নতুন নেতাকে সামনে না দেখা গেলেও তাঁর প্রতি আনুগত্য প্রকাশের দৃশ্য সামনে আসছে। রাজধানী তেহরানের ভ্যালিয়াসর স্কোয়ারে একটি বিশাল দেওয়ালচিত্র তৈরি হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে প্রয়াত নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই তাঁর হাতে পতাকা তুলে দিচ্ছেন।

মোজতবা খামেনেই
শেষ আপডেট: 11 March 2026 11:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানে নতুন সর্বোচ্চ নেতার (Iran Supreme Leader) দায়িত্ব নেওয়ার চার দিন কেটে গেলেও প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না মোজতবা খামেনেইকে (Mojtaba Khamenei)। তাঁর অবস্থান, শারীরিক অবস্থা কিংবা ক্ষমতায় বসার পরিস্থিতি - সবকিছু নিয়েই তৈরি হয়েছে গভীর রহস্য। এখনও পর্যন্ত তিনি কোনও জনসমাবেশে উপস্থিত হননি, এমনকি জাতির উদ্দেশে ভিডিও বার্তাও দেননি। লিখিত বিবৃতিও প্রকাশ করেনি তাঁর দফতর। ফলে সরকারি মাধ্যমে পুরনো চিত্র ব্যবহার করেই তাঁকে সামনে আনতে হচ্ছে।
ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের কয়েকটি প্রতিবেদনে ইঙ্গিত মিলেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের হামলায় (US-Israel Iran Conflict) তিনি আহত হয়ে থাকতে পারেন। চলমান সংঘর্ষকে ইরানের শাসকগোষ্ঠী ‘রমজান যুদ্ধ’ নামে উল্লেখ করছে। সেই প্রসঙ্গেই সরকারি সম্প্রচারে মোজতবা খামেনেইকে (Mojtaba Khamenei) ‘রমজান যুদ্ধের আহত যোদ্ধা’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁর আঘাতের প্রকৃতি বা পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এই অস্পষ্টতাই তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এদিকে নতুন নেতাকে সামনে না দেখা গেলেও তাঁর প্রতি আনুগত্য প্রকাশের দৃশ্য সামনে আসছে। রাজধানী তেহরানের ভ্যালিয়াসর স্কোয়ারে একটি বিশাল দেওয়ালচিত্র তৈরি হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে প্রয়াত নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই (Ayatolla Ali Khamenei) তাঁর হাতে পতাকা তুলে দিচ্ছেন। সেই দৃশ্যের উপর নজর রাখছেন ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা রুহোল্লাহ খোমেইনি। বিশ্লেষকদের মতে, এই চিত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরকে স্বাভাবিক ও ধারাবাহিক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে শাসকগোষ্ঠী।
তবে সমালোচকদের মতে, বিপ্লবের মাধ্যমে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে যে রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল, সেখানে পিতা থেকে পুত্রের হাতে ক্ষমতা যাওয়ার এই ঘটনাই প্রশ্ন তুলছে।
এদিকে তেহরানে এক সমাবেশে বহু মানুষ নতুন নেতার প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেছেন। জানা গেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন যে ইরানের নতুন নেতাকে তাঁর অনুমোদনেই নির্বাচন করা উচিত। সেই মন্তব্যের প্রতিবাদেই এই সমাবেশ সংগঠিত হয় বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। এক প্রতিবাদী জানান, ইরানের নেতা ইরানের মানুষই বেছে নেয় - এই বার্তাই দিতে চান তাঁরা।
নতুন নেতার নিরাপত্তা নিয়েও জল্পনা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তাঁর সুরক্ষায় বিশেষ সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
মোজতবা খামেনেই দীর্ঘদিন জনসমক্ষে খুব কমই এসেছেন। তবে ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং অর্থনৈতিক শক্তির কেন্দ্রগুলিতে ধীরে ধীরে নিজের প্রভাব গড়ে তুলেছিলেন বলে মনে করা হয়। এখন ক্ষমতার শীর্ষে উঠে তিনি এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিচ্ছেন, যখন দেশটি সামরিক সংঘাত ও অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ - দুই চাপের মধ্যেই রয়েছে।