আগামী বছর তাঁরা যোগ দিচ্ছেন সুইজারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব জুরিখে (UZH)। সেখানে তাঁরা একসঙ্গে গড়ে তুলবেন একটি নতুন ‘সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট ইকনমিকস’।

ট্রাম্প-বিশ্ববিদ্যালয়ের দড়ি টানাটানিতে মুখ ফেরালেন নোবেলজয়ী দম্পতি
শেষ আপডেট: 11 October 2025 12:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন প্রশাসন (USA) ও সে দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলির (University) মধ্যে গবেষণার অর্থ বরাদ্দ নিয়ে সংঘাতের মধ্যেই আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (MIT) ছাড়ছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ (Nobel Laureates) দম্পতি অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhijit Banerjee) ও এস্থার ডাফলো (Esther Duflo)। আগামী বছর তাঁরা যোগ দিচ্ছেন সুইজারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব জুরিখে (UZH)। সেখানে তাঁরা একসঙ্গে গড়ে তুলবেন একটি নতুন ‘সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট ইকনমিকস’।
জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয় শুক্রবার জানিয়েছে, ২০১৯ সালে নোবেলজয়ী এই দম্পতি ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে যোগ দেবেন ‘লেমান ফাউন্ডেশন প্রফেসর অব ইকনমিকস’ হিসেবে। তাঁদের সঙ্গে থাকবেন ব্রাজিলের লেমান ফাউন্ডেশনের ২৬ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ৩২ মিলিয়ন ডলার) অনুদানে তৈরি নতুন কেন্দ্র, ‘লেমান সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট, এডুকেশন অ্যান্ড পাবলিক পলিসি’।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ফ্লোরিয়ান শয়ের এক্সে লিখেছেন, “নোবেলজয়ী অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও এস্থার ডাফলো আমাদের দলে যোগ দিচ্ছেন, এটা জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এক ঐতিহাসিক ঘটনা। তাঁদের আগমন আমাদের গবেষণার মান ও আন্তর্জাতিক মর্যাদাকে আরও বাড়াবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট মাইকেল শেপম্যান বলেন, “দু’জনেই বৈজ্ঞানিক তত্ত্বকে সমাজের কল্যাণের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। আমাদের জন্য এটি এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবৃতিতে ডাফলো বলেছেন, “নতুন কেন্দ্র আমাদের আগের কাজকে আরও বিস্তৃত করবে। যেখানে গবেষণা, ছাত্রছাত্রীদের পরামর্শ এবং নীতি নির্ধারণের বাস্তব প্রয়োগ মিলবে একসঙ্গে।”
অভিজিৎও জানিয়েছেন, “জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের গবেষণা ও নীতি-নির্ভর কাজের জন্য আদর্শ পরিবেশ দেবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।” তবে তাঁরা এমআইটি’র সঙ্গে আংশিকভাবে যুক্ত থাকবেন এবং তাঁদের গড়া সংস্থা ‘অবদুল লতিফ জামিল পোভার্টি অ্যাকশন ল্যাব’ (J-PAL) পরিচালনা চালিয়ে যাবেন।
এদিকে, এমআইটি সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসনের নতুন গবেষণা তহবিল নীতির বিরোধিতা করেছে। প্রেসিডেন্ট স্যালি কর্নব্লুথ মার্কিন শিক্ষাসচিব লিন্ডা ম্যাকমোহনকে লেখা চিঠিতে জানান, “আমরা এমন কোনও নীতি মানতে পারি না যা গবেষণার স্বাধীনতা ও বৈজ্ঞানিক মেধার মূল্যায়নকে রাজনীতির সঙ্গে বেঁধে দেয়।”
ট্রাম্প প্রশাসনের পাঠানো নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যেসব বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি ১৫ শতাংশের বেশি রাখবে, বা ভর্তি ও নিয়োগে জাতি বা লিঙ্গ বিবেচনা করবে, তাদের তহবিল বন্ধ করে দেওয়া হবে।
ব্রাউন, ভার্জিনিয়া, ডার্টমাউথ ও ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ও এই নীতির পর্যালোচনা শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতির মধ্যেই আমেরিকা ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অভিজিৎ ও দুফলো।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের আগস্টে আমেরিকায় বিদেশি ছাত্রছাত্রীদের যোগদান কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ। আফ্রিকা, এশিয়া ও আরব দুনিয়া থেকে আগত শিক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হ্রাস পেয়েছে। এর মধ্যে ভারতের ক্ষেত্রেও পতন প্রায় ৪৫ শতাংশ।
কঠোর ভিসা নীতি, সোশ্যাল মিডিয়া যাচাই, এবং ১৯টি দেশের উপর আরোপিত ট্রাভেল ব্যান, সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পরিবেশ ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।