পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকারের সময়কালে দেশের অর্থনৈতিক সংকট যে কতটা গভীর হয়েছে, এই তথ্যই তার বড় প্রমাণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 27 December 2025 17:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ যেন আরও গভীর অন্ধকারের দিকে এগোচ্ছে। পরপর মেধাবীদের দেশ ছাড়ার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে (Pakistan economic crisis)। যদিও পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির দাবি করেছেন, এটি 'ব্রেন ড্রেন' (Pakistan brain drain) নয়, 'ব্রেন গেইন'। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি যে ভয়াবহ, তা সাম্প্রতিক তথ্যই স্পষ্ট করে দিচ্ছে।
গত দুই বছরে যে সংখ্যায় পেশাদার মানুষ দেশ ছেড়েছেন, তা পাকিস্তানের প্রশাসনকেই ভাবাচ্ছে। জানা গিয়েছে, মাত্র ২৪ মাসে ৫ হাজার ডাক্তার, ১১ হাজার ইঞ্জিনিয়ার এবং ১৩ হাজার অ্যাকাউন্ট্যান্ট পাকিস্তান ছেড়ে বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন (Pakistan doctors engineers migration)। পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকারের সময়কালে দেশের অর্থনৈতিক সংকট যে কতটা গভীর হয়েছে, এই তথ্যই তার বড় প্রমাণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
ইন্টারনেট শাটডাউনেই পথে বসার আশঙ্কায় লক্ষ লক্ষ মানুষ
পাকিস্তানের আর্থিক পতন নিয়ে প্রাক্তন সেনেটর মুস্তাফা নওয়াজ খোখার এক্স-এ কড়া সমালোচনা করেছেন। তাঁর কথায়, “অর্থনীতি ঠিক করতে হলে আগে রাজনীতি ঠিক করতে হবে।”
তিনি আরও জানান, পাকিস্তান বর্তমানে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম ফ্রিল্যান্সিং হাব। কিন্তু বারবার ইন্টারনেট শাটডাউনের কারণে দেশটি ইতিমধ্যেই ১.৬২ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির মুখে পড়েছে। এর ফলে ২৩ লক্ষ ৭০ হাজার ফ্রিল্যান্সারের কাজ হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ডিজিটাল অর্থনীতি বড় ধাক্কার মুখে পড়ায় দেশজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
বিদেশে চাকরির হিড়িক- উচ্চশিক্ষিতরাও আর দেশে থাকতে চান না
২০২৪ সালে এখন পর্যন্ত ৭ লাখ ২৭ হাজার ৩৮১ জন পাকিস্তান ছেড়ে বিদেশে চাকরি করতে গেছেন। এবছরের নভেম্বর পর্যন্ত বিদেশে যাওয়া মানুষের সংখ্যা ৬ লাখ ৮৭ হাজার ২৪৬।
উদ্বেগজনক বিষয় হল, আগে পাকিস্তান থেকে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা প্রধানত উপসাগরীয় অঞ্চলে শ্রমিক কিংবা তথাকথিত 'পেশাদার ভিক্ষুকদের' মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার-সহ শিক্ষিত তরুণ প্রজন্ম আর দেশে থাকতে চাইছেন না। এই ধারা চলতে থাকলে পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ আরও অন্ধকারে পৌঁছবে বলে বিশেষজ্ঞদের মত।
ভারত থেকে পাকিস্তানে জলপ্রবাহ কমে যাওয়ার অভিযোগে নতুন উদ্বেগ
অন্যদিকে, জলসংকট নিয়ে নতুন করে ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে পাকিস্তান। কিছুদিন আগেই চন্দ্রভাগা নদীতে জল কমে যাওয়ার অভিযোগ করে ইসলামাবাদ। এবার তাদের দাবি, ঝিলম ও নীলম নদীর জল সরবরাহও কমছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, ভারত জল আটকে রাখায় কৃষিক্ষেত্রে গুরুতর সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ আরও সংকটময়
মেধাপাচার, অর্থনৈতিক বিপর্যয়, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, ডিজিটাল ক্ষতি এবং জলসংকট- সব মিলিয়ে পাকিস্তান যে বিপদের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে, তা স্পষ্ট। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দেশটি আরও ভয়ংকর সঙ্কটের দিকে এগোবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।