মাত্র ৪৮ ঘণ্টা, এরই মধ্যেই নিজের ১০০ দফা পরিকল্পনা জনসমক্ষে এনেছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। এর মাধ্যমে সরকারি সংস্থাগুলির আমূল সংস্কার করারই পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

বলেন্দ্র শাহ
শেষ আপডেট: 30 March 2026 18:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টানটান উত্তেজনার পরে অবশেষে নেপালের মসনদে বসেছেন বলেন্দ্র শাহ (Balendra Shah)। শপথ গ্রহণের মাত্র একদিনের মধ্যেই গ্রেফতার করা করা হয় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি ওলি (K.P. Sharma Oli arrested) এবং প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককেও (Ramesh Lekhak)। এবার নেপালে বন্ধ হতে চলেছে ছাত্র রাজনীতি। যে যুব সমাজের আন্দলনের উপরে ভরসা করে নেপালের গদি পেলেন বলেন্দ্র, সেই যুব সমাজকেই প্রায় রাজনীতির আঙিনার বাইরে ছুঁড়ে ফেলার ব্যবস্থা করেছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী।
মাত্র ৪৮ ঘণ্টা, এরই মধ্যেই নিজের ১০০ দফা পরিকল্পনা জনসমক্ষে এনেছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। এর মাধ্যমে সরকারি সংস্থাগুলির আমূল সংস্কার করারই পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু, বিশেষজ্ঞদের ধারণা বলেন্দ্রর এই সংস্কার আসলে জেন জি আন্দোলনের ডানা কাটার সমতূল। এই ১০০ দফা পরিকল্পনার মধ্যে অন্যতম হল শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতি মুক্ত করা, শিক্ষক এবং অন্যান্য সরকারি কর্মচারীদের রাজনীতি থেকে দূরে রাখা-সহ বেশ কিছু পরিকল্পনা।
বহু বছর ধরেই মাওবাদী দলগুলির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়-সহ বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গনে পরীক্ষায় দেরি হওয়া, ছাত্র-শিক্ষকদের উপর আক্রমণের খবর শোনা গিয়েছে। জানা গিয়েছে বলেন্দ্রর পরিকল্পনায় রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনৈতিক দলগুলির ইউনিয়নকে সরিয়ে দেওয়া। এর পরিবর্তে, আগামী ৯০ দিনের মধ্যে অরাজনৈতিক ছাত্র কাউন্সিল তৈরি পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। এই সিদ্ধান্ত বলেন্দ্রর প্রতিষ্ঠান বিরোধী ভাবমূর্তির সঙ্গে খাপ খায় না বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। যুব আন্দলনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করার পরে তিনি কার্যত এটাই প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন যে পড়ুয়াদের সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক থাকার প্রয়োজন নেই। বিশেষজ্ঞদের ধারণা বলেন্দ্রর এই সিদ্ধান্ত নেপালের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করবে।
বলেন্দ্রর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নেপালের শিক্ষক এবং সরকারি কর্মচারীরা কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। সরকারি সংস্থাগুলির মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলির ট্রেড ইউনিয়ন বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। বলেন্দ্রর অনুগামীদের দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি কাজে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ হবে। যদিও, অনেকের ধারণা কর্মচারীদের সুরক্ষা নষ্ট হলে তা আসলে সরকার বিরোধী মনোভাবের জন্ম দেবে।
বলেন্দ্রর পরিকল্পনা আসলে নেপালের শিক্ষা ব্যবস্থাকে গোড়া থেকে বদলে দেওয়ার পরিকল্পনা বলেই মনে করা হচ্ছে। আগামীদিনে শিক্ষাবর্ষ, পরীক্ষা এবং পরীক্ষার ফল প্রকাশ সংক্রান্ত কাজের সময়সীমা বেঁধে দিতে চাইছেন তিনি। পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত অন্তর্বর্তী পরীক্ষা তুলে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।
বাংলাদেশের গণ আন্দোলনের ঢঙে এবার নেপালের জেন জি আন্দোলনের শহীদদের পরিবারকে চাকরি দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। নেপালের বিদ্যুৎ বিভাগ ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। সেখানেই বলা হয়েছে শহীদ পড়ুয়াদের পরিবারের একজনকে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে নিজেদের জেলাতেই চাকরি দেওয়া হবে।
গত বছর নেপালে জেন জ়ি আন্দোলনের (Gen Z Protest) জেরে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সমাজমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা ও সরকারের দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে এই প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল। পরে তা রূপ নেয় বড়সড় গণআন্দোলনে। বিক্ষোভে প্রাণ হারান ৭০ জনেরও বেশি মানুষ, যাঁদের মধ্যে ১৯ জন ছিলেন তরুণ।