ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইকে (Iran Supreme Leader Mojtaba Khamenei) সরাসরি আক্রমণ করে ট্রাম্প বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে তেলের পরিবহণ কেউ বন্ধ করার চেষ্টা করলে, আগের তুলনায় ২০ গুণ শক্তিশালী হামলা চালাবে আমেরিকা।

ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি ইরানের (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 11 March 2026 08:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) বন্ধ, এই পরিস্থিতিতে আরবদুনিয়ার সংঘাত (Middle East Tension) যেন আরও তীব্র হয়ে উঠছে। আমেরিকার তরফে একের পর এক হুঁশিয়ারি-আঘাত দেওয়া হচ্ছে। জবাব দিচ্ছে ইরানও (Iran War)। এই সংঘাতের সময়েই ওই দেশের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেইকে (Supreme Leader Mojtaba Khamenei) নিয়ে ট্রাম্প বলেন, 'ওঁ শান্তিতে বাঁচতে পারবে না।' এর প্রত্যুত্তরে পাল্টা হুঁশিয়ারি ইরান প্রশাসনের।
ইরানের সিকিউরিটি চিফ আলি লারিজানি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ করে বলেছেন, 'আপনার থেকে বড় বড়রাও ইরানের কিছু করতে পারেনি। আপনি নিজের কথা ভাবুন। হতে পারে আপনিই নির্মূল হয়ে গেলেন।' এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট শত চাপেও পিছু হটছে না ইরান।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইকে (Iran Supreme Leader Mojtaba Khamenei) সরাসরি আক্রমণ করে ট্রাম্প বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে তেলের পরিবহণ কেউ বন্ধ করার চেষ্টা করলে, আগের তুলনায় ২০ গুণ শক্তিশালী হামলা চালাবে আমেরিকা। তাঁর দাবি, "সেই আঘাতের পর ইসলামিক রিপাবলিক আর কোনওদিন উঠে দাঁড়াতে পারবে না।”
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল Truth Social–এ ট্রাম্প আরও লেখেন, “মৃত্যু, আগুন আর ক্রোধ ঝরে পড়বে তাদের ওপর। তবে আমি চাই যেন ঘটনা এত দূর না যায়।” ইরানের নতুন নেতা মোজতবা খামেনেইকেও তিনি হুমকি দিয়ে বলেছেন, “তিনি শান্তিতে থাকতে পারবেন না।” ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট জানান যে ইরানের নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে তিনি 'খুশি' নন।
১২ দিনেও থামেনি যুদ্ধ: ফের আঘাত তেহরানে, নিহত অন্তত ৪০
ইরান ও আমেরিকা-ইজরায়েলের সংঘাত (Iran Israel US War) ১২ দিনেও থামার চিহ্ন নেই। ইরানের রাজধানী তেহরানে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা লক্ষ্য করে আবারও হামলা করেছে ইজরায়েল। মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৪০ জনের।
হামলা: দু’দেশের যৌথ আঘাত বলে দাবি করা হচ্ছে
ইতোমধ্যেই ইরান-আমেরিকার সংঘাত (Iran US War) অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ছে। ইরান প্রতিবেশী দেশ কুয়েতে (Kuwait) হাইব্রিড ড্রোন দিয়ে আঘাত হেনেছে। লক্ষ্য ছিল আল-আদিরীর আমেরিকান সামরিক ঘাঁটি। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ বিবরণ এখনও প্রকাশ হয়নি।
এদিকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প এও বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ হবে। তবে একই সঙ্গে তিনি আবারও ইরানকে সতর্ক করেছেন যে কোনওভাবেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ইরানের ৫১টি জাহাজ ধ্বংস করেছে আমেরিকা, ইরানের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী কার্যত ভেঙে পড়েছে, আমেরিকার ওপর ইরানের যে হামলার পরিকল্পনা ছিল, তা বানচাল করে দেওয়া হয়েছে, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে ইরানের হামলার প্রভাবও তারা নিজেদের হাতে অনুভব করছে।
অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, 'যুদ্ধের শেষ কখন হবে, তা আমরাই ঠিক করব। আরবদুনিয়ার (Middle East Tension) ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ এখন আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে।'