নেতানিয়াহুর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গাজায় হামাস, লেবাননে হিজবুল্লাহ, সিরিয়ায় আসাদ সরকার, ইরাকের মিলিশিয়া এবং ইয়েমেনের হুথিদের ব্যবহার করে ইজরায়েলকে চারদিক দিয়ে ঘিরে ফেলার ছক কষেছিল ইরান। কিন্তু যুদ্ধের মোড় এখন উল্টে গিয়েছে। ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়, “ওরা আমাদের ধ্বংসের হুমকি দিয়েছিল, আর এখন ওরা নিজেরাই টিকে থাকার লড়াই লড়ছে।”

ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু
শেষ আপডেট: 12 April 2026 10:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরব দুনিয়ার রণক্ষেত্রে এখনও বারুদের গন্ধ। ইসলামাবাদের শান্তি বৈঠক কোনও রফাসূত্র ছাড়াই ভেস্তে যাওয়ার পর (US-Iran Islamabad talks failure) এবার সরাসরি ইরানকে নিশানা করে মুখ খুললেন ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu)। তাঁর সাফ দাবি, যে ইরান একসময় ইজরায়েলকে মানচিত্র থেকে মুছে দেওয়ার হুমকি দিত, আজ তারা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করতে হিমশিম খাচ্ছে। নেতানিয়াহুর কথায়, “ইরান আমাদের শ্বাসরোধ করতে চেয়েছিল, এখন আমরাই ওদের গলা টিপে ধরেছি (Netanyahu Iran survival comment)।”
‘অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই লড়ছে ইরান’
রবিবার এক ভাষণে নেতানিয়াহু দাবি করেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ অভিযানে কার্যত কোমর ভেঙে গিয়েছে তেহরানের। তিনি বলেন, “ইরানের পরমাণু এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রোগ্রাম আমরা গুঁড়িয়ে দিতে সফল হয়েছি। এই লড়াই এখনও শেষ হয়নি, তবে আমরা ঐতিহাসিক সাফল্য পেয়েছি।”
নেতানিয়াহুর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গাজায় হামাস, লেবাননে হিজবুল্লাহ, সিরিয়ায় আসাদ সরকার, ইরাকের মিলিশিয়া এবং ইয়েমেনের হুথিদের ব্যবহার করে ইজরায়েলকে চারদিক দিয়ে ঘিরে ফেলার ছক কষেছিল ইরান। কিন্তু যুদ্ধের মোড় এখন উল্টে গিয়েছে। ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়, “ওরা আমাদের ধ্বংসের হুমকি দিয়েছিল, আর এখন ওরা নিজেরাই টিকে থাকার লড়াই লড়ছে।”
ইসলামাবাদে ব্যর্থ ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক
নেতানিয়াহুর এই আক্রমণাত্মক মেজাজ এমন এক সময়ে এল, যখন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আমেরিকা ও ইরানের ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনা কোনও ফল ছাড়াই শেষ হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন যথেষ্ট নমনীয়তা দেখালেও ইরানের কাছ থেকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার কোনও লিখিত গ্যারান্টি পাওয়া যায়নি। ভ্যান্সের কথায়, “এই খবরটা খারাপ, তবে আমেরিকার চেয়ে ইরানের জন্য অনেক বেশি খারাপ।”
অন্যদিকে, ইরান এই ব্যর্থতার দায় পুরোপুরি চাপিয়েছে ওয়াশিংটনের ওপর। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি-র দাবি, তেহরান একাধিক সদর্থক প্রস্তাব দিলেও আমেরিকার ‘অযৌক্তিক আবদার’-এর কারণে আলোচনা ভেস্তে গিয়েছে।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও হরমুজ প্রণালীর উত্তেজনা
এই পরিস্থিতির মাঝেই সুর চড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। তিনি দাবি করেছেন, সামরিকভাবে আমেরিকা ইতিমধ্যেই জিতে গিয়েছে এবং ইরানের সামরিক শক্তি কার্যত নিশ্চিহ্ন। শুধু তাই নয়, চিন যদি এই যুদ্ধে ইরানকে সমর্থন করে, তবে বেজিংকেও বড় সমস্যার মুখে পড়তে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প।
উত্তেজনার পারদ আরও চড়েছে হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন রণতরীর প্রবেশ নিয়ে। আমেরিকার দাবি, ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড (IRGC) যে মাইন বিছিয়েছিল, তা পরিষ্কার করতেই তাদের যুদ্ধজাহাজ সেখানে ঢুকেছে। যদিও ইরান এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে পালটা হুমকি দিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে কোনও বিদেশি রণতরী ঢুকলে তার পরিণাম হবে ভয়ঙ্কর।
শান্তির আশা কি শেষ?
বৈঠক ভেস্তে গেলেও হাল ছাড়তে নারাজ পাকিস্তান। পাক বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার জানিয়েছেন, তাঁরা দুই পক্ষকেই যুদ্ধবিরতি মেনে চলার অনুরোধ করেছেন এবং আগামী দিনেও আলোচনার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। কিন্তু নেতানিয়াহুর মন্তব্য এবং রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি বলছে, শান্তির পথ এই মুহূর্তে অত্যন্ত সংবেদনশীল।