গুরুতর শারীরিক ক্ষত থাকা সত্ত্বেও, মোজতবা মানসিকভাবে পুরোপুরি সজাগ- এমনটাই দাবি ওই সূত্রগুলির। তাঁকে নিয়মিত অডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে।

মৃত্যুশয্যায় মোজতবা খামেনেই!
শেষ আপডেট: 11 April 2026 18:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত মার্চ মাসে খামেনেই পুত্র মোজতবা খামেনেইকে (Mojtaba Khamenei) ইরানের সুপ্রিম লিডার (Iran Supreme Leader) ঘোষণা করা হয়। এরপর কেটে গেছে এক মাস। অডিও বার্তায় (Audio) বার্তা দিলেও প্রকাশ্যে তাঁকে এখনও দেখা যায়নি। এরমধ্যেই তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে একাধিক জল্পনা-গুঞ্জন সামনে এসেছে। যুদ্ধের শুরুতে যে ভয়াবহ হামলায় তাঁর বাবা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হন, সেই একই আঘাত থেকে মোজতবা এখনও পুরোপুরি সেরে উঠতে পারেননি, এমনটাই দাবি একাধিক আন্তর্জাতিক সূত্রের। প্রকাশ্যে অনুপস্থিতি, কোনও ছবি বা ভিডিও না প্রকাশ পাওয়া এবং প্রশাসনিক কাজ অডিওর মাধ্যমে চালানোর খবর, সব মিলিয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থা সমগ্র ইরানের (Iran) শাসনভার নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।
রয়টার্সকে মোজতবার (Mojtaba Khamenei) ঘনিষ্ঠ তিনটি সূত্র জানায়, তেহরানের কেন্দ্রে সর্বোচ্চ নেতার বাসভবনে ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় তাঁর মুখে গুরুতর চোট লাগে এবং দুই পায়েই মারাত্মক চোট লেগেছে। আঘাতে তাঁর মুখ বিকৃত হয়ে গেছে বলেও সূত্রের দাবি। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র আরও জানিয়েছে, হয়তো তাঁর একটি পা কেটে বাদ দিতে হয়েছে, যদিও এই দাবি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সিআইএ বা ইজরায়েলের (Israel) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
তবে গুরুতর শারীরিক ক্ষত থাকা সত্ত্বেও, মোজতবা মানসিকভাবে পুরোপুরি সজাগ- এমনটাই দাবি ওই সূত্রগুলির। তাঁকে নিয়মিত অডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি, ইসলামাবাদের শান্তি আলোচনা-সহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন বলে জানা গিয়েছে।
আশ্চর্যের বিষয়, ৮ মার্চ নতুন সুপ্রিম লিডার (Iran Supreme Leader) হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার পর থেকে মোজতবার কোনও ছবি, ভিডিও বা অডিও রেকর্ডিং প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর সুস্থতা বা অবস্থান সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলেও ইরানের জাতিসঙ্ঘ মিশন বা তেহরান কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে সরকারি চ্যানেলের এক সংবাদপাঠক তাঁকে ‘জানবাজ’ বলে উল্লেখ করেছেন, যা সাধারণত যুদ্ধে গুরুতর আহতদের বোঝাতে ব্যবহার করা হয়।
অন্যদিকে, কিছু মার্কিন ও ইজরায়েলি গোয়েন্দা মেমোতে দাবি করা হয়েছিল, মোজতবা কোম শহরের গোপন হাসপাতালে পক্ষাঘাতগ্রস্ত অবস্থায় মৃত্যুশয্যায় রয়েছেন, এমনকি তাঁর শেষকৃত্যের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। ইরান অবশ্য এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, এ সবই মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ।
ইরান-আমেরিকা শান্তি বৈঠক যখন ইসলামাবাদে শুরু হয়েছে, তখন দেশের নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মোজতবার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেও বাবার মতো দৃঢ় কর্তৃত্ব গড়ে তুলতে তাঁর আরও সময় লাগবে। বর্তমানে তাঁর ছবি প্রকাশ বা জনসমক্ষে আসা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে তাঁর সুস্থতার গতির ওপর, যা হতে পারে এক থেকে দু’মাস পর।