Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: ‘কাছের অনেককে বলেছিলাম, বৈভবকে প্রথম বলে আউট করব!’ কথা দিয়ে কথা রাখলেন প্রফুল্লI PAC-Vinesh Chandel: ভোর পর্যন্ত আদালতে শুনানি, ১০ দিনের ইডি হেফাজতে আইপ্যাক ডিরেক্টর ভিনেশ'নিষিদ্ধ' ভারতীয় গানে প্রয়াত আশা ভোঁসলেকে শেষ শ্রদ্ধা! পাক চ্যানেলকে শোকজ, সমালোচনা দেশের ভিতরেই হরমুজ মার্কিন নৌ অবরোধে কোণঠাসা ইরান! তেল রফতানি প্রায় থমকে, দিনে ক্ষতি ৪৩৫ মিলিয়ন ডলারIPL 2026: আইপিএল অভিষেকে সেরা বোলিং পারফরম্যান্স! কে এই সাকিব হুসেন? ৪৯ লাখের টিকিট থাকা সত্ত্বেও বোর্ডিং বাতিল! বিমান সংস্থার সিইও-র বিরুদ্ধে FIR-এর নির্দেশ আদালতেরশ্রমিকদের বিক্ষোভে অশান্ত নয়ডা! পাক-যোগে ষড়যন্ত্র? তদন্তে পুলিশ, ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩০০ নিজেকে ‘যিশু’ সাজিয়ে পোস্ট! তীব্র বিতর্কের মুখে ছবি মুছলেন ট্রাম্প, সাফাই দিয়ে কী বললেন?IPL 2026: পয়লা ওভারেই ৩ উইকেট, স্বপ্নের আইপিএল অভিষেক! কে এই প্রফুল্ল হিঙ্গে?ইরান-মার্কিন বৈঠক ব্যর্থ নেতানিয়াহুর ফোনে! ট্রাম্পের প্রতিনিধিকে কী এমন বলেছিলেন, খোলসা করলেন নিজেই

এনআইএ-র জালে মার্কিন ‘বিদ্রোহী প্রশিক্ষক’, কে এই ম্যাথিউ ভ্যানডাইক?

মিজোরাম সীমান্ত দিয়ে মায়ানমারে ড্রোন পাচারের অভিযোগে মার্কিন নাগরিক ম্যাথিউ ভ্যানডাইককে গ্রেফতার করল এনআইএ। জঙ্গি প্রশিক্ষণের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য।

এনআইএ-র জালে মার্কিন ‘বিদ্রোহী প্রশিক্ষক’, কে এই ম্যাথিউ ভ্যানডাইক?

ম্যাথিউ ভ্যানডাইক

অন্বেষা বিশ্বাস

শেষ আপডেট: 17 March 2026 23:47


ভারতে সন্ত্রাসদমন অভিযানে গ্রেফতার এক মার্কিন নাগরিককে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। ওই ব্যক্তির নাম ম্যাথিউ অ্যারন ভ্যানডাইক (৪৬)। তিনি পেশায় তথ্যচিত্র নির্মাতা, প্রাক্তন যুদ্ধবন্দি এবং বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় বিদ্রোহীদের প্রশিক্ষক হিসেবেও পরিচিত।

গত ১৩ মার্চ ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) এক অভিযানে সাতজন বিদেশিকে গ্রেফতার করে। তাঁদের মধ্যে ছয়জন ইউক্রেনের নাগরিক এবং একজন মার্কিন ভ্যানডাইক। তাঁকে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে আটক করে অভিবাসন দফতর, অন্যদিকে তিনজন করে ইউক্রেনীয় নাগরিককে লখনউ ও দিল্লির বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়।

তদন্তে জানা গেছে, তাঁরা পর্যটক ভিসায় ভারতে এসে গুয়াহাটি হয়ে মিজোরামে প্রবেশ করেন এবং অনুমতি ছাড়াই সংরক্ষিত এলাকায় ঢোকেন। এনআইএ-র দাবি, তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল মায়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া, যাতে তারা উত্তর-পূর্ব ভারতে হামলা চালাতে পারে।

ভ্যানডাইক প্রথম আলোচনায় আসেন লিবিয়ার গৃহযুদ্ধের সময়, যখন তিনি মুয়াম্মর গদ্দাফির বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের পক্ষে লড়াই করেন এবং পরে যুদ্ধবন্দি হন। ২০১১ সালে তিনি অবৈধভাবে লিবিয়ায় প্রবেশ করেন, বিদ্রোহী দলে যোগ দেন, হামলার মুখে পড়েন এবং ছয় মাস বন্দি থাকেন। পরে কারাগার থেকে পালিয়ে যান।

এর আগে ২০০৮ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে ইরাকে তাঁকে অন্তত ২০ বার আটক করা হয়েছিল। এক ঘটনায় তাঁকে ও তাঁর সহকর্মীকে আল-কায়দা সন্দেহে মারধর ও জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। ইরানের সংবাদমাধ্যম তখন তাঁদের গুপ্তচর বলে দাবি করেছিল, যদিও তা প্রমাণিত হয়নি।

পরবর্তীতে তিনি সিরিয়ায় গিয়ে তথ্যচিত্র নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্রোহীদের অস্ত্র ব্যবহারের পরামর্শ দেন। পরে ইরাকে গিয়ে ২০১৪ সালে ‘সন্স অব লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল’ নামে একটি সংস্থা গড়ে তোলেন। এই সংস্থা নিজেকে অলাভজনক দাবি করলেও, বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সামরিক প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়ার কাজ করে।

২০২২ সাল থেকে ইউক্রেনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন ভ্যানডাইক। শুধু প্রশিক্ষক হিসেবেই নয়, তিনি ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীতেও যোগ দেন। পরে তাঁর বক্তব্যে রাশিয়ার মিত্র দেশগুলির বিরুদ্ধেও অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত মিলতে শুরু করে।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, তাঁর দল ইউরোপ থেকে ড্রোন নিয়ে এসে মিজোরাম সীমান্ত পেরিয়ে মায়ানমারে প্রবেশ করেছিল বলে অভিযোগ। এই ড্রোনগুলি বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলির হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে সন্দেহ।

ভ্যানডাইকের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র Point and Shoot ২০১৪ সালে ট্রাইবেকা চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা তথ্যচিত্রের পুরস্কার পায়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও তাঁকে নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

তাঁকে ঘিরে সিআইএ-র সঙ্গে যোগাযোগের জল্পনাও রয়েছে। যদিও কোনও সরকারি প্রমাণ নেই এবং ভ্যানডাইক নিজেও তা অস্বীকার করেছেন। জানা যায়, তিনি একসময় সিআইএ-তে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু পলিগ্রাফ পরীক্ষায় সফল হননি।

এনআইএ-র এই গ্রেফতারি নিয়ে নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ, সংরক্ষিত এলাকায় বিদেশিদের প্রবেশ এবং সীমান্ত পেরিয়ে বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগাযোগ—এই বিষয়গুলি দেশের নিরাপত্তার পক্ষে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা স্পষ্ট বার্তা দেয়, ভারত কোনওভাবেই নিজের ভূখণ্ডকে আন্তর্জাতিক সংঘাতের মঞ্চ হতে দেবে না। তদন্তের মাধ্যমে এই চক্রের পেছনে আরও বড় কোনও নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


```