এই মহড়ার মাঝেই ভারতীয় বাহিনী লাইন অফ কন্ট্রোল (LoC) এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর সন্ত্রাস দমন ও অনুপ্রবেশ রুখতে লাগাতার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

শেষ আপডেট: 12 January 2026 00:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মহলে যখন নিজেকে ‘সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগী’ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে ঠিক সেই সময়েই জম্মু-কাশ্মীরে সক্রিয় জঙ্গিদের (Pakistani terrorists in Kashmir) সংখ্যা বাড়ায় উদ্বেগ আরও তীব্র হচ্ছে। ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থার হিসেব অনুযায়ী, বর্তমানে উপত্যকায় (India Pakistan Border) সক্রিয় জঙ্গির সংখ্যা ১৩১, যার মধ্যে ১২২ জনই পাকিস্তানের নাগরিক। বাকি ৯ জন স্থানীয়। এই তথ্য সামনে আসতেই পাকিস্তান–আমেরিকার যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী মহড়াকে (US Pakistan counterterror exercise) ঘিরে প্রশ্ন আরও ঘনীভূত হয়েছে।
জম্মু অঞ্চলে ৩৫ জন পাকিস্তানি জঙ্গি সক্রিয়
শীর্ষ প্রতিরক্ষা সূত্রের তথ্য, শুধু জম্মু অঞ্চলেই অন্তত ৩৫ জন পাক জঙ্গি সক্রিয় (Terrorism) রয়েছে। পীর পাঞ্জালের দক্ষিণে আবার সন্ত্রাসের জাল ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট সংগঠনগুলি। অথচ একই সময় আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের ‘সন্ত্রাস দমনে দায়বদ্ধ’ দেশ হিসেবে তুলে ধরতে মরিয়া ইসলামাবাদ।
পাক–মার্কিন সন্ত্রাসবিরোধী মহড়া ‘ইনস্পায়ার্ড গ্যাম্বিট ২০২৬’
দুই সপ্তাহের জন্য আমেরিকার সঙ্গে যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী মহড়া শুরু করেছে পাকিস্তান। ‘ইনস্পায়ার্ড গ্যাম্বিট ২০২৬’ নামের এই মহড়া হচ্ছে পাঞ্জাব প্রদেশের ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টারে। শহুরে সন্ত্রাস দমন, জটিল অপারেশন এবং দুই বাহিনীর সমন্বয় সাধন - এসবই এই মহড়ার প্রধান লক্ষ্য।
এই মহড়ার মাঝেই ভারতীয় বাহিনী লাইন অফ কন্ট্রোল (LoC) এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর সন্ত্রাস দমন ও অনুপ্রবেশ রুখতে লাগাতার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তানের দিক থেকে ড্রোনে অস্ত্র ও বিস্ফোরক ফেলানোর ঘটনাও বেড়েছে, সে কারণে নজরদারি আরও কড়া করা হয়েছে সীমান্তজুড়ে।
পাকিস্তানের ‘দ্বিচারিতা’ নিয়ে প্রশ্ন
নিরাপত্তা সংস্থাগুলির বক্তব্য, পাকিস্তানের বাইরের বার্তা ও মাটির বাস্তবতা - দুটো সম্পূর্ণ আলাদা। ভারতের বিরুদ্ধে হামলা চালানো জঙ্গি সংগঠনগুলি এখনও পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রিত জায়গাগুলো থেকেই সক্রিয়। অথচ একই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশের সঙ্গে পাকিস্তানের যৌথ মহড়া - এই দ্বিমুখী আচরণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
ডিপ্লোম্যাটিক প্রচেষ্টার নেপথ্য
এই ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই পাকিস্তান ফের ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা শুরু করেছে। গত বছরের মে মাসে ভারত কর্তৃক সন্ত্রাসঘাঁটি লক্ষ্য করে চালানো ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর থেকেই পাকিস্তান আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়ে। তার পর কূটনৈতিক তত্পরতা বাড়িয়েছে ইসলামাবাদ, যারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে এই মার্কিন-পাক মহড়াকে।