পাকিস্তানে (Pakistan ) কন্ডোমের (condoms) দাম কমানোর তৎপরতায় শাহবাজ শরিফ সরকারের (Shehbaz Sharif government) আর্জি নাকচ করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার (IMF)।

আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার আর্জি নাকচ করে দেওয়ায় দুনিয়ার সামনে মাথা হেঁট হয়ে গিয়েছে ইসলামাবাদের।
শেষ আপডেট: 22 December 2025 14:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানে (Pakistan ) কন্ডোমের (condoms) দাম কমানোর তৎপরতায় শাহবাজ শরিফ সরকারের (Shehbaz Sharif government) আর্জি নাকচ করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার (IMF)। দেশের জনস্ফীতি ও তার সঙ্গে জড়িত দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে রাশ টানতে কন্ডোমের দাম কমানোর বিষয়ে পাকিস্তান অতি সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল মনিটরি ফান্ডের (International Monetary Fund) কাছে তদ্বির করেছিল। তারা অনুরোধ করেছিল, কন্ডোমের দামের উপর গৃহীত জিএসটির হার কমাতে। কিন্তু, সেই আর্জি সাফ নাকচ করে দিয়েছে আইএমএফ। যা ঋণজর্জর পাকিস্তানের বর্তমান রাজনীতিতে ঘোর সঙ্কট ডেকে এনেছে।
পাকিস্তানে জনস্ফীতির হার গোটা বিশ্বে সর্বোচ্চ। তার সঙ্গে বাড়ছে জিনিসপত্রের দাম। তাই জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমাতে পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চাইছিলেন কন্ডোমের ব্যবহার বাড়াতে শুল্ক ছাড়ের কথা। কিন্তু, আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার সেই আর্জি নাকচ করে দেওয়ায় দুনিয়ার সামনে মাথা হেঁট হয়ে গিয়েছে ইসলামাবাদের।
দেশে কন্ডোমের দাম কমাতে কেন আইএমএফের অনুমতি চেয়েছিল পাকিস্তান? আর কেনই বা বিভিন্ন দেশকে ঋণদানকারী আন্তর্জাতিক এই সংস্থা সেদেশের আর্জি ফিরিয়ে দিল? কীভাবে কন্ডোমের দাম না কমলে জনবিস্ফোরণে পাকিস্তান আরও ঘোরতর সমস্যায় পড়তে চলেছে? ভারতের সঙ্গে পাকিস্তান কন্ডোমের দামের তফাতই বা কত? পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সেদেশে কন্ডোমের উপর ১৮ শতাংশ হার জিএসটি বসে। যার ফলে সেদেশে কন্ডোম বেশ দামি। আইএমএফ স্পষ্ট বলে দিয়েছে, তারা এই প্রস্তাবে রাজি নয়। এ ধরনের পদক্ষেপ পরবর্তী বাজেটে আলোচনা হতে পারে।
তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে, পাকিস্তান কেন আইএমএফের নির্দেশ শুনতে বাধ্য? কারণ, পাকিস্তান বর্তমানে অর্থ ভাণ্ডারের ঋণভারে কপর্দকশূন্য। তাদের অনেক বিধিনিষেধের মধ্য দিয়ে দেশের খরচ চালাতে হচ্ছে। ঋণদানকালে সংস্থার বেশ কিছু শর্ত মেনে চলতে হচ্ছে ইসলামাবাদকে। যার মধ্যে কর ছাঁটাই না করতে পারা, খরচ কমানো এবং বেশি পরিমাণে রাজস্ব সংগ্রহের পদক্ষেপের মতো কঠোর শর্ত।
আইএমএফের কাছে পাকিস্তানি রাজস্ব মন্ত্রক বলেছিল, এই রাজস্ব ছাড়ে ৪০০-৬০০ মিলিয়ন পাকিস্তানি টাকার স্বস্তি মিলবে। তাদের ই-মেল ছাড়াও শাহবাজ শরিফ খোদ ভার্চুয়াল বৈঠকে এই অনুরোধ জানান। কিন্তু, আইএমএফ পাকিস্তানের পাঠানো কন্ডোম সহ, স্যানিটারি প্যাড ও বেবি ডায়াপারে জিএসটি ছাড়ের প্রস্তাবে না করে দিয়েছে।
ভারতে সাধারণ কন্ডোমের ছোট প্যাকেটের দাম ৫০-১০০ টাকা। আরও একটু শৌখিন কন্ডোমের দাম বেশি হলেও তা মধ্যবিত্তের নাগালে রয়েছে। জনস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলি থেকে ভারতে কন্ডোম বিনামূল্যে বিতরিত হয়। উল্টোদিকে, পাকিস্তানে ছোট কন্ডোমের প্যাকেটের দাম ২০০-৫০০ পাকিস্তানি টাকা (ভারতীয় মুদ্রায় ৯০-১৬০ টাকা)। আর শৌখিন কন্ডোমের দাম ১০০০-১৪০০ পাকিস্তানি টাকা (ভারতীয় মুদ্রায় ৪৫০-৬৩০ টাকা)।