দুই নেতার বৈঠকের এজেন্ডা হতে পারে বেশ বিস্তৃত। এর মধ্যে রয়েছে পাকিস্তানে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বন্যা এবং ইজরায়েলের কাতার আক্রমণের ফলে সৃষ্ট ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি।

শাহবাজ শরিফ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 16 September 2025 16:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে বিশ্ব রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচিত হতে চলেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif) এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের (Meeting) সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানি এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদ (UNGA) অধিবেশনের ফাঁকে এই বৈঠক হতে পারে।
এই বৈঠক শুধু দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং এতে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বেশ কিছু সংবেদনশীল বিষয় উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই বৈঠকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান (Pakistan Army Chief) ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও (Asim Munir) উপস্থিত থাকতে পারেন, যা থেকে স্পষ্ট যে সামরিক নেতৃত্বের ভূমিকা এখানে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
পাকিস্তানি ওই সংবাদমাধ্যম আরও বলছে, দুই নেতার বৈঠকের এজেন্ডা হতে পারে বেশ বিস্তৃত। এর মধ্যে রয়েছে পাকিস্তানে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বন্যা এবং ইজরায়েলের কাতার আক্রমণের ফলে সৃষ্ট ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি। এই দুটি বিষয়ই বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলে বড় আলোচনার বিষয়। পাকিস্তানের এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, দুই ক্ষেত্রেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তাই এই আলোচনা নতুন দ্বিপাক্ষিক পথ খুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে, রাজনৈতিক মহলের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে আরেকটি বিষয়। সেটি হল, ভারত-পাকিস্তানের (India Pakistan Conflict) ক্রমবর্ধমান শীতল সম্পর্ক। পাকিস্তানি মিডিয়ার খবর অনুযায়ী, এই বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হতে পারে। গত ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে ২৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় (Pahalgam Attack) ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরে। ওই হামলার জবাবে ভারত 'অপারেশন সিঁদুর' অভিযান (Operation Sindoor) করে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে। এরপর মে মাসে দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে, যদিও পরে দু'পক্ষই সামরিক কার্যকলাপ বন্ধ করতে সম্মত হয়।
এই সামরিক উত্তেজনা প্রশমনে ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার নিজের কৃতিত্ব দাবি করেছেন। যদিও নয়াদিল্লি সেই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন আমেরিকা পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
অন্যদিকে জানা গেছে, কাতার এবং সৌদি আরবের পরামর্শ ও সমর্থন নিয়েই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর থেকে স্পষ্ট যে, মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশগুলি এই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনে অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে।