এই রাডারের লক্ষ্য অনুসরণ ক্ষমতা ছিল প্রায় ৫ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত। আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এমন দূরপাল্লার সতর্কীকরণ রাডার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ - শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত, ট্র্যাক এবং প্রতিহত করার ক্ষেত্রে এগুলি মূল ভূমিকা নেয়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 3 March 2026 17:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের ইরান (US-Israel Iran Attack) আক্রমণ এখন বৃহত্তর সংঘাতে রূপ নিচ্ছে। প্রাণহানির পাশাপাশি ধ্বংস হয়েছে বহু বিলিয়ন ডলারের সামরিক পরিকাঠামো। ইরানের একাধিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থাপিত মার্কিন বৃহত্তম রাডার (US Radar In Gulf) ব্যবস্থা AN/FPS-132 ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।
তেহরান টাইমস-সহ বিভিন্ন সূত্র, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর জনসংযোগ দফতরের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, এই রাডারের লক্ষ্য অনুসরণ ক্ষমতা ছিল প্রায় ৫ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত। আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এমন দূরপাল্লার সতর্কীকরণ রাডার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ - শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত, ট্র্যাক এবং প্রতিহত করার ক্ষেত্রে এগুলি মূল ভূমিকা নেয়।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই রাডারটি কাতারের Al Udeid Air Base-এ স্থাপিত ছিল। ২০১৩ সালে প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে যুক্তরাষ্ট্র এটি বসায়। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নজরদারির জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত এই ব্যবস্থাটি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র গতিবিধির উপর কড়া নজর রাখত বলেই জানা যায়।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC) দাবি করেছে, নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রাডারটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। কাতারের কিছু সূত্রও ক্ষতির কথা স্বীকার করেছে বলে খবর। যদি তা সত্যি হয়, তবে উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলিকে ঘিরে গড়ে ওঠা সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামোয় তা বড় ধাক্কা হতে পারে।
এই হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র ‘এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। সেই অভিযানে বিপুল সেনা ও আধুনিক অস্ত্র মোতায়েন করা হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) এবং ইরানি নেতৃত্ব উভয়েই ইঙ্গিত দিয়েছেন, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
মার্কিন বাহিনীর শক্তি প্রদর্শনের তালিকায় ছিল বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমান—প্রতিটির মূল্য এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। এছাড়া মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড ইউনাইটেড স্টেটস সেন্ট্রাল কমান্ড (United States Central Command বা CENTCOM) জানায়, একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন ‘লুকাস’ ব্যবহার করা হয়েছে, যা ইরানের তৈরি শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের আদলে নির্মিত বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি।
ইরানের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় মার্কিন বাহিনী প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও সক্রিয় করেছে। পাশাপাশি বিমানবাহী রণতরী ও গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্রবাহী যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে।
আরব দুনিয়ায় এই সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে - এটি আর সীমিত সামরিক মোকাবিলা নয়, বরং কৌশলগত আধিপত্যের লড়াই।