বছর দুয়েক আগে পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি শহরে বিনামূল্যে আটা দানের সময়ে পদপিষ্ট হওয়ার ছবি ভাইরাল হয়েছিল।

বিশেষ কোনও অগ্রগতিও হয়নি পাকিস্তানি আর্থিক নীতির।
শেষ আপডেট: 4 October 2025 15:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানি রূপটানে লেগেছে টান। রূপচর্চার সামগ্রী তৈরির বিদেশি কোম্পানিগুলি হাত গুটিয়ে চলে যাচ্ছে। ফলে সাধারণ ক্রেতা থেকে অসামান্য ক্রেতার ঘরেও প্রসাধনীর ভাঁড়ারে তৈরি হয়েছে শূন্যতা। বছর দুয়েক আগে পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি শহরে বিনামূল্যে আটা দানের সময়ে পদপিষ্ট হওয়ার ছবি ভাইরাল হয়েছিল। তাতেই বোঝা গিয়েছিল দেশের অর্থনৈতিক দুর্গতি কোন অবস্থায় পৌঁছেছে। তারপর থেকে বিশেষ কোনও অগ্রগতিও হয়নি পাকিস্তানি আর্থিক নীতির। যার ফলে বেশ কিছু বহুজাতিক কোম্পানি পাকিস্তান থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে চলে গিয়েছে। যার মধ্যে সাম্প্রতিকতম সংস্করণটি হচ্ছে প্রসাধন সামগ্রী নির্মাণের হিমালয় প্রোক্টার অ্যান্ড গ্যাম্বল। যার ফলে বহু পাকিস্তানি একেবারে ভেঙে পড়েছেন। তাঁদের সাধের জিলেট রেজার ও হেড অ্যান্ড শোল্ডার শ্যাম্পু বাড়ন্ত দেশে।
এ সপ্তাহের গোড়ার দিকে মার্কিন সংস্থা প্রোক্টার অ্যান্ড গ্যাম্বল (P&G), যাদের বিশাল পরিমাণে হোম কেয়ার, প্রসাধনী ও পার্সোনাল গ্রুমিং, দাঁতের মাজন, টুথ ব্রাশ রয়েছে, তারা পাকিস্তানে ঝাঁপ গোটানোর ঘোষণা করে দিয়েছে। জিলেট রেজার সহ পিঅ্যান্ডজি তাদের সমস্ত উৎপাদন ও বাণিজ্যিক বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে পাকিস্তানে।
এই ঘোষণার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পাক পড়শিরা শোক-দুঃখে বিহ্বল হয়ে পড়েছেন। অধিকাংশই সাবান, শ্যাম্পু, মাজন বদলানোর শোকে মূর্চ্ছা যাচ্ছেন। এই অবস্থায় সাজগোজ ও দৈনন্দিন কাজকারবার কীভাবে চলবে, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন অনেকেই। একজন লিখেছেন, পিঅ্যান্ডজির মতলব আমি বুঝতে পারছি না। ২৪০ মিলিয়ন পাকিস্তানি এখনও চায় গায়ে মাখার সাবান, কাপড় কাচার সাবান ও শেভিং ক্রিম। ওদের কি কোনও বুদ্ধি নেই!
১৯৯১ সালে পিঅ্যান্ডজি ব্যবসা ফাঁদতে পা রেখেছিল পাকিস্তানে। কিছুদিনের মধ্যেই পাকিস্তানের প্রায় ঘরে ঘরে পৌঁছে যায় তাদের সামগ্রী। বছর কয়েকের মধ্যেই পাকিস্তানের সবথেকে বিক্রিত প্রসাধনী সামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর কোম্পানি হিসাবে পরিচিতি পায়। বিশাল ভাণ্ডার ও সস্তায় উপকরণ পেয়ে সাধারণ কোম্পানিগুলির খাতা বন্ধ হয়ে যায়।
খুবই অল্প সময়ের মধ্যে হেড অ্যান্ড শোল্ডার, প্যান্টিন, টাইড, ওরাল-বি, জিলেট, ওল্ড স্পাইস, এরিয়েল ঘরে ঘরে অত্যাবশ্যকীয় সদস্য হয়ে যায়। আর সেগুলিই উধাও হয়ে যেতে চলায় পাকিস্তানিরা উদ্বিগ্ন এই ভেবে যে, এবার খারাপ সামগ্রী কিনতে হবে। ইসলামাবাদের এক ইঞ্জিনিয়ার সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, গত ৩ মাস ধরে তিনি বাজারে জিলেট রেজার খুঁজে পাচ্ছেন না। এর যে বিকল্পগুলি মিলছে তা অত্যন্ত রদ্দি মানের।
আরেকজনের অনুমান, এবারে চাইনিজ মাল ঢুকবে। তবে জিলেট, প্যাম্পার্স, সাবান ও পিঅ্যান্ডজির অন্যান্য প্রসাধনীর মতো তা হবে না। এক পাক ঘরণীর উদ্বেগ, এবার থেকে পাকিস্তানকে ওদের সামগ্রী আমদানি করে নিয়ে আসতে হবে! জিলেটের প্রাক্তন এক এক্সিকিউটিভ জানান, এতে অন্তত বোধ করি পাকিস্তানি সরকারের টনক নড়বে। ওরা বুঝবে, যা চলছে তা ঠিক নয়। তাঁর কথায়, এখানে বিদ্যুতের মাশুল অত্যন্ত চড়া, দুর্বল পরিকাঠামো ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করা আর কতদিন সম্ভব। উল্লেখ্য, গত বছর দুয়েকের মধ্যে Shell, Pfizer, Total Energies দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছে। Microsoft ও Telenor পাকিস্তান থেকে হাত গুটিয়ে নিয়েছে।