আইএসআই-র মদতে জঙ্গি সংগঠনগুলি এখন সীমান্তবর্তী ঘন জঙ্গলে ছোট ছোট 'হাই-টেক' ঘাঁটি তৈরি করছে, যাতে নজরদারি এড়িয়ে টিকে থাকা যায়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 28 June 2025 15:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পহেলগামে জঙ্গি হামলার (Pahalgam Attack) জবাবে গত মে মাসে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor) অভিযান করেছিল ভারতীয় সেনা। ধ্বংস করা হয়েছিল পাকিস্তান (Pakistan) এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের (POK) ৯টি জঙ্গিঘাঁটি। সেই ধ্বংসলীলার কয়েক সপ্তাহ পরেই ফের নড়েচড়ে বসেছে পাকিস্তান। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, গুঁড়িয়ে যাওয়া জঙ্গিঘাঁটিগুলি আবার তৈরি করছে তারা।
পাকিস্তানের সেনা, আইএসআই এবং পাক সরকার একযোগে নতুন করে জঙ্গি ঘাঁটি ও লঞ্চপ্যাড (Launchpad) তৈরি করছে বলে সূত্রের খবর। মূলত পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (POK) এবং সংলগ্ন অঞ্চলে জঙ্গিদের ঘাঁটিই গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিয়েছে তারা।
ঘন জঙ্গলে তৈরি হচ্ছে ‘হাই-টেক’ ঘাঁটি
গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, আইএসআই-র মদতে জঙ্গি সংগঠনগুলি এখন সীমান্তবর্তী ঘন জঙ্গলে ছোট ছোট 'হাই-টেক' ঘাঁটি তৈরি করছে, যাতে নজরদারি এড়িয়ে টিকে থাকা যায়। এ ধরনের ঘাঁটিগুলিতে থাকছে থার্মাল ইমেজার, ফোলিয়েজ-পেনিট্রেটিং রাডার এবং উপগ্রহ নজরদারি মোকাবিলায় বিশেষ প্রযুক্তি।
জানা গেছে, নতুন করে যে ঘাঁটিগুলি তৈরি হচ্ছে, সেগুলি মূলত লুনি, পুতওয়াল, তাইপু পোস্ট, জমিলা পোস্ট, উমরানওয়ালি, চাপরার, ফরোয়ার্ড কাহুটা, ছোটা চকের মতো এলাকায়। একই সঙ্গে, পাক সেনা ও আইএসআই আবারও সক্রিয়ভাবে পুনর্গঠন করছে ১৩টি লঞ্চপ্যাড। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য এলাকা হল— কেল, শারদি, দুধনিয়াল, আথমুকাম, জুরা, লিপা ভ্যালি, পচিবন চমন, তাণ্ডপানি, নইয়ালি, জানকোট, চকোটি, নিকাইল ও ফরোয়ার্ড কাহুটা।
আন্তর্জাতিক সীমান্তেও নয়া কৌশল
জম্মু অঞ্চলের আন্তর্জাতিক সীমান্তে ভেঙে ফেলা চারটি জঙ্গি লঞ্চপ্যাড — মাসরুর বড়ভাই, চাপরার, লুনি ও শাকরগড়ের ড্রোন সেন্টার ফের সক্রিয় করার চেষ্টা চলছে। সূত্রের খবর, বড় ঘাঁটির পরিবর্তে এখন আইএসআই-এর লক্ষ্য ছোট ছোট শিবির বানানো, যাতে একসঙ্গে বড় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা কমে।
প্রতিটি শিবিরে থাকছে আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পাক সেনার বিশেষ প্রশিক্ষিত সদস্যরা এই ঘাঁটির পাহারায় থাকবেন। তাদের হাতে থাকবে থার্মাল সেন্সর, লো-ফ্রিকোয়েন্সি রাডার ও অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি।
সতর্ক ভারতীয় সেনা
এই পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণরেখা (LoC) এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। গোয়েন্দাদের মতে, পাকিস্তানের এই পুনর্গঠনের উদ্দেশ্য, ভারতে ফের জঙ্গি অনুপ্রবেশ চালিয়ে অস্থিরতা তৈরি করা। তবে ভারতীয় বাহিনী নজরদারি আরও জোরদার করেছে এবং উপগ্রহ ও প্রযুক্তিনির্ভর গোয়েন্দা নজরে পাক ঘাঁটিগুলির নড়াচড়া রেকর্ড করা হচ্ছে।
সেনা সূত্রে খবর, সীমান্ত বরাবর নতুন করে হামলা বা অনুপ্রবেশের কোনও চেষ্টা হলে কড়া জবাব দিতে তৈরি রয়েছে বাহিনী। সব মিলিয়ে, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর ধাক্কা খেয়ে ফের ঘুঁটি সাজাচ্ছে পাকিস্তান। তবে তত্পর ভারতও।