিতে দু’টি ট্রাক্টর-ট্রেলার ট্রাক ছিল। ১০ মে, ২০২৫ সালের একটি ছবিতে দেখা যায়, হামলায় উভয় ট্রাকই ধ্বংস হয়ে গেছে এবং পাশের বিল্ডিংগুলিতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
১৭ মে-র মধ্যে জায়গাটি পরিষ্কার করে ফেলা হয়। আর ৩ সেপ্টেম্বরের একটি ছবিতে দেখা যায়, সেখানে নতুন করে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে এবং নতুন দেয়াল তৈরি হচ্ছে। ভূ-গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞ ডেমিয়েন সাইমন বলেন, “সাম্প্রতিক উপগ্রহ চিত্র থেকে বোঝা যাচ্ছে, পাকিস্তান ভারতের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত নুর খান বিমানঘাঁটির লক্ষ্যবস্তু পুনর্গঠন করা শুরু করেছে। এই অভিযানে বিশেষ সামরিক যানবাহনগুলিকে লক্ষ্য করা হয়েছিল, যা ধ্বংস হয় এবং পাশের বাড়িগুলিরও ক্ষতি হয়। এর পর, আশেপাশে থাকা বাড়িগুলিকেও ভেঙে ফেলা হয়, কারণ সম্ভবত সেগুলোর ভেতরের ব্যবস্থা, তারের সংযোগ অথবা কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।”

আইএএফ-এর নুর খান বিমানঘাঁটিতে এই হামলা কৌশলগত এবং একই সঙ্গে প্রতীকী ছিল। কারণ, এই বিমানঘাঁটি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদর দফতরের কাছেই অবস্থিত এবং এটি বিমান চলাচলের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। এই কেন্দ্র থেকে সায়াব এরিআই (Saab Erieye), সি-১৩০ পরিবহন বিমান, এবং আইএল-৭৮ রিফুয়েলিং প্লেন পরিচালনা করা হয়, যা সামরিক রসদ, নজরদারি, এবং অপারেশনাল কার্যক্রমে অপরিহার্য।
গত ২২ এপ্রিল পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নাগরিক নিহত হওয়ার পর ভারত পাকিস্তানের অভ্যন্তরে একাধিক সামরিক ও সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। ভারতীয় সেনার তরফে জানানো হয়েছে, খুব বেশি হলে ২৩ মিনিটের মধ্যেই পাকিস্তানকে মাটি ধরিয়ে দিয়েছিল তাঁরা। বায়ুসেনার (Air Force) উপপ্রধান এয়ার মার্শাল নর্মদেশ্বর তিওয়ারি (Air Marshal Narmdeshwar Tiwari) জানান, ৫০টিরও কম অস্ত্র ব্যবহার করে পাকিস্তানকে যুদ্ধবিরতির আলোচনায় বসতে বাধ্য করা গেছিল।
তিওয়ারির কথায়, “আমাদের সামনে একাধিক টার্গেট ছিল। শেষ পর্যন্ত তা নেমে আসে ৯টি টার্গেটে। সব মিলিয়ে ৫০টিরও কম অস্ত্র ব্যবহার করেই আমরা হামলা চালাই এবং শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়।” তাঁর আরও সংযোজন, দিল্লির তরফে সেনাকে তিনটি সুস্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল - এক, জবাব দিতে হবে মনে রাখার মতো, দুই, শত্রুপক্ষ যেন কড়া সতর্কবার্তা পায় এবং বাহিনীকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হবে, পরিস্থিতি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে গেলেও।
প্রসঙ্গত, গত ৭ মে ভোরে ভারতের অভিযানে পাক অধিকৃত কাশ্মীর ও পাকিস্তানের জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট আঘাত হানা হয়। তার পর ৮, ৯ ও ১০ মে ভারতীয় সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলার চেষ্টা করে পাকিস্তান। জবাবে ভারতীয় বাহিনী একাধিক পাক সেনা ঘাঁটিতে পাল্টা আক্রমণ চালায়। শেষ পর্যন্ত চার দিনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ১০ মে দু’দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।