বিস্ফোরণের অভিঘাতে বাড়ির ছাদ ভেঙে পড়ে, যার ফলে উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। ধ্বংসস্তূপের নীচে বহু মানুষ আটকে পড়েন বলে জানিয়েছে প্রশাসন। উদ্ধারকর্মীদের তাঁদের কাছে পৌঁছতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 24 January 2026 08:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের (Pakistan) অশান্ত খাইবার পাখতুনখোয়া (Khyber Pakhtunkhwa) প্রদেশে বিয়ের আনন্দ মুহূর্তের মধ্যে পরিণত হল বিভীষিকায়। শুক্রবার ডেরা ইসমাইল খান জেলার একটি বিয়েবাড়িতে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে (Suicide Bombing) অন্তত সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে ২৫ জন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ ও প্রশাসন।
স্থানীয় পুলিশ সূত্রে খবর, ডেরা ইসমাইল খানের (Dera Ismail Khan) বাসিন্দা এবং সরকারপন্থী নেতা নূর আলম মেহসুদের বাড়িতেই ওই বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। অতিথিরা যখন নাচগানে মেতে উঠেছিলেন, ঠিক সেই সময় ভিড়ের মধ্যে ঢুকে এক আত্মঘাতী জঙ্গি বিস্ফোরণ ঘটায়। প্রচণ্ড শব্দে গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যে অনুষ্ঠানস্থলে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। চারদিকে ধ্বংসস্তূপ, রক্তের দাগ এবং ভাঙা আসবাব ছড়িয়ে পড়ে।
বিস্ফোরণের অভিঘাতে বাড়ির ছাদ ভেঙে পড়ে, যার ফলে উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। ধ্বংসস্তূপের নীচে বহু মানুষ আটকে পড়েন বলে জানিয়েছে প্রশাসন। উদ্ধারকর্মীদের তাঁদের কাছে পৌঁছতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে এক জন ‘গুড তালিব’ ছিলেন - পাকিস্তানে যে শব্দটি এমন প্রাক্তন জঙ্গিদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়, যাঁরা অস্ত্র ছেড়ে রাষ্ট্রের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। বাকি নিহতরা তাঁর পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে।
আহত ও মৃতদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, কয়েকজন আহতের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। ঘটনার পরই গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী। কোনও সহযোগী জঙ্গি ঘটনাস্থলের আশপাশে লুকিয়ে আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে শান্তি কমিটির এক নেতা ওয়াহিদুল্লাহ মেহসুদ, যিনি জিগরি মেহসুদ নামেও পরিচিত, তিনিও ছিলেন। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তা সত্ত্বেও সন্দেহের তির পাকিস্তানি তালিবান বা তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP)-এর দিকেই। অতীতে এই সংগঠন একাধিকবার খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে আত্মঘাতী ও সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতেই একই প্রদেশের বান্নু জেলায় শান্তি কমিটির চার সদস্যকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। তারও আগে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে খাইবার পাখতুনখোয়ায় শান্তি কমিটির একটি অফিসে হামলায় সাত জনের মৃত্যু হয়। বারবার এই ধরনের হামলায় ফের একবার প্রশ্ন উঠছে, অশান্ত এই প্রদেশে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটা সুনিশ্চিত।