নাতানজ নিউক্লিয়ার ফেসিলিটি ইরানের প্রধান পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র। যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেও এই কেন্দ্র আঘাতের মুখে পড়েছিল, এবং স্যাটেলাইট চিত্রে একাধিক ভবনের ক্ষতির ছবি সামনে এসেছিল। সেই সময় আন্তর্জাতিক পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থা জানিয়েছিল, ওই হামলার ফলে কোনও বড় তেজস্ক্রিয় বিপর্যয়ের আশঙ্কা নেই।

নাতানজ নিউক্লিয়ার ফেসিলিটি
শেষ আপডেট: 21 March 2026 15:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরব দুনিয়ায় সংঘাত চতুর্থ সপ্তাহে পা রাখতেই ফের হামলার কবলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু কেন্দ্র নাতানজ (Natanz nuclear facility strike Iran)। ইরানের সরকারি সংবাদসংস্থা Mizan News Agency জানিয়েছে, শনিবার একটি বিমান হামলায় এই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে আপাতত স্বস্তির খবর এটাই, এই হামলার জেরে কোনও রেডিয়েশন লিক বা তেজস্ক্রিয়তার বিকিরণ ছড়ায়নি।
নাতানজ নিউক্লিয়ার ফেসিলিটি (Natanz Nuclear Facility) ইরানের প্রধান পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র। যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেও এই কেন্দ্র আঘাতের মুখে পড়েছিল, এবং স্যাটেলাইট চিত্রে একাধিক ভবনের ক্ষতির ছবি সামনে এসেছিল। সেই সময় আন্তর্জাতিক পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থা (International Atomic Energy Agency) জানিয়েছিল, ওই হামলার ফলে কোনও বড় তেজস্ক্রিয় বিপর্যয়ের আশঙ্কা নেই।
প্রায় ২২০ কিলোমিটার দূরে, তেহরানের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই কেন্দ্র অতীতেও হামলার লক্ষ্য হয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে ইরান-ইজরায়েল সংঘর্ষের সময় এবং পরে আমেরিকার তরফেও এখানে আঘাত হানা হয়েছিল।
এর কিছুদিন আগেই ইরানের বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা না করার জন্য আমেরিকা ও ইজরায়েলকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছিল রাশিয়া। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম (Rosatom)-এর প্রধান অ্যালেক্সেই লিখাচেভ জানান, পারমাণবিক কেন্দ্রে কোনও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে সংঘাতে জড়িত কোনও দেশই তার বিকিরণ থেকে রেহাই পাবে না। তাঁর কথায়, “গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটলে বিকিরণের প্রভাব থেকে কোনও পক্ষই বাঁচতে পারবে না। এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে তার প্রভাব অন্তত আঞ্চলিক স্তরে পড়বে এবং আরব দুনিয়ার বহু দেশ তার প্রভাব অনুভব করবে।”
এই হামলা এমন এক সময়ে হল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে যুদ্ধ কমানোর ইঙ্গিত দিচ্ছেন, অন্যদিকে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছেন। শুক্রবার তিনি জানান, আরব দুনিয়ায় সামরিক অভিযান “ধীরে ধীরে গুটিয়ে আনার” কথা ভাবা হচ্ছে। কিন্তু একইসঙ্গে আমেরিকা আরও তিনটি অ্যামফিবিয়াস অ্যাসল্ট জাহাজ এবং প্রায় ২,৫০০ মেরিন সেনা পাঠাচ্ছে ওই অঞ্চলে।
অবশ্য তার কিছু পরেই যুদ্ধবিরতিতে রাজি না হওয়ার কথা প্রকাশ্যে আনেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। পাল্টা মন্তব্যে চাপ বাড়ানোর কৌশলেই অনড় ট্রাম্পও।
বর্তমানে আরব দুনিয়ায় ৫০ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। সম্প্রতি প্রশান্ত মহাসাগর থেকেও আরও সেনা সরিয়ে আনা হয়েছে। যদিও ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে স্থল সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা নেই, তবে “সব বিকল্পই খোলা” রয়েছে।
হুমকি, হামলা, আর বাড়ছে উত্তেজনা
ইরানের তরফে হুঁশিয়ারি এসেছে দেশটির শীর্ষ সামরিক মুখপাত্র জেনারেল আবোলফজল শেখরচি বলেছেন, শত্রুদের জন্য বিশ্বজুড়ে পার্ক, পর্যটনকেন্দ্র বা বিনোদনস্থলও নিরাপদ থাকবে না। এই হুমকি ইঙ্গিত দিচ্ছে, প্রয়োজন হলে আরব দুনিয়ার বাইরেও হামলার কৌশল নিতে পারে তেহরান।
এদিকে, যুদ্ধের ২২ দিন পার হলেও পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। ইজরায়েলের দাবি, শনিবার ভোরেও ইরান তাদের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের পূর্বাঞ্চলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ২০টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে, যে অঞ্চল দেশের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনার কেন্দ্র।
নওরোজে ছায়া যুদ্ধের
এই সংঘাতের ছায়া পড়েছে সাধারণ জীবনেও। পারস্য নববর্ষ নওরোজের উৎসবের মধ্যেই তেহরানে হামলা হয়েছে। সাধারণত আনন্দ-উৎসবের এই সময় এবার যুদ্ধের কারণে অনেকটাই নিস্তেজ।
সব মিলিয়ে, এই যুদ্ধের কোনও শেষ এখনও দেখা যাচ্ছে না। আমেরিকা ও ইজরায়েলের লক্ষ্য, ইরানের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করা, তা কতটা সফল হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়ে গেছে।
অন্যদিকে, ইরানের পাল্টা হামলা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বাধা তৈরি করছে, যার প্রভাব পড়ছে খাদ্য ও জ্বালানির দামে - আরব দুনিয়ার গণ্ডি ছাড়িয়ে গোটা বিশ্বেই। পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা এখনই বলা কঠিন, তবে অস্থিরতা যে আরও বাড়বে, সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট।