নাসার এই অভিযানে থাকবেন চারজন মহাকাশচারী। আমেরিকার রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কোচের সঙ্গে রয়েছেন কানাডার জেরেমি হ্যানসেন।

নাসার চন্দ্রযাত্রা
শেষ আপডেট: 21 February 2026 17:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় পরে চাঁদের কক্ষপথে মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি (NASA Moon Mission) আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল নাসা (NASA)। সংস্থার এক্সপ্লোরেশন সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট প্রধান লরি গ্লেজ জানিয়েছেন, 'এতদিনের পরিকল্পনা বাস্তব হতে চলেছে, একইভাবে প্রচণ্ড সমান উত্তেজিত। আমরা অধীর আগ্রহে আসল সময়টার অপেক্ষা করছি।- কারণ সামনেই একটা বড় মিশন।'
আগামী ৬ মার্চ চাঁদের উদ্দেশে পাড়ি দেবেন নাসার (National Aeronautics and Space Administration) চার মহাকাশচারী। চারদিন সফর শেষে পৌঁছবেন গন্তব্যের কাছে। মূলত যে অংশটি পৃথিবী থেকে দেখা যায় না, তার হাজার হাজার কিলোমিটার উচ্চতায় প্রদক্ষিণ করবে মহাকাশযান। এটি হতে চলেছে NASA-র আর্টমিস ২ ('Artemis II') মিশনের প্রথম অভিযান (NASA Artemis launch)।
১৯৭২ সালে অ্যাপেলো ১৭ ছিল চাঁদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করা মহাকাশচারীদের শেষ সফর। 'আর্টেমিস টু' মিশনটি মানুষদের নিয়ে চাঁদের ফ্লাইবাই টেস্ট ফ্লাইট। এই অভিযানে মহাকাশচারীরা চাঁদে অবতরণ করবেন না, তবে এর চারপাশে ঘুরে দশদিন পর পৃথিবীতে ফিরে আসবে।
নাসার এই অভিযানে থাকবেন চারজন মহাকাশচারী। আমেরিকার রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কোচের সঙ্গে রয়েছেন কানাডার জেরেমি হ্যানসেন। মহাকাশচারীরা প্রথমে পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর গবেষণা ও পরীক্ষা করবেন। চারদিন পর চাঁদের কাছে পৌঁছে প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ চালাবেন। এর জন্য অবশ্য কয়েক ঘণ্টাই বরাদ্দ করা থাকবে।
Artemis–II কী?
একটি ক্রুড লুনার ফ্লাইবাই মিশন, যেখানে চাঁদে না নেমে চারজন মহাকাশচারী চাঁদের চারদিকে ঘুরে দশ দিনে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।
এটাই হবে ওরায়ন স্পেসক্রাফট (Orion spacecraft) ও এসএলএস রকেটে (SLS Rocket) মানুষের প্রথম যাত্রা। ৩২২ ফুট উচ্চতার রকেটের ওপর অবস্থান করা ওরায়ন ক্যাপসুলে বসে তাঁরা প্রথম দিন পৃথিবীর কক্ষে ঘুরবেন। সব সিস্টেম ঠিকঠাক কাজ করলে তাঁরা চাঁদের দিকে যাত্রা শুরু করবেন।
চাঁদে (Moon) পৌঁছাতে সময় লাগবে প্রায় চার দিন। মহাকাশচারীরা চাঁদের দূর প্রান্ত- যা পৃথিবী থেকে কখনও দেখা যায় না, তার চারপাশে ভ্রমণ করবেন। সেখানে তাঁরা চাঁদ থেকে সাড়ে ৬ হাজার- সাড়ে ন'হাজার কিমি দূরত্বে অবস্থান করে পর্যবেক্ষণ ও ছবি তুলবেন। এরপর আরও চার দিনের যাত্রা শেষে তাঁরা প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবেন।
এই মিশনেই মানুষের ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো ১৭-র পর প্রথমবার লো-আর্থ অরবিট ছাড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। আর অ্যাপোলো ১৩-র পর প্রথম ক্রুড লুনার ফ্লাই বাই (crewed lunar flyby)।
আর্টেমিস সিরিজ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
এই মিশনের ল্যান্ডার বানানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইলন মাস্কের SpaceX–কে। কিন্তু স্টারশিপ রকেট তৈরিতে দেরির কারণে নাসা তাদের নতুন পরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি জেফ বেজোসের Blue Origin–কেও দ্রুততর লুনার ল্যান্ডার পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে।
এদিকে, চিনও (China) ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ নামানোর লক্ষ্য ঘোষণা করায় আমেরিকার ওপর চাপ আরও বেড়েছে।