দাবি, সংঘর্ষের সময় আতঙ্কে অনেক পাকিস্তানি সেনা পোস্ট ফেলে পালিয়েছে। এমনই অবস্থা হয়েছিল তাদের যে প্যান্টও ফেরত নিয়ে যেতে পারেনি।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 17 October 2025 15:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষ (Afghanistan Pakistan War) থেমেছে বটে, কিন্তু সেই ‘ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি’র দাম দিতে হচ্ছে ইসলামাবাদকে (Islamabad)। সীমান্তে টানা এক সপ্তাহের তীব্র লড়াইয়ের পর এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় পাকিস্তান কার্যত ঠাট্টার পাত্র হয়ে উঠেছে।
তালিবান যোদ্ধারা (Taliban) পাকিস্তানের ট্যাঙ্ক দখল করেছে। আর তার সঙ্গে ভাইরাল হয়েছে এমন কিছু ভিডিও (Viral Video), যেখানে দেখা যাচ্ছে, তালিবান যোদ্ধারা পাকিস্তানি সেনাদের ফেলে যাওয়া প্যান্ট (Pakistan Pant) দেখাচ্ছে। দাবি, সংঘর্ষের সময় আতঙ্কে অনেক পাকিস্তানি সেনা পোস্ট ফেলে পালিয়েছে। এমনই অবস্থা হয়েছিল তাদের যে প্যান্টও ফেরত নিয়ে যেতে পারেনি।
আফগান সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা একে ব্যঙ্গ করে নাম দিয়েছেন - ‘৯৩ হাজার প্যান্ট (93000 Pant) সেরিমনি ২.০’, ১৯৭১ সালের ভারত-পাক যুদ্ধের আত্মসমর্পণের ঘটনার অনুকরণে।
১৯৭১-এর আত্মসমর্পণের স্মৃতি
‘৯৩ হাজার’ শব্দবন্ধটি এসেছে ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের সেই ঐতিহাসিক দিনে, যখন ভারতের লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার সামনে আত্মসমর্পণ করেছিলেন পাকিস্তানি জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজি। ১৩ দিনের যুদ্ধে ৯৩ হাজার পাকিস্তানি সেনা আত্মসমর্পণ করে (India Pakistan War), যার পরেই জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ।
এই ঘটনার প্রতীকী পুনরাবৃত্তি হিসেবে এখন আফগানিস্তানে তালিবান যোদ্ধারা পাকিস্তানি সেনাদের প্যান্ট হাতে তুলে ধরছে - যা ইসলামাবাদের কাছে অপমানেরই প্রতীক হয়ে উঠেছে।

ব্যর্থ সীমান্ত অভিযান
গত সপ্তাহে পাকিস্তান অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে আফগান সীমান্ত পেরিয়ে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP)-এর শিবিরে হামলা চালাতে যায়। কিন্তু পাল্টা লড়াইয়ে তালিবান সেনারা প্রমাণ করে দেয়, তারা মোটেও দুর্বল নয়।
তালিবানের দাবি, সংঘর্ষে ৬০ জনেরও বেশি পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন ও ২০টি সীমান্ত পোস্ট ধ্বংস হয়েছে। পাকিস্তান অবশ্য এই দাবি অস্বীকার করেছে।
যুদ্ধবিরতির আড়ালে চাপা অস্বস্তি
রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর বুধবার উভয় পক্ষই কাতার ও সৌদি আরবের হস্তক্ষেপে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়। আফগান সরকারের মুখপাত্র আলি মোহাম্মদ হকমল জানিয়েছেন, যুদ্ধ থামানোর আবেদন পাকিস্তানের দিক থেকেই এসেছিল। তাঁর কথায়, “মুজাহিদিনরা কার্যকর হামলা চালিয়ে পাকিস্তান সেনাদের অচল করে দেয়। তার পরেই তারা যুদ্ধবিরতির আবেদন জানায়।” অন্যদিকে, পাকিস্তানের সামরিক সূত্রের দাবি, এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আসলে আফগানিস্তানেরই ছিল।
যে দিক থেকেই দেখা হোক না কেন, এই সংঘর্ষের ফলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পাকিস্তানের ভাবমূর্তি স্পষ্টতই ধাক্কা খেয়েছে। আর আফগানিস্তান, সোশ্যাল মিডিয়ার ‘ন্যারেটিভ যুদ্ধে’ আপাতত জয়ী।