অনেকে ভাবছেন শুধু রুটে সমস্যা হয়েছে। আসলে দৈনিক প্রায় ৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে নতুন বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তেলের দাম এখন যে ওঠানামা করছে, তার নীচে লুকিয়ে আছে অনেক গভীর চাপ।

প্রতীকী ছবি (এআই নির্মিত)
শেষ আপডেট: 5 April 2026 19:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ (Middle East Conflicts) শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজার (Global Oil market) একেবারে হোঁচট খেয়েছে। যুদ্ধ লাগার পর থেকেই তেলের রুটে হামলা, রফতানি ব্যাহত (Oil Export), অবকাঠামোয় হামলা- সব মিলিয়ে চরম চাপ। সবচেয়ে সমস্যায় ফেলেছে গালফের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা হরমুজ প্রণালীর (Hormuz Pronali) আংশিক বন্ধ হওয়া। ফলে তেলবাহী জাহাজগুলোকে ঘুরপথে যেতে হচ্ছে, আর খরচও বাড়ছে বহুগুণ।
তেলের দাম আকাশছোঁয়া, তবুও সবাই ভাবছে- 'এটা সাময়িক'
যুদ্ধ শুরুর আগে তেলের দাম ছিল ৬০-৭০ ডলার। এখন ঝাঁপিয়ে ১০০-১২০ ডলারের ঘরে, মানে প্রায় ৫০-৬০ শতাংশ বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ যত চলছে, দাম ততই বাড়বে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া খুবই ঠান্ডা। সবাই ধরে নিচ্ছে, 'কিছুদিন পর ঠিক হয়ে যাবে।' অথচ বাস্তব চিত্র বলছে উল্টো কথা।
তেল আসছে ঠিকই… কিন্তু দেরিতে, আর অনেক বেশি দামে
সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ নয়, কিন্তু মারাত্মক দেরি হচ্ছে। এই 'চলছে কিন্তু ঠিক চলছে না'- অবস্থা বাজারে সবচেয়ে বিপজ্জনক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজার রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখলে ঝাঁকুনি খায় ঠিকই, কিন্তু ধরে নেয় সেটা ক্ষণস্থায়ী। এই আত্মতুষ্টিই এখন বড় ভুল।
বিশ্ববাজারে প্রকৃত ঘাটতি আরও গুরুতর
অনেকে ভাবছেন শুধু রুটে সমস্যা হয়েছে। আসলে দৈনিক প্রায় ৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে নতুন বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তেলের দাম এখন যে ওঠানামা করছে, তার নীচে লুকিয়ে আছে অনেক গভীর চাপ।
জরুরি মজুত দিয়ে কাজ হবে কিছুদিন, সমাধান নয়
আইইএ (International Energy Agency) জরুরি মজুত থেকে ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল ছাড়ছে- ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে এতে বিশ্বের মোটে কয়েক দিনের চাহিদা মেটানো যাবে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে আমেরিকাও খুব একটা ক্ষতিপূরণ করতে পারবে না।
তেলের ধাক্কা থেমে নেই- খাদ্যদ্রব্যের দামও বাড়ছে
তেলের খরচ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জাহাজের বিমাও দামি হয়েছে। সার রফতানি কমে গেছে। ফলে অনেক দেশে খাদ্যদ্রব্যের দাম চড়ছে। বিশ্ব অর্থনীতির ওপর মেঘ জমছে! মুদ্রাস্ফীতি ও মন্দা একসঙ্গে ধাক্কা দিতে পারে।
সঙ্কট এসে গেছে- আমরা শুধু ঠিকমতো বুঝতে পারছি না
তেল এখনও বাজারে পাওয়া যাচ্ছে বলেই অনেকেই ভাবছেন, 'সব ঠিক আছে।' কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন- বড় বিপদ আসতে পারে। যুদ্ধ চলছে, এর ফলে হরমুজ আংশিক বন্ধ, সরবরাহে চাপ বাড়ছে, দাম বাড়ছে লাগামহীনভাবে।
তারপরও বিশ্ব বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না। সঙ্কট এখনই শুরু, সামনে প্রভাব আরও ভয়ঙ্কর হতে পারে- বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।