নেপালে বিক্ষোভ ক্রমেই অগ্নিগর্ভ। পুলিশের গুলিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৬। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সন্ধ্যায় জরুরি বৈঠকে বসছে নেপালের মন্ত্রিসভা।

ছবি- সংবাদ সংস্থা
শেষ আপডেট: 8 September 2025 17:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্রমশ অগ্নিগর্ভ হচ্ছে নেপালের পরিস্থিতি। সংসদ ভবনের পর সচিবালয়ের দিকে এগোচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। জ্বলছে একাধিক এলাকা। সবচেয়ে উত্তপ্ত কাঠমাণ্ডু। পুলিশের গুলিতে মৃত বেড়ে হয়েছে ১৬। জখম শতাধিক।
নেপালের সামাজিক মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে সাধারণ মানুষ। প্রথমে বিষয়টি শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরে ধীরে ধীরে উত্তাপ বাড়তে থাকে। সংসদে প্রবেশ করেন বিক্ষোভকারীদের একাংশ। সেখানে ভাঙচুরেরও অভিযোগ ওঠে। জানা গিয়েছে, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। সেই সূত্রেই গুলিতে মৃত্যু হয়েছে এপর্যন্ত ১৬ জনের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোতায়েন করা হয়েছে সেনা।
আজ সন্ধেয় নেপালে ক্যাবিনেটের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে সেখানে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু অলি সরকারের বিরুদ্ধে ক্রমেই বাড়ছে ক্ষোভ।
অশান্তির জেরে কাঠমান্ডু জেলা প্রশাসন কার্যালয় কারফিউ জারি করেছে। প্রথমে শুধু বানেশ্বর এলাকায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও পরে তা বাড়িয়ে রাষ্ট্রপতির বাসভবন শীতলনিবাস, উপ-রাষ্ট্রপতির বাসভবন লাইনচৌর, মহারাজগঞ্জ, সিংহদুরবার, প্রধানমন্ত্রী বাসভবন বালুওয়াটার-সহ একাধিক সংবেদনশীল এলাকায় জারি হয়েছে। প্রধান জেলা কর্মকর্তা ছাবিলাল রিজাল স্থানীয় প্রশাসন আইনের ৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী এই নির্দেশ দেন। দুপুর ১২টা ৩০ থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কারফিউ কার্যকর থাকবে। ওই সময় জনসমাগম, মিছিল, অবরোধ বা ঘেরাও পুরোপুরি নিষিদ্ধ থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির নিজ শহর দামাকেও উত্তপ্ত করেছে আন্দোলন। সেখানেও একাধিক মানুষ জখম হয়েছেন।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি নেপাল সরকার ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এক্স-সহ ২৬টি ‘অনিবন্ধিত’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাপ নিষিদ্ধ করেছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে তরুণ প্রজন্ম। তাঁদের অভিযোগ, দেশে চরমে পৌঁছেছে দুর্নীতি, যা আড়াল করতে ব্যর্থ সরকার কণ্ঠরোধ করছে সাধারণ মানুষের।