লাদাখে চলা অশান্তির আবহে গ্রেফতার হলেন আন্দোলনের অন্যতম মুখ সোনম ওয়াংচুক। প্ররোচনামূলক মন্তব্য করে প্রতিবাদীদের উস্কানি দেওয়ার অভিযোগেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আমির খান এবং সোনম ওয়াংচুক
শেষ আপডেট: 26 September 2025 16:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাদাখে (Ladakh) চলা অশান্তির আবহে গ্রেফতার (Arrest) হলেন আন্দোলনের অন্যতম মুখ সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। প্ররোচনামূলক মন্তব্য করে প্রতিবাদীদের উস্কানি দেওয়ার অভিযোগেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাত্র একদিন আগেই ওয়াংচুক বলেছিলেন, এই আন্দোলনের জন্য গ্রেফতার হলেও তিনি খুশি হবেন!
সোনম ওয়াংচুককে সিনেপ্রেমীরা চেনে বাস্তবের ফুনশুক ওয়াংডু (Phunsukh Wangdu) হিসেবে। মনে করা হয়, বলিউডের ‘থ্রি ইডিয়টস’ (Three Idiots) ছবিতে আমির খানের চরিত্র আসলে তাঁরই গল্প। শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে অভিনব উদ্যোগের জন্য ২০১৮ সালে তিনি পেয়েছিলেন র্যামন ম্যাগসেসে (Ramon Magsaysay) পুরস্কার। কিন্তু সেই বহুপ্রশংসিত ব্যক্তিত্বই এখন নাকি লাদাখের (Ladakh Violence) রক্তক্ষয়ী অশান্তির কেন্দ্রবিন্দুতে। তাঁর বিরুদ্ধে বিরাট অভিযোগও তুলেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
তাঁর গ্রেফতারির ২৪ ঘণ্টা আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সোনম প্রতিষ্ঠিত অলাভজনক সংস্থা ‘স্টুডেন্টস এডুকেশনল অ্যান্ড কালচারাল মুভমেন্ট অফ লাদাখ’–এর (SECMOL) বিদেশি অনুদান গ্রহণের অনুমোদন (এফসিআরএ) বাতিল করে। কেন্দ্রের অভিযোগ, সংস্থাটি বিদেশি অর্থ ব্যবহার করেছে। যদিও ওয়াংচুক দাবি করেছেন, তাঁদের সংস্থা কোনও বিদেশি অনুদান নেয়নি, বরং জাতিসংঘ, সুইজারল্যান্ড ও ইতালির সংস্থার সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি করে কর শোধ করেছে।
সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমে তিনি এও বলেন, “এটি সরকারের ভুল বোঝাবুঝি। বাণিজ্যিক লেনদেনকে বিদেশি অনুদান ভেবে নেওয়া হয়েছে। আমি এটিকে অন্যায় বলেই মনে করি না।” এখন তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মূলত কোন অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি গ্রেফতার হলেন আর তাঁর বিরুদ্ধে আরও কোনও অভিযোগ আনা হয় কিনা, সেটাই এখন দেখার।
গত মঙ্গলবার লাদাখে হিংসার ঘটনায় চার জনের মৃত্যু হয়, আহত হন ৫০ জনের বেশি, যার মধ্যে নিরাপত্তাকর্মীরাও ছিলেন। এই ঘটনার সূত্র ধরেই ওয়াংচুকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ শুরু হয়। কেন্দ্রের বক্তব্য, অশান্তির দিন তিনি অনশন ভেঙে অ্যাম্বুল্যান্সে গ্রামে ফিরে যান, কিন্তু ভিড় নিয়ন্ত্রণে কোনও ভূমিকা নেননি।
২০১৯ সালে জম্মু–কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষণা করা হয়েছিল। তখন অনেকেই তা স্বাগত জানিয়েছিলেন। কিন্তু ধীরে ধীরে লাদাখবাসীর রাজ্যত্বের দাবি জোরালো হয়েছে। ওয়াংচুক শুধু রাজ্যত্বই নয়, লাদাখকে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় এনে স্বশাসনের দাবিও তুলেছেন।