মূলত মাদক বিরোধী প্রচার ও নেশার হাত থেকে বাঁচাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর্নাকুলাম গভর্নমেন্ট গার্লস হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে বাস্কেটবল কোর্টে জুম্বা ক্লাস চলছে।
শেষ আপডেট: 28 June 2025 15:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেরলের পিনারাই বিজয়ন নেতৃত্বাধীন সিপিএম সরকার স্কুলে ‘জুম্বা’ (Zumba) নাচের মাধ্যমে শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখার শিক্ষা পদ্ধতি চালু করেছে। মূলত মাদক বিরোধী প্রচার ও নেশার হাত থেকে বাঁচাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেরল শিক্ষা দফতরের নির্দেশে স্কুলে স্কুলে জুম্বা নাচ চালু করা নিয়ে কট্টরপন্থী মুসলিম সংগঠনগুলি খেপে লাল হয়ে গিয়েছে। স্বল্প পোশাকে ছেলেমেয়েরা বিদেশি বাজনার তালে তালে একসঙ্গে নাচবে বলে প্রচার চালাতে শুরু করে দিয়েছে মুসলিম সংগঠনগুলি।
যদিও এর জবাবে শনিবার কেরলের শিক্ষামন্ত্রী ভি শিবাঙ্কুট্টি জোরাল ভাষায় জানিয়ে দেন, এই সিদ্ধান্ত থেকে কোনওমতেই পিছু হটবে না সরকার। মুসলিম সংগঠনগুলির বিভ্রান্তিমূলক প্রচারের মুখে মাথা নোয়ানো হবে না। জুম্বা ডান্স চলবে স্কুলে স্কুলে। সরকারি সিদ্ধান্তকে সংখ্যাগরিষ্ঠবাদী সাম্প্রদায়িক প্রবণতা বলার জবাবে মন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, রাজ্যপোষিত স্কুলগুলিতে শারীরচর্চার শিক্ষা হিসেবে জুম্বা নাচ চলবে, এর কোনও হেরফের হবে না।
শিবাঙ্কুট্টি আরও বলেন, বহু রাজ্য যখন মুসলিম মেয়েদের হিজাব পরার বিরোধিতা করেছিল, তখন আমরা প্রগতিশীল অবস্থান নিয়েছিলাম। কিন্তু এখন কিছু সংগঠন বস্তাপচা রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গিতে সংস্কৃতি চুলোয় যাচ্ছে বলে গলা ফাটাবে বললেই হল! তিনি এই নাচের মাধ্যমে শরীর ঠিক রাখার সিদ্ধান্তে ইচ্ছাকৃত ধর্মীয় রং চড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে নিন্দা করেন।
মুসলিম সংগঠনগুলিকে শিক্ষামন্ত্রীর কড়া জবাব, কেউ কোনও বাচ্চাকে জুম্বা নাচের সময় স্বল্প পোশাক পরার নির্দেশ দেয়নি। তারা স্কুলের ইউনিফর্ম পরেই তা নাচতে পারে। এবং সকলে যেন মনে রাখে যে, রাজ্য সরকারি স্কুলে যে শিক্ষানীতি সুপারিশ করা হবে, তা সকলে মেনে চলতে বাধ্য। অভিভাবকদের এ ব্যাপারে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ থাকতে পারে না, এদিন সাংবাদিকদের বলেন মন্ত্রী।
সমালোচনার জবাবে শিবাঙ্কুট্টি বলেন, কেরলে ইতিমধ্যেই ৯০ শতাংশ সরকারি স্কুলে জুম্বা নাচ সহ শারীরিক প্রশিক্ষণ চালু হয়ে গিয়েছে। এতে বাচ্চাদের শরীর ও মন দুয়েরই বিকাশ হবে। কিন্তু, মন্ত্রীর এই কড়া জবাবের আগেই মুসলিম সংগঠনগুলি বাম সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের চেষ্টায় নামে। সমস্ত কেরল জেম-ইয়াতুল উলামা নামে ইসলামি ধর্মগুরুদের সংগঠন এর বিরোধিতায় নেমেছে। এর নেতা জুম্বাকে সমাজের নৈতিক মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে মনে করেন। উইসডম ইসলামিক অর্গানাইজেশনের এক সদস্য ও শিক্ষক বলেন, আমার ছেলেকে জুম্মা ক্লাসে অংশ নিতে দেব না। তিনি জুম্বাকে বাজনার তালে ভিনগ্রহী সংস্কৃতি, প্রায় নগ্ন পোশাক ও নারী-পুরুষ মিলেমিশে নাচের সঙ্গে তুলনা টানেন। মুসলিম স্টুডেন্টস ফেডারেশনও সরকারের এই একতরফা চাপিয়ে দেওয়া নীতির সমালোচনা করেছেন।