গোয়েন্দাদের দাবি, বিশাল যাদব অনলাইন গেমে আসক্ত ছিলেন এবং সেই খেলায় টাকা হারিয়ে ধার-দেনায় জর্জরিত হয়ে পড়েন। সেই টাকা তোলার রাস্তা হিসেবেই তিনি এই তথ্য পাচারের রাস্তায় পা বাড়ান।

ধৃত যুবক
শেষ আপডেট: 26 June 2025 08:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নৌসেনার সদর দফতর (Navy HQ) থেকেই গোপন নথি পাচার! সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার ‘হ্যান্ডলার’-এর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে এই কাজ করছিলেন তিনি (Pakistan Spy)। এমনই অভিযোগে এক নৌসেনা কর্মীকে গ্রেফতার (HQ Staff Arrest) করল গোয়েন্দারা। 'অপারেশন সিঁদুর’-এর (Operation Sindoor) সময়ও ওই কর্মী তথ্য ফাঁস করেছিলেন বলে সন্দেহ।
রাজস্থানের সিআইডির (CID) নজরদারির ভিত্তিতে ধরা পড়েছে ওই যুবক। ধৃতের নাম বিশাল যাদব। তিনি দিল্লির নৌসেনা সদর দফতরের একজন ক্লার্ক। বাড়ি হরিয়ানায়। একাধিকবার নৌসেনা ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা সংস্থার গোপন তথ্য পাচার করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
রাজস্থানের পুলিশ আধিকারিক বিষ্ণুকান্ত গুপ্ত জানিয়েছেন, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থাগুলি কীভাবে ভারতে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে, তা দীর্ঘদিন ধরেই নজরে রেখেছিল রাজস্থানের সিআইডি। সেই সময়ই নজরে আসে বিশাল যাদবের নাম। তদন্তে উঠে আসে, তিনি ‘প্রিয়া শর্মা’ নামে এক পাকিস্তানি মহিলা 'হ্যান্ডলার'-এর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলছিলেন।
তদন্তকারীরা জানান, সেই মহিলা নিজেকে ভারতীয় বলে পরিচয় দিলেও তিনি পাক গুপ্তচর সংস্থার হয়ে কাজ করতেন। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বিশালের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন এবং ধীরে ধীরে তাঁর থেকে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক তথ্য বার করে আনতে শুরু করেন। বিনিময়ে বিশালকে পাঠাতেন মোটা অঙ্কের টাকা। অর্থ পাঠানো হত কখনও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে, কখনও বা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে।
গোয়েন্দাদের দাবি, বিশাল যাদব অনলাইন গেমে আসক্ত ছিলেন এবং সেই খেলায় টাকা হারিয়ে ধার-দেনায় জর্জরিত হয়ে পড়েন। সেই টাকা তোলার রাস্তা হিসেবেই তিনি এই তথ্য পাচারের রাস্তায় পা বাড়ান।
বর্তমানে বিশালকে জেরা করছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। ঠিক কতদিন ধরে এই তথ্য পাচার চলছিল, আর কে কে এই চক্রে যুক্ত ছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে। কতটা স্পর্শকাতর তথ্য ইতিমধ্যেই ফাঁস হয়ে গেছে, সেটাও তদন্তের বিষয়।
এই ঘটনা আবারও একবার মনে করিয়ে দিল ইউটিউবার জ্যোতি মলহোত্রার কথা। তাঁকেই সর্বপ্রথম পাক গুপ্তচর সন্দেহে পাকড়াও করে পুলিশ। পাকিস্তান তো বটেই, পাক-আফগান সীমান্তে গিয়েও তিনি তথ্য পাচার করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জ্যোতির পর আরও একাধিকজন একই অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছে। সেই তালিকায় এবার নাম জুড়ল বিশালের।