দূতাবাসের তরফে বলা হয়েছে, “মাদক পাচারের বিরুদ্ধে আমেরিকা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। যে সব ব্যক্তি বা সংস্থা বেআইনি ভাবে মাদক তৈরি বা পাচারে যুক্ত, তাঁদের এবং তাঁদের পরিবারের জন্য এর ফল ভোগ করতে হবে।"
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 18 September 2025 18:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় কিছু ব্যবসায়ী (No Visas For Indian Businesspersons) এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ভিসা বাতিল (Visa) করল আমেরিকা (America)। শুধু তাই নয়, তাঁদের নতুন করে ভিসার আবেদনও খারিজ হয়েছে। কারণ, এই ব্যবসায়ীরা নাকি যুক্ত আমেরিকায় মারাত্মক মাদক ফেন্টানিল-এর ‘প্রিকার্সর’ পাচারের সঙ্গে জড়িত (Drug Trafficking)। বৃহস্পতিবার এমনই এক বিবৃতি জারি করেছে দিল্লির মার্কিন দূতাবাস।
তবে কারও নাম প্রকাশ করেনি দূতাবাস। জানানো হয়েছে, মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরাও আমেরিকা সফরের অযোগ্য বলে ঘোষিত হবেন। এমনকি যেসব সংস্থার বিরুদ্ধে ফেন্টানিলের ‘প্রিকার্সর’ পাচারের অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের শীর্ষ কর্তৃপক্ষ ভিসার আবেদন করলেও তা খতিয়ে দেখা হবে।
দূতাবাসের তরফে বলা হয়েছে, “মাদক পাচারের বিরুদ্ধে আমেরিকা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। যে সব ব্যক্তি বা সংস্থা বেআইনি ভাবে মাদক তৈরি বা পাচারে যুক্ত, তাঁদের এবং তাঁদের পরিবারের জন্য এর ফল ভোগ করতে হবে। তার মধ্যে আমেরিকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা অন্যতম।”
একই সঙ্গে মার্কিন কর্তৃপক্ষ ভারত সরকারের সহযোগিতার প্রশংসা করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা কৃতজ্ঞ ভারতের কাছে, এই যৌথ সমস্যার মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার জন্য। কেবল একসঙ্গে কাজ করলেই এই আন্তর্জাতিক হুমকি থেকে আমাদের দুই দেশের মানুষকে রক্ষা করা সম্ভব।”
ফেন্টানিল আসলে কৃত্রিমভাবে তৈরি এক ধরনের ওপিয়ড, যা হেরোইনের চেয়ে প্রায় ৫০ গুণ বেশি শক্তিশালী। ১৯৬০-এর দশকে চিকিৎসার কাজে, বিশেষ করে ব্যথা কমাতে এর অনুমোদন হয়েছিল। কিন্তু পরে সেটাই আমেরিকায় ওপিয়ড-জনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ হয়ে ওঠে। মার্কিন সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (CDC)-এর তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে এই মাদকের জন্য মৃত্যু হয়েছে ৪৮ হাজারেরও বেশি মানুষের।
মাত্র দুই মিলিগ্রাম ফেন্টানিল প্রাণঘাতী হতে পারে। ফলে দেশটিতে এটি এখন বড়সড় জনস্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি করেছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকা এটিকে ১৮ থেকে ৪৫ বছরের মানুষের মধ্যে মৃত্যুর প্রধান কারণ বলে ঘোষণা করে। সেই সময়ে চিনকে দোষারোপ করা হয় ফেন্টানিল-সম্পর্কিত মাদকের মূল উৎস হিসেবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ নিয়ে কড়া পদক্ষেপও করেন। ফেব্রুয়ারি মাসে চিনা পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক, মেক্সিকো ও কানাডার পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়। পরে শুল্কের হার আরও বাড়ানো হয়।
তীব্র বাণিজ্যযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে চিন ও আমেরিকা। কিন্তু আমেরিকার অভিযোগ, এই দেশগুলির দিক থেকেই ছড়ানো হচ্ছে ফেন্টানিলের জোগান। আর এবার ভারতীয় ব্যবসায়ীদের নামও জুড়ে গেল সেই তালিকায়।