ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের কথায়, আমেরিকার শুল্ক নীতির জেরে ইউক্রেন যুদ্ধ কৌশল নিয়ে রাশিয়ার থেকে ব্যাখ্যা চাইতে বাধ্য হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

ভ্লাদিমির পুতিন এবং নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 26 September 2025 17:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাশিয়ান তেল কেনার (Russian Crude Oil) অপরাধে ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ (মোট ৫০ শতাংশ) শুল্ক (US Tariff) চাপানো হয়েছে। এমনই জানিয়েছে আমেরিকা। আর এই বিষয়ে ন্যাটোর মহাসচিব (NATO) যে দাবি করেছেন তা নিয়ে এখন আলোচনা তুঙ্গে। জানিয়েছেন, শুল্ক ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই নাকি নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) ফোন করেছিলেন ভ্লাদিমির পুতিনকে (Vladimir Putin)।
ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের কথায়, আমেরিকার শুল্ক নীতির জেরে ইউক্রেন যুদ্ধ (Russia Ukraine War) কৌশল নিয়ে রাশিয়ার থেকে ব্যাখ্যা চাইতে বাধ্য হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ (UN) সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ট্রাম্পের শুল্ক সিদ্ধান্তে ভারতের ওপর বড় প্রভাব পড়েছে। তাই দিল্লি এখন লাগাতার পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলছে।”
রুটের বক্তব্য অনুযায়ী, আমেরিকার এই পদক্ষেপ ঘুরপথে রাশিয়াকেও চাপের মুখে ফেলছে। তিনি দাবি করে বলেন, “মোদী পুতিনকে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন একই সঙ্গে কৌশলটাও বোঝার চেষ্টা করছেন। কারণ আমেরিকার শুল্কনীতিতে তাঁর দেশ ক্ষতিগ্রস্ত।”
গত মাসেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক এবং রাশিয়া থেকে আমদানি করা তেলের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল, রাশিয়ার থেকে জ্বালানি কেনা থেকে ভারতকে বিরত রাখা। ওয়াশিংটনের যুক্তি, রাশিয়া থেকে আমদানি মানেই ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোকে অর্থসাহায্য করা।
ভারতের পক্ষ থেকে অবশ্য এই পদক্ষেপকে ‘অন্যায্য’ বলা হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, বিপুল জনসংখ্যার দেশে সাশ্রয়ী শক্তি সরবরাহ নিশ্চিত করতে রাশিয়ার তেল অপরিহার্য। একই সঙ্গে দিল্লির অভিযোগ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন-সহ বহু ন্যাটো সদস্যই এখনও রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করছে, অথচ ভারতকে আলাদা করে চাপ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, বাণিজ্য বিরোধ মেটাতে নিউইয়র্কে আলোচনায় বসেছেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় প্রতিনিধি দল ও মার্কিন প্রশাসন। ট্রাম্প প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছে, ন্যাটো দেশগুলি সম্মিলিতভাবে রাশিয়ার তেল আমদানি বন্ধে রাজি হলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও বড় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে।
সব চাপের মাঝেও ট্রাম্প ও মোদী প্রকাশ্যে একে অপরের সঙ্গে সৌহার্দ্যের বার্তা দিয়েছেন। ট্রাম্প সম্প্রতি মোদীকে ‘ভাল বন্ধু’ বলেছেন, আর প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, আলোচনার মাধ্যমে ভারত–আমেরিকা সম্পর্কের নতুন দিগন্ত খুলবে বলে তিনি আশাবাদী।
যদিও রুটের এই মন্তব্যের এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি দিল্লি বা মস্কো।