শুক্রবার পুনে পাবলিক পলিসি ফেস্টিভ্যাল ২০২৬-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ভারতের এই সামরিক অভিযানের পর পাকিস্তান যে ভাবে তাদের উচ্চ প্রতিরক্ষা সংগঠন ঢেলে সাজিয়েছে, তা কার্যত স্বীকারোক্তি যে সংঘাতটি ইসলামাবাদের অনুকূলে যায়নি।
.jpeg.webp)
সিডিএস জেনারেল অনিল চৌহান।
শেষ আপডেট: 10 January 2026 09:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অপারেশন সিঁদুর যে পাকিস্তানের পক্ষে মোটেই স্বস্তির ছিল না, তা তাদের সাম্প্রতিক সাংবিধানিক ও সামরিক রদবদলেই স্পষ্ট (Operation Sindoor's impact: Army structure overturned in Pakistan, Islamabad's indirect defeat), এমনই মন্তব্য করলেন চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) জেনারেল অনিল চৌহান (Chief of Defense Staff General Anil Chauhan)। শুক্রবার পুনে পাবলিক পলিসি ফেস্টিভ্যাল ২০২৬-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ভারতের এই সামরিক অভিযানের পর পাকিস্তান যে ভাবে তাদের উচ্চ প্রতিরক্ষা সংগঠন ঢেলে সাজিয়েছে, তা কার্যত স্বীকারোক্তি যে সংঘাতটি ইসলামাবাদের অনুকূলে যায়নি।
জেনারেল চৌহানের বক্তব্য, অপারেশন সিঁদুরের পর পাকিস্তান জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান পদ তুলে দিয়ে ‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস’ পদ তৈরি করেছে। পাশাপাশি গঠন করা হয়েছে ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি কমান্ড এবং আর্মি রকেট ফোর্সেস কমান্ড। এর ফলে স্থল, যৌথ এবং কৌশলগত সামরিক ক্ষমতা এক ব্যক্তির হাতেই কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। সিডিএসের কটাক্ষ, “এটি মূল নীতির পরিপন্থী এবং সম্পূর্ণভাবে স্থলভিত্তিক মানসিকতার প্রতিফলন।” তাঁর মতে, এই অতিরিক্ত কেন্দ্রীয়করণ ভবিষ্যতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর অন্দরেই গুরুতর সমস্যার জন্ম দিতে পারে।
ভারতের নিজস্ব সামরিক কাঠামোতে অপারেশন সিঁদুরের প্রভাব নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে জেনারেল চৌহান স্পষ্ট করেন, তিনি সরাসরি তিন বাহিনীর প্রধানদের নির্দেশ দেন না, তবে সিডিএস পদটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে সামগ্রিক অপারেশনাল দায়িত্ব। চিফস অব স্টাফ কমিটির স্থায়ী চেয়ারম্যান হিসেবে সব সিদ্ধান্তই যৌথ আলোচনার মাধ্যমে নেওয়া হয়, যাতে সমন্বিত পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন সম্ভব হয়। তিনি জানান, মহাকাশ, সাইবার, ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ও কগনিটিভ ওয়ারফেয়ারের মতো নতুন যুদ্ধক্ষেত্রের তদারকির দায়িত্ব সরাসরি সিডিএসের হাতে, পাশাপাশি ইন্টিগ্রেটেড ডিফেন্স স্টাফের অধীনে বিশেষ বাহিনীগুলিও কাজ করে।
ভবিষ্যৎ যুদ্ধের চরিত্র প্রসঙ্গে সিডিএস বলেন, বিশ্বজুড়ে সামরিক কৌশলে বড় পরিবর্তন আসছে। তিনি বলেন, “এক সময় পানিপথ থেকে পলাশী, ভূগোলই যুদ্ধের গতিপথ ঠিক করত। এখন প্রযুক্তিই কৌশলের চালিকাশক্তি”।
যদিও ভবিষ্যতের সংঘাত অনেকাংশেই নন-কন্ট্যাক্ট ও নন-কাইনেটিক হতে পারে, তবু পাকিস্তান ও চিনের সঙ্গে বিতর্কিত সীমান্তে প্রচলিত স্থলযুদ্ধ যে এখনও নিষ্ঠুর ও জনবলনির্ভর, সে কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি। সিডিএসের কথায়, “আমাদের দু’দিকেই প্রস্তুত থাকতে হবে, প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট যুদ্ধের জন্য যেমন, তেমনই প্রয়োজন হলে দীর্ঘস্থায়ী সংঘর্ষের জন্যও।”
অপারেশন সিঁদুর ছাড়াও উরি সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, ডোকলাম ও গালওয়ান সংঘর্ষ এবং বালাকোট বিমান হানার অভিজ্ঞতা থেকে উচ্চ প্রতিরক্ষা সংগঠন নিয়ে একাধিক শিক্ষা পাওয়া গিয়েছে বলে জানান জেনারেল চৌহান। তাঁর দাবি, ওই সব অভিযানে পরিস্থিতিভিত্তিক ও নতুন কমান্ড ব্যবস্থার প্রয়োগ করা হয়েছিল। এখন লক্ষ্য, এমন একটি কাঠামো তৈরি করা, যা যে কোনও সংকটে প্রয়োগ করা যাবে।