৩৪ বছর বয়সে ইতিহাস গড়েছেন জোহরান মমদানি। তিনি নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেয়র, আর গত এক শতাব্দীতে সবচেয়ে কনিষ্ঠ।

মেয়র মামদানির 'পাওয়ার লাঞ্চ'
শেষ আপডেট: 6 November 2025 16:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিউইয়র্ক সিটির নতুন মেয়র হিসেবে জোহরান মমদানির (Zohran Mamdani) প্রথম দিনটা প্রচণ্ড ব্যস্ততাতেই কেটেছে। সকাল থেকে একের পর এক সাক্ষাৎকার, বৈঠক আরও কত কী। এই ব্যস্ততার মাঝেও তিনি খানিকটা সময় বের করে নেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কোর্তেজের (Alexandria Ocasio-Cortez) সঙ্গে লাঞ্চের জন্য, যিনি মামদানির মতোই প্রগতিশীল এবং সাধারণ মানুষের পক্ষের নেতা।
নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের নেপালি রেস্তরাঁ 'লালিগুরাস বিস্ত্রো'-তে লাঞ্চ সারেন দু'জনে। সেখানে মোমো, আলুর দম আর চিলি চিকেন খেতে খেতে তাঁরা বেশ কিছু আলোচনা করেন। যার মধ্যে ছিল, ডেমোক্র্যাটিক পার্টিতে তরুণদের নেতৃত্ব বাড়ানো দরকার এবং সাধারণ মানুষের জন্য আরও সহায়ক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি আনার বিষয়।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে মামদানি লিখেছেন, 'মেয়র (New York Mayor 2025) হিসেবে আমার প্রথম দিনটা ছিল ভীষণ ব্যস্ত- সকালে সাক্ষাৎকার, বৈঠক আর একের পর এক ঘোষণা। কিন্তু দিনটির সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত ছিল কংগ্রেস ওম্যান AOC-র সঙ্গে লাঞ্চ।'
অন্যদিকে ওকাসিও-কোর্তেজ এক্সে লিখেছেন, 'নিউইয়র্কের নতুন মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে মোমো খেতে পেরে ভালো লেগেছে। আমাদের লক্ষ্য একটাই- নিউইয়র্ককে এমন শহর বানানো, যেখানে কর্মজীবী পরিবাররা নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারে।'
৩৪ বছর বয়সে ইতিহাস গড়েছেন জোহরান মমদানি। তিনি নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেয়র, আর গত এক শতাব্দীতে সবচেয়ে কনিষ্ঠ। তাঁর এই জয় প্রমাণ করেছে, আমেরিকার সবচেয়ে বড় শহরে এখন নতুন প্রজন্মের উত্থান ঘটছে, যারা বাড়তি খরচ, ভাড়া আর জীবনের চাপে ক্লান্ত হয়ে পরিবর্তনের আশা করছে।
মামদানি স্পষ্ট করেছেন, তিনি তাঁর জনগণের সমর্থন নিয়ে বড় পরিবর্তন আনতে চান। তাঁর পরিকল্পনায় রয়েছে, বিনামূল্যে বাস পরিষেবা চালু করা এবং প্রতিটি এলাকায় সরকারি মুদির দোকান খোলা, যাতে সাধারণ মানুষের জীবন আরও সহজ হয়।
মঙ্গলবার ভোটপর্ব শুরু হওয়ার কয়েকঘণ্টা আগেই ট্রাম্প কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, 'ডেমোক্রেট প্রার্থী জোহরান মামদানি (Zohran Mamdani) বিজয়ী হলে তিনি নিউ ইয়র্ক শহরকে ফেডারেল সরকারের তহবিল থেকে বাড়তি অর্থ সহায়তা করা বন্ধ করে দেবেন।' এর জবাবে মামদানি জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি শহরের তহবিল বন্ধ করার বা সেনা পাঠানোর চেষ্টা করেন, তবে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হবেন। যদিও ট্রাম্প নির্বাচনের পর সুর নরম করেই বলেছেন, "নিউইয়র্কের মঙ্গল হোক।"