রাষ্ট্রপুঞ্জের পরমাণু নজরদারি সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি’ (IAEA) উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, নাতান্জ পরমাণু কেন্দ্রের প্রবেশপথের বেশ কিছু ভবন প্রবলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কোনও তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ছড়ায়নি বলে আশ্বস্ত করেছে সংস্থাটি
শেষ আপডেট: 3 March 2026 18:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার ‘অপারেশন’ ও ইজরায়েলের (Israel) মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে ইরান (Iran US War)। যুদ্ধের অভিঘাতে এ বার ক্ষতিগ্রস্ত হল ইরানের অন্যতম প্রধান পরমাণু কেন্দ্র নাতান্জ (Natanz)। রাষ্ট্রপুঞ্জের পরমাণু নজরদারি সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি’ (IAEA) উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, নাতান্জ পরমাণু কেন্দ্রের প্রবেশপথের বেশ কিছু ভবন প্রবলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে মূল ভূগর্ভস্থ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রটি এখনও সুরক্ষিত এবং সেখান থেকে কোনও তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ছড়ায়নি বলে আশ্বস্ত করেছে সংস্থাটি।
গত রবিবারের আক্রমণ থেকে এখনও পর্যন্ত ইরানে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮৭। নিহতের তালিকায় স্বয়ং ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-সহ একাধিক প্রথম সারির সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রয়েছেন বলে খবর।
ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র থেকে শুরু করে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ— কিছুই বাদ যায়নি আমেরিকা ও ইজরায়েলের নিশানায়। আরব আমিরশাহি, কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এমনকি দুবাই বিমানবন্দর ও বুর্জ খলিফাও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
সোমবার একটি বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়া ও আমেরিকার নিরাপত্তার স্বার্থেই ইরানকে পরমাণু শক্তি হওয়া থেকে আটকাতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রয়োজন হলে আরও ৪-৫ সপ্তাহ এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া হবে এবং আগামী দিনে আক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়বে।
বিস্ফোরণের শব্দে গত কয়েক দিন ধরেই কাঁপছে তেহরান। গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের ক্ষত না শুকাতেই এই নতুন দফার হামলায় ইরানের পরিস্থিতি এখন খাদের কিনারায়। সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর ঘটনায় ইরান একে ‘আগ্রাসন’ হিসেবে দেগে দিয়ে বড় ধরনের বদলার হুমকি দিয়েছে। সব মিলিয়ে আরব দুনিয়ায় এখন ঘোর যুদ্ধের মেঘ, যার আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে গালফ দেশগুলিতেও।