ব্রিটিশ দৈনিক সংবাদপত্র ফিনান্সিয়াল টাইমস প্রস্তাবিত বন্দরের নকশা দেখেছে বলে দাবি জানিয়ে এই খবর দিয়েছে।

আরব সাগরে পাকিস্তানি মাটিতে আমেরিকা বন্দর গড়লে এবং সেখান থেকে জাহাজ চলাচল করলে আখেরে ভারতের উপর পরোক্ষ চাপ সৃষ্টি হবে।
শেষ আপডেট: 4 October 2025 17:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের পরামর্শদাতারা আমেরিকার কাছে আরব সাগর এলাকায় একটি অসামরিক বন্দর গড়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। ব্রিটিশ দৈনিক সংবাদপত্র ফিনান্সিয়াল টাইমস প্রস্তাবিত বন্দরের নকশা দেখেছে বলে দাবি জানিয়ে এই খবর দিয়েছে। আরব সাগরে পাকিস্তানি মাটিতে আমেরিকা বন্দর গড়লে এবং সেখান থেকে জাহাজ চলাচল করলে আখেরে ভারতের উপর পরোক্ষ চাপ সৃষ্টি হবে। নিরাপত্তা ছাড়াও মার খাবে এদেশের সমুদ্র বাণিজ্য।
করাচি থেকে মাত্র ৪৫০ কিমি দূরে বালুচিস্তানের গ্বদর জেলার মারকানে অবস্থিত পাসনি নামে একটি সমুদ্র তীরবর্তী শহর আছে। যা মূলত মৎস্য বন্দর। আরব সাগরের তীরের এই বন্দর পাসনি শহরের খুব কাছেই ছোট্ট একটি দ্বীপ। সেখানেই বন্দর গড়ে তোলার প্রস্তাবের কারণ হচ্ছে, পাকিস্তান বালুচিস্তানের দুষ্প্রাপ্য খনিজ বেচে দিতে চায় আমেরিকাকে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে খনিজ বাণিজ্য নিয়ে প্রস্তাব দিয়ে এসেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও ফিল্ড মার্শাল মুনির।
মূল বিষয়টি হল, আর্থিকভাবে দেউলিয়া হয়ে যাওয়া পাকিস্তানের ঋণভার কমাতে এখন ইসলামাবাদ প্রশাসন ট্রাম্পকে খুশি রাখতে চায়। আর সে কারণেই দুষ্প্রাপ্য খনিজ সম্পদ, যা আমেরিকার ভীষণভাবে কাজে লাগে এবং পাকিস্তানের প্রযুক্তির প্রয়োগের বাইরের জিনিস তা বেচে দিতে মরিয়া শরিফ ও মুনিরভাই।
পাসনিকে বাছার আরও একটি কারণ হল, এই দ্বীপ বালুচিস্তানে হওয়ায় তা ভৌগোলিক দিক থেকে আফগানিস্তান ও ইরানের একেবারে দোরগোড়ায়। এদিকে, আরব সাগর বয়ে এসে ভারতের জল সীমান্তের দূরত্বও খুব বেশি নয়। ফলে আমেরিকা এখানে সমুদ্র বন্দর গড়ে তুললে তা একসঙ্গে আফগানিস্তান, ইরান ও ভারত ছাড়াও বালুচ সংগ্রামীদের পক্ষেও চাপের হবে। এছাড়া বালুচিস্তান-খাইবার পাখতুনখোয়াতেই রয়েছে ওই সব দুষ্প্রাপ্য খনিজ ভাণ্ডার। সে কারণে কাঁচামাল পরিবহণেও তেমন বেগ পেতে হবে না আমেরিকাকে।
সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ মুনির ও শরিফ দুজনে মিলে দেখা করেন ট্রাম্পের সঙ্গে। সেখানে ট্রাম্পকে মার্কিন কোম্পানিগুলিকে পাকিস্তানে বিনিয়োগের অনুরোধ জানান শরিফ। তিনি জানান, কৃষি, প্রযুক্তি, খনি এবং বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে মার্কিন বিনিয়োগের প্রত্যাশা রাখে পাকিস্তান। বন্দর তৈরির নকশায় পাসনিতে মার্কিন সেনা ঘাঁটি নির্মাণের প্রস্তাব আপাতভাবে বাদ রাখা হয়েছে। তবে খনিজ সম্পদে ভরপুর পশ্চিম প্রদেশের সঙ্গে বন্দরের একটি রেলপথ যোগাযোগের কথা রয়েছে পরিকল্পনায়।