নাসা জানাচ্ছে, এই প্রযুক্তি শুধু মহাকাশ ভ্রমণেই নয়, পৃথিবীতেও ক্যানসারের নতুন চিকিৎসা, রেডিয়েশন থেরাপি বা ব্যক্তিগত ওষুধ তৈরির পথে বিপ্লব আনতে পারে।

অর্গান-অন-এ-চিপ ডিভাইস
শেষ আপডেট: 27 September 2025 19:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাঁদে যাচ্ছে মানুষের কোষ (Human cell)! নাসা (NASA) এবার এমন এক অভিনব গবেষণার (new research) সূচনা করতে চলেছে, যা ভবিষ্যতের মহাকাশ ভ্রমণে (space travel) স্বাস্থ্য সুরক্ষার রূপরেখা বদলে দিতে পারে। ‘অ্যাভাটার ইনভেস্টিগেশন' (Avatar Investigation) নামে এই প্রকল্পে আর্টেমিস-২ (Artemis II) অভিযানে থাকা নভোচারীদের দেহকোষ বসানো হয়েছে অতি সূক্ষ্ম অর্গান-অন-এ-চিপ ডিভাইসে (Organ on a chip device)। এই চিপগুলো থাকবে ওরিয়ন (Orion) মহাকাশযানে, যা প্রায় ১০ দিন ধরে চাঁদের কক্ষপথে ঘুরবে।
কী এই অর্গান-চিপ?
আঙুলের আকারের মতো ছোট এই ডিভাইসে সাজানো থাকে মানুষের কোষ, যা ফুসফুস, লিভার, মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড কিংবা অস্থিমজ্জার কাজ অনুকরণ করতে পারে। এর মাধ্যমে বোঝা যাবে, মহাকাশের রেডিয়েশন আর মাইক্রোগ্রাভিটি মানুষের শরীরে কী প্রভাব ফেলে। পৃথিবীতে ইতিমধ্যেই ওষুধের প্রতিক্রিয়া বোঝার জন্য এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
শুরুতে নাসা বেছে নিয়েছে অস্থিমজ্জা কোষ - যা রক্তকণিকা ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার মূল উৎস। মহাকাশের রেডিয়েশনে এই কোষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় । মাধ্যাকর্ষণহীন পরিবেশ অস্থি ও রক্তগঠনের প্রক্রিয়াকে পাল্টে দেয়, যা অক্সিজেন পরিবহন ও রোগপ্রতিরোধে গুরুতর সমস্যা তৈরি করতে পারে।
কেন জরুরি এই পরীক্ষা?
পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র মানুষকে রক্ষা করে মহাজাগতিক রশ্মি থেকে। কিন্তু চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছালে নভোচারীদের সম্মুখীন হতে হয় ভয়ঙ্কর বিকিরণের। অ্যাভাটার চিপ দেখাবে, ওই বিকিরণে আসলেই কীভাবে কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এভাবে প্রতিটি নভোচারীর জন্য আলাদা চিকিৎসা কৌশল ও জরুরি ওষুধের পরিকল্পনা তৈরি করা যাবে।
কীভাবে চলবে পরীক্ষা?
স্পেস ট্যাঙ্গো নামের সংস্থা তৈরি করেছে স্বয়ংক্রিয় বাক্স, যেখানে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে কোষের খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। ওরিয়ন থেকে ফিরে আসার পর বিজ্ঞানীরা কোষ বিশ্লেষণ করবেন সিঙ্গল-সেল আরএনএ সিকোয়েন্সিং-এর মাধ্যমে, যা হাজারো জিনের কার্যকলাপ আলাদাভাবে মাপতে পারে।
নাসা জানাচ্ছে, এই প্রযুক্তি শুধু মহাকাশ ভ্রমণেই নয়, পৃথিবীতেও ক্যানসারের নতুন চিকিৎসা, রেডিয়েশন থেরাপি বা ব্যক্তিগত ওষুধ তৈরির পথে বিপ্লব আনতে পারে। আগামী দিনে শুধু অস্থিমজ্জা নয়, ফুসফুস, হৃদ্যন্ত্র, লিভার - সব ধরনের কোষ নিয়ে মহাকাশে যাবে এই চিপ। আর দীর্ঘ সময় ধরে চলা পরীক্ষায় বোঝা যাবে মঙ্গলের মতো বহুমাসব্যাপী যাত্রায় মানুষের শরীর কীভাবে মানিয়ে নেয়।
নাসার মতে, এই গবেষণা এক কথায় মহাকাশে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার নতুন অধ্যায় খুলে দেবে।