নেপাল ফের অশান্ত। ওলির ইউএমএল দলের সঙ্গে জেন জি বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে সিমারা-সহ একাধিক এলাকায় কার্ফু জারি করেছে প্রশাসন। রাজনৈতিক টানাপোড়েনে উত্তপ্ত পরিস্থিতি।

ঘটনাস্থলের ছবি (সংগৃহীত)
শেষ আপডেট: 20 November 2025 18:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নেপালে ফের অশান্তি। গত সেপ্টেম্বরে ‘জেন জি’ (Gen Z) আন্দোলনের জেরে ক্ষমতা হারিয়েছিল কেপি শর্মা ওলি ও তাঁর দল কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপাল (UML)। কয়েক মাস পেরতে সেই দলই ফের ময়দানে নেমেছে। আর তাদের সক্রিয়তায় ফের ক্ষোভে ফুটছে ‘জেন জি’ প্রতিবাদকারীরা। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে যে প্রশাসনকে কয়েকটি জায়গায় কার্ফু (Curfew) জারি করতে হয়েছে বৃহস্পতিবার।
এদিন সকাল প্রায় ১১টা নাগাদ সিমারা চকে ‘জেন জি’ আন্দোলনকারীদের একাংশ জমায়েত করেন। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ বিভিন্ন পদক্ষেপ করে। শুধু শহরের কেন্দ্রীয় চত্বরই নয়, সিমারা বিমানবন্দরের কাছেও ‘জেন জি’ কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন UML নেতা-কর্মীরা। ওই এলাকায় পরিস্থিতি ঘোর অশান্ত হয়ে ওঠার নেপথ্যে রয়েছে ওলি-র দুই ঘনিষ্ঠ নেতা- মহেশ বসনেট (Mahesh Basnet) এবং শঙ্কর পোখারেল (Shankar Pokharel)। ওই দু’জন দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে কাঠমান্ডু থেকে বিমানে সিমারা পৌঁছন। তাঁদের আগমনের খবর ছড়াতেই আগুনে ঘি পড়ে।
এর পরই জেলা স্তরের ‘জেন জি’ সমন্বয়ক সম্রাট উপাধ্যায় (Samrat Upadhyay) সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তড়িঘড়ি প্রতিবাদের ডাক দেন। বুধবার বিমানবন্দরে ওই দুই নেতা নেমে পড়তেই ‘খুনিদের সরকার’ বলে স্লোগান দিতে শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। এরপর UML কর্মীদের সঙ্গে বেধে যায় সংঘর্ষ। জখম হন কমপক্ষে ছ’জন বিক্ষোভকারী। তাঁদের কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো হয়।
অন্য দিকে, UML-র ছ’জন কর্মীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেফতার করেনি। পুলিশি নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষুব্ধ হয়ে নতুন করে রাস্তায় নেমেছেন ‘জেন জি’ কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, সরকার বদলালেও প্রশাসনের মনোভাব বদলায়নি। এর জেরে সিমারায় পরিস্থিতি আরও অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। বিক্ষোভের চোটে বৃহস্পতিবার কিছুক্ষণের জন্য বিমান চলাচল বন্ধ রাখতে হয় সিমারা বিমানবন্দরে (Simara Airport)।
শেষ পর্যন্ত প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সিমারা ও আশপাশের এলাকায় কার্ফু জারি করেছে। দুপুর ১২টা ৪৫ থেকে সন্ধ্যে ৮টা পর্যন্ত কার্ফু বলবৎ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
গত সেপ্টেম্বরেই নেপালে বিস্তর উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব ঘিরে। সেই ঘটনার পর থেকেই তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধতে থাকে। ধীরে ধীরে তা রাজপথে নেমে আসে এবং সেই ঢেউয়ে ভেসে গিয়েছিল ওলি-র সরকার। পরে একটি অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়।
এদিকে তার মধ্যেই আগামী ৫ মার্চ নেপালে নির্বাচনের দিন ঘোষণা হয়েছে। ভোটের আগে নিজের শক্তি ফিরে পেতে মরিয়া UML নেতৃত্ব। কিন্তু ‘জেন জি’ পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, ওলি-র দলকে তারা আর রাজনীতির ময়দানে দেখতে চায় না। এই অবস্থায় নেপালের অস্থিরতা যে আরও খানিকটা দীর্ঘস্থায়ী হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।