ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানায়, এই হামলা শুধু একটি নৃশংস হিংসার ঘটনা নয় বরং আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের উপর সরাসরি আঘাত। পাশাপাশি এটি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুতর হুমকি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 17 March 2026 12:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে ভয়াবহ বিমান হামলার (Pakistan Airstrike On Afghanistan Kabul) ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল ভারত (India On Kabul Attack)। একটি বড় হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ ওঠার পর নয়াদিল্লি এই ঘটনাকে 'নির্মম ও নিন্দনীয়' বলে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গণহত্যাকে সামরিক অভিযান বলে ব্যাখ্যার চেষ্টা করার অভিযোগও তুলেছে ভারত।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানায়, এই হামলা শুধু একটি নৃশংস হিংসার ঘটনা নয় বরং আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের উপর সরাসরি আঘাত। পাশাপাশি এটি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুতর হুমকি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যাকে আড়াল করতে পাকিস্তান বারবার সীমান্তের বাইরে অস্থিতিশীলতা তৈরি করার পথ বেছে নিচ্ছে।
কাবুলে দু'হাজার বেডের একটি বড় হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রকে ঘিরে এই হামলার অভিযোগ উঠেছে। আফগান প্রশাসনের দাবি, বিমান হামলার জেরে অন্তত ৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও প্রায় ২৫০ মানুষ আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণে হাসপাতালের একটি বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যায় বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
বিষয়টি ওটে রাষ্ট্রসংঘেও। নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে নয়াদিল্লি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আফগান ভূখণ্ডে এই ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইন এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘ সনদের প্রকাশ্য লঙ্ঘন। আফগানিস্তান পরিস্থিতি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রসঙ্ঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি হরিশ পার্বতানেনি। তিনি বলেন, আফগানিস্তানের উপর বিমান হামলা শুধু আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনই নয়, এটি একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রতি সরাসরি অবমাননা।
বৈঠকে ভারত পাকিস্তানের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে। ভারতের বক্তব্য, একদিকে ধর্মীয় সংহতির কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে পবিত্র রমজান মাসের মধ্যেই এমন হামলা চালানো হচ্ছে যাতে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। এই আচরণকে ভারত ভণ্ডামি বলেই উল্লেখ করেছে।
আফগান প্রশাসনের মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিত্রাত জানিয়েছেন, সোমবার রাতে প্রায় নয়টার সময় এই হামলা চালানো হয়। তাঁর কথায়, হাসপাতালের ভিতরে চিকিৎসাধীন বহু মানুষ সেই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ভবনের বড় অংশ ধসে পড়ে এবং বহু মানুষ চাপা পড়েন।
আর এক মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেন, বেসামরিক পরিকাঠামোর উপর হামলা চালিয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। তাঁর দাবি, চিকিৎসাধীন বহু রোগী এই হামলার শিকার হয়েছেন। ঘটনাটিকে তিনি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বলেও উল্লেখ করেন।
তবে পাকিস্তান এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। ইসলামাবাদের তরফে জানানো হয়েছে, তারা কোনও হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলা চালায়নি। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারারের বক্তব্য, অভিযানের লক্ষ্য ছিল কেবল সামরিক পরিকাঠামো।
তাঁর দাবি, আফগানিস্তানের কিছু অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রযুক্তিগত সহায়তা কেন্দ্র এবং গোলাবারুদ মজুতস্থল ছিল। সেই সব জায়গায় নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
এই ঘটনার জেরে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সম্পর্ক নতুন করে উত্তেজনার মুখে পড়েছে। সীমান্ত পরিস্থিতি আগেই টানটান ছিল। তার মধ্যেই এই হামলার অভিযোগ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।