তবে এখনও পর্যন্ত ইয়েমেন সরকারের তরফে এই সিদ্ধান্তের কোনও সরকারি লিখিত স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি। ভারতের বিদেশমন্ত্রকও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

নিমিশা প্রিয়া
শেষ আপডেট: 29 July 2025 08:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০১৭ সালের ইয়েমেনে খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত কেরলের নার্স নিমিশা প্রিয়ার (Nimisha Priya) মৃত্যুদণ্ড (death sentence) বাতিল করেছে ইয়েমেন (Yemen) সরকার— এমনটাই জানিয়েছে ভারতের গ্র্যান্ড মুফতি কান্থাপুরম এপি আবুবকর মুসলিয়ারের দফতর।
এই ঘোষণা আসে কয়েক মাসব্যাপী কূটনৈতিক আলোচনার পর, যখন ইয়েমেনের রাজধানী সানায় এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের সিদ্ধান্তকে বদলে পুরোপুরি বাতিল করার রায় নেওয়া হয়।
গ্র্যান্ড মুফতির দফতরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “নিমিশা প্রিয়ার মৃত্যুদণ্ড, যা আগেই স্থগিত হয়েছিল, তা এখন সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়েছে। সানায় এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।”
তবে এখনও পর্যন্ত ইয়েমেন সরকারের তরফে এই সিদ্ধান্তের কোনও সরকারি লিখিত স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি। ভারতের বিদেশমন্ত্রকও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
এর আগে, ১৬ জুলাই নিমিশার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গ্র্যান্ড মুফতি আবুবকর মুসলিয়ারের সরাসরি হস্তক্ষেপে মৃত্যুদণ্ডের আগের দিন তা স্থগিত হয়ে যায়। তিনি ইয়েমেনি কর্তৃপক্ষের কাছে দয়া প্রার্থনা করে আবেদন জানান।
মায়ের মৃত্যুদণ্ডের (Death Row) আদেশ যেন কার্যকর না হয়! এই আবেদন নিয়ে ইয়েমেনে পৌঁছয় ১৩ বছরের মিশেল। বন্দি ভারতীয় নার্স নিমিশার (Nimisha Priya) মেয়ে সে।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মাকে চোখে দেখেনি মিশেল। তার মধ্যেই খবর আসে মায়ের মৃত্যুদণ্ডের। তাই নিজের মাকে ফিরিয়ে আনতে করুণ আকুতি তাঁর— 'আই লাভ মাই মাম্মি, দয়া করে আমার মাকে ফিরিয়ে দিন।'
কেন মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল নিমিশার?
পালক্কাড জেলার বাসিন্দা, ৩৮ বছর বয়সী নিমিশা প্রিয়া ২০০৮ সালে চাকরির খোঁজে ইয়েমেনে যান। একজন প্রশিক্ষিত নার্স হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং পরে স্থানীয় এক নাগরিক তালাল আব্দো মাহদির সঙ্গে ব্যবসায়িক অংশীদার হয়ে সানায় একটি ক্লিনিক চালান।
কিন্তু কিছুদিন পর সম্পর্কের অবনতি ঘটে। অভিযোগ, মাহদি তাঁকে মানসিকভাবে হেনস্থা করতেন, মিথ্যা দাবি করেন যে তিনি তাঁর স্বামী, এমনকি নিমিশার পাসপোর্টও কেড়ে নেন, যাতে তিনি দেশে ফিরতে না পারেন।
২০১৭ সালে নিজের নথিপত্র উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে নিমিশা মাহদিকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান বলে অভিযোগ। ওষুধের ওভারডোজেই মাহদির মৃত্যু হয়। এরপর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ২০১৮ সালে নিমিশাকে দোষী সাব্যস্ত করে ইয়েমেনের আদালত, এবং ২০২০ সালে তাঁর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়।
২০২৪ সালের শেষ এবং ২০২৫ সালের শুরুর দিকে ইয়েমেনি প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমি ও হুথি নেতা মাহদি আল-মাশাত তাঁর মৃত্যুদণ্ডে সই করেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক ও বিভিন্ন ধর্মীয় নেতার ধারাবাহিক কূটনৈতিক তৎপরতায় সেই রায় স্থগিত হয়ে যায়।